একাডেমি চত্বরে রক্ত, গেটে খালেদ চৌধুরী, তাপস সেন - থিয়েটার জগৎ এ শোরগোল



অশোক ঘোষ
(নির্দেশক, থিয়েটার ওয়ার্কাস)

ভরদুপুর এ মুখোশ পরে হেলমেট লাগিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির বাইরে !গন্তব্য কলকাতা, দ্বিতীয় হুগলি সেতু তে প্রথম বাধা, মিথ্যে না বললে ছাড়বে না !পিজি যাবো.... নানান প্রশ্ন, সাটাসাট উত্তর !নিউ ইমার্জেন্সি তে আমার দাদা ভর্তি, এক্সিডেন্ট এইসব বলে টোলপ্লাজা পার হয়ে হুহু করে ছুটে চললাম, পি টি এস এ আবার আটকা... সেই একই মিথ্যে...ছাড়া পেয়ে ডানদিক ঘেঁষে পুরো পিজি,,  রপিছনের গেট  দিয়ে ঢুকে সামনের গেট দিয়ে সোজা একাডেমি..... দোকানগুলো বন্ধ, হরির চা দোকান টা খোলা !দূর থেকে দেখলাম একাডেমি র গেট হাট করে খোলা আছে, সুনসান !জনমানব শূন্য, গেটের কাছে বাইক রেখে এগোলাম, ভেতর থেকে সামনে এসে সেলাম ঠুকল একজন !জিজ্ঞাসা করলাম মাঙ্গে নেই? মাথায় নেপালি টুপি পরা বৃদ্ধ কোনো উত্তর না দিয়ে আমাকে হাতের ঈশারায় ভিতরে যেতে বললো.... এগোলাম... কিরকম একটা গা ছমছমে ভাব, হঠাৎ দেখি শার্ট প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক অফিস এর দিকে নিমেষে ঢুকে পড়লো, পুরোনো সেই ডিরেক্টর গুপ্ত বাবুর মতো কিছুটা !মুখটা পুরো দেখে উঠতে পারিনি !যাইহোক দুটো কাক তারস্বরে ডেকে চলেছে কা কা কা.... লক্ষ করলাম একাডেমির দরজা খোলা !পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম !অবচেতন ভাবে কখন যে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েছি..., গিয়ে একটা সিট্ দখল করলাম... একাডেমির নির্দিষ্ট সিট্ এ বসেছি !খাঁ খাঁ করছে !ভাবছি আজ আর নিশ্চয় কোনো শো নেই !তখুনি একটা গলা শুনতে পেলাম..... আরে এতো হুবহু আলোর ঘোষ দার গলা, সেতি ছিল.... মুখ বাড়িয়ে বললো কেন এসেছো... দেখছো না চতুর্দিকে সব মরছে.....? ঠিক কিন্তু... গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না !এমন সময় আবার সেই ঘোষ দার গলা....ম্যাডাম (লেডি )বারণ করেছেন ',,, আরে আপনি এখনো বেঁচে আছেন !তবে আপনার ছেলে বাবু দা...... !!!




গেটে হামিদ দা কে দেখলাম !ভারী অদ্ভুত তো!হামিদ দার ছেলে আলম তো.... আসলে এগুলো বলার আপ্রাণ চেষ্টা করেও বলতে পারছিনা !!!একলাফে মঞ্চে উঠে পড়লাম... একা একদম একা আমি !পাটাতনে হাত বুলোচ্ছিলাম, প্রণম্য নাট্য ব্যক্তিত্বদের যেন চরণ স্পর্শ করছি !সেন্টার স্টেজ এ দাঁড়িয়ে নাটকের ডায়লগ বলার চেষ্টা করছিলাম... কিছুতেই আওয়াজ বেরোচ্ছে না !মহা বিপদ, হোলো কী !এবার গা ছমছম করছে !সব মরা লোকগুলো এসে জুটছে.... !তাও যদি শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত একবার আসতেন..... নিদেন পক্ষে অজিতেশ অথবা কুমার বাবু স্যার...কিংবা দ্বিজেন দা......  শেষে হতাশ হয়ে হল থেকে বেরোতে খুব চেনা,  সামনে ভুঁড়িটা এগিয়ে আসা..... 'আরে তুমি এই আকালে, কাটো কেটে পড়ো, 'মনে মনে বললাম এতো তপন মারিকের গলা... মারিক দা আপনার মুখটা অস্পষ্ট কেন...? সেই এক অবস্থা বোল ফুটলোনা !কর্কশ গলায় কাকটা ডেকে উঠলো.....




পড়ুন নিচের লেখাটি ক্লিক করে

অগোস্ত বোআলের থিয়েটার, পর্ব - ১



 সূর্য ডুবে গেছে, অন্ধকার চারপাশটা, কোনো খানে আলো নেই...... গেটে হামিদ দাকেও দেখতে পেলাম না !হরির দোকানে গেলাম, কালো পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিয়েছে.... আরে এই তো দেখে গেলাম খোলা !জোরে হরি কে ডাকতে গেলাম... সেই এক হাল, গলা বন্ধ !হঠাৎ দেখিকাগজের কাপ ধ রা একটা হাত বেরিয়ে এল......আমি নিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে বিকৃত বিদ্ধস্ত একটা লোক এসে এমন ধাক্কা মারলো আমার হাত থেকে চা সমেত কাপটা পরে গেল মাটিতে, লোকটা নিমেষে উধাও !মাটিতে তাকিয়ে বুক টা কেঁপে উঠলো..... ওটা চা ছিল মাটিতে পরতে দেখি রক্ত !বাইকের কাছে যাচ্ছি হেঁটে.. যেখানেই পা দিচ্ছি সেখানেই দেখছি রক্ত... ও বাবা কাউন্টারের কাছে দেখি বাইক নেই.... ঘুট ঘুটে অন্ধকার..... স্পষ্ট দেখলাম তাপস সেন, খালেদ চৌধুরী,মনু দত্ত, শক্তি সেন, শ্রীপতি দাস, প্রশান্ত ভট্টাচাৰ্য  দাঁড়িয়ে আলোচনা করছেন এখনকার নাট্যের বিষয় নিয়ে........ কী আলোচনা সেটা না হয় নাই বললাম !খুঁজতে লাগলাম বাইক... তারস্বরে মাইকে ভেসে আসছিলো কেউ মুখোশ ছাড়া বেরোবেন না........ বাড়িতে থাকুন...... !

উঠে পড়লাম ঘুম থেকে, স্বপ্ন দেখছিলাম...... ব্রাশ নিলাম, পেস্ট বের করতে গিয়ে মনে পড়লো আরে আমি তো ভাত খেয়ে বাদল সরকারের এবং ইন্দ্রজিৎ পড়তে পড়তে........... !






Post a Comment

3 Comments

Unknown said…
একাডেমি চত্বরে রক্ত, খুব ভালো লাগলো।
CINEMAn said…
ধন্যবাদ, প্রকাশিত অন্য লেখাগুলিও পড়ার অনুরোধ রইল এবং মতামত জানাবেন ।
আমরা অপেক্ষায় রইলাম ।
অপূর্ব বুনট এ গল্পে,সত্যি হরিদার চা,ডিমের চপ,একাডেমি চত্ত্বর টা টানছে,এটা পড়ার পর আরও বেশী করে