ভারতবর্ষের পথনাটকের জনক পানু পাল, মার্কসীয় আদর্শে নিপীড়িত মানুষের কথা বলতেন



বেলঘরিয়ার প্রফুল্লনগরে থাকতেন পানু পাল, অর্থাৎ পূর্ণেন্দু পাল। তাঁর রচিত প্রথম পথনাটিকা "ভোটের ভেট" ১৯৫২ সালে নির্বাচনী নাটক হিসেবে অভিনয় হয়। পানু পাল নাট্য ইতিহাসের বাংলার পথনাটিকার জনক হিসাবে স্বীকৃত অনেকদিন । এই স্বীকৃতি উৎপল দত্তের কাছ থেকেও পাওয়া গেছে। তাঁর প্রথম নাটক "দখল"১৯৪৮ সালে অভিনীত হয়। প্রকৃতপক্ষে তাঁর "বিচার' একাঙ্ক এই নাটকটি তাঁকে নাট্যকার হিসাবে বেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সহায়তা করে। পঞ্চাশের দশকে তাঁর 'বিচার' নাটক গণনাট্য সংঘের সৃজনী শাখায় প্রায় শতাধিক রজনী অভিনয় করে। ১৯৫৮ সালে নিমতা উদয়পুরের সংগঠনী আয়োজিত চব্বিশ পরগনা একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতায় এই নাটকটি প্রথম স্থান অধিকার করে এবং পানু পাল শ্রেষ্ঠ নাট্যকার সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক "ভাঙা বন্দর"১৯৫০ সালে প্রশংসা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
এই নাটকে বহু প্রথিতযশা অভিনেতা অংশগ্রহণ করেন।

তাঁদের মধ্যে প্রয়াত উৎপল দত্ত, কালি ব্যানার্জি, মমতাজ আহমেদ উল্লেখযোগ্য। প্রথম যৌবনে তিনি গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আসামে গণনাট্য আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা আজ‌ও সর্বজনবিদিত। নাটক থেকে নৃত্যের অঙ্গনে পানু পালের বেশি কৃতিত্ব। তাঁর 'ক্ষুধা'ও মৃত্যু'নৃত্যনাট্যটি শুধু এই রাজ্যেই নয়, বাংলার বাইরেও প্রচুর সুনাম অর্জন করে। লোকনৃত্য ও ধ্রুপদী নাচের সংমিশ্রণে তিনি গণনাট্যের পরিসীমার মধ্যেও নাচের এক বলিষ্ঠ ফর্মের জন্ম দেন। গণনাট্যের শিল্পীরা পানু পালের নৃত্যের এই ফর্মকে বহুদিন পর্যন্ত সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের "পদ্মা নদীর মাঝি"ও প্রফুল্ল রায়ের" মাটি আর নেই "এই উপন্যাস দুটির নাট্যরূপ দিয়ে মঞ্চস্থ করেছিলেন। নাটকদুটি দর্শকমহলে খুবই সমাদৃত হয়েছিল সেই সময়ে। ১৯৯১ সালে রবীন্দ্রভারতীর পক্ষ থেকে নৃত্যের অঙ্গনে সার্বিক কুশলতার জন্য আকাদেমী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পানু পাল। তাঁর বেঁচে থাকার পরবর্তী দিনগুলি খুবই কষ্টের। এবছর তাঁর একশ বছর অতিক্রান্ত হল। তাঁর সুযোগ্যা নাতনি শ্রীমতী মধুমিতা পাল একজন আন্তর্জাতিক মানের ছৌ শিল্পী এবং একথা অনস্বীকার্য তিনি বাংলার পুরুলিয়ার প্রথম মহিলা ছৌ শিল্পী। নাচে তার আগ্রহ ছিল‌ই, তারপরে বিভিন্ন নাচ শিখতে শিখতে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতনাট্যমের কারিগরি শিক্ষা নিয়ে তাতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে মধুমিতা পাল বেছে নেন ছৌ নাচের অঙ্গন এবং তার পুরুলিয়ায় যাত্রা এবং তার ঝুমুর নাচ শেখা, তার নাচনীদের সাথে কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে সমাদৃত হয়েছে দেশে এবং বিদেশে। তার‌ই কিছু কাজ ও আমরা তাঁর দাদু পানু পালের সম্বন্ধে আরো কিছু জানবো এ অধ্যায়ে।
প্রস্তাবনা অয়ন জোয়ারদার, অনুলিখন :কৌশিক পৈলান ।

বর্তমান সময়ের পথনাটক এর ছবি


ভারতীয় গণনাট্য সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য পূর্ণেন্দু শেখর পাল বা পানু পাল-এর জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর নাতনী মধুমিতা পাল -এর লেখা

।।  ১  ।।

আজ সবার সামনে তুলে ধরবো পূর্ণেন্দু শেখর পালচৌধুরী ওরফে পানু পাল সম্পর্কে কিছু কথা। উনার জন্মশতবার্ষিকীতে আমার প্রণাম আর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। উনি আমার শিক্ষক, আমার গুরু, আমার চলার পথ এর নির্দেশক ,সেই তাকে মানে আমার ঠাকুরদাকে জানাই আমার গুরু প্রণাম, যাকে উৎপল দত্ত বারবার বলেছেন, ফাদার অফ পোস্টার ড্রামা। তিনি শুধু বাংলা পথনাটকের পথিকৃৎ নন, একইসাথে সারা ভারতের পথনাটকের পথপ্রদর্শক। উনার পরবর্তীকালে পথনাটক লিখেছেন ও করেছেন উৎপল দত্তসহ অসংখ্য গুণীজন। তবে, তারা পথনাটক করলেও পানু পাল ছিলেন ভারতবর্ষের  পথনাটকের   পাইওনিয়ার। প্রোসেনিয়ামের বাধা অতিক্রম করে তিনি নাটককে নিয়ে আসেন খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত জায়গায়। মার্কসীয় আদর্শকে বুকে নিয়ে তিনি বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের কথা বলতেন তার নাটকের মধ্য দিয়ে।


কারখানার গেটে, বস্তিতে, শহীদ মিনারে অভিনীত হতে থাকে পানু পাল-এর মাইলস্টোন নাটক- ‘ভোটের ভেট’, ‘কত ধানে কত চাল’, ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’, ‘খেয়াতরী’। একটি মুখবন্ধ না বললেই নয়। আমি একটা বইতে পেয়েছি। শোভা সেন বলছেন পানু পাল সম্পর্কে, “আমাদের ইতিহাস চেতনার অভাব আমাদের অতীতকে চিরদিনের জন্য অস্পষ্ট করে তোলে। আর আবেগঘন পাঁচমিশালী ইতিহাস একটা জাতি, একটা দেশকে কতখানি পশ্চাতপদ করে তোলে তা আজকের ভারতবাসী যথেষ্ট মূল্য দিয়ে বুঝতে পারছে। বাংলা নাটকের দুশো বছরের যাত্রাপথে কয়েক হাজার নাট্যকর্মীর নিরলস পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ তাকে গর্বিত প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। কিন্তু কোথায় সেইসব নাট্যকর্মীর জীবন কাহিনীভিত্তিক নাটক আর গৌরবময় ঘটনাবলীর পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস। ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ৪০ ও ৫০-এর দশকে নাটকে, সঙ্গীতে, নৃত্যশিল্পের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে জোয়ার এনেছিল, তার ইতিহাস আজও অসম্পূর্ণ। গণনাট্য সংঘের গৌরবোজ্জ্বল যে কজন টগবগে তরুণ নাট্যকর্মী পথনাটককে তীক্ষè হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন তাদের মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পানু পাল, উৎপল দত্ত, উমানাথ ভট্টচার্য্য, মমতাজ আহমেদ। সময়ের প্রয়োজনে জনগণমানষে যে আঘাতের প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি পথনাটক ‘চার্জশিট’। সেইসময় জ¦লন্ত ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে লিখলেন নির্বাচনী পথনাটক ‘ভোটের ভেট’।  বন্দী মুক্তি আন্দোলনের প্রয়োজনে লেখা হলো ‘চার্জশিট’। সেই সময়ের স্মৃতি আজও আমাদের রোমাঞ্চিত করে। উৎপলকে যখন গণনাট্য সংঘ থেকে বিতাড়ন করলো, সেসময় সমস্ত প্রতিরোধ উপেক্ষা করে তাকে তার পরিচালিত নাটকে অভিনয় করানোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল। এমনই ছিল সহমর্মিতা। ভেবে ভালো লাগছে যে, দেরিতে হলেও পানু পালের জীবনী প্রকাশ পাচ্ছে। আজকের নাট্যকর্মী ও আগামী প্রজন্মের সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।

বর্তমান সময়ের পথনাটক এর ছবি

আজ পানু পালকে আমি সবার সামনে উপস্থাপন করবো, যাতে আমার পরবর্তী জেনারেশন যারা পথনাটক বা নাটক নিয়ে কাজ করবেন তারা পানু পালকে জানেন, চেনেন। পথনাটক ও পোাস্টার ড্রামার এই জনককে। ঠিক এই বিষয়টির ওপরে একটা লেখার উল্লেখ না করলেই নয় ---  সিগাল ফাউন্ডেশন ফর আর্টস ম্যাগাজিনের উল্লেখ করে বলি ---- the inexhaustible work of Criticism in action :-  Street theatre of the  left -  Sudha Deshpande,  she wrote --- in fact the very idea of Street theatre comes from IPTA.  whether IPTA did any street theatre in the 1940's.  I do not know.  the accounts I have heard imprecise.  but it was certainly done in the 1950's.  Utpal Dutt who spent very brief time  in IPTA members ,  in the IPTA we introduced the street corner play during 1952 election and before that ,  in 1951  during the Bundi Mukti Andolan (Movement for the released of political Prisoners)  we organised Street corner plays - that was the first time (1984:25). The play, Rustom Bharucha inform us(1983: 57) was "charge sheet "and the idea came from Panu Pal  apparently one day Panu Pal interrupted an IPTA rehearsal and urged those present to do a quick  short improvised play on the imprisonment   by the robust  rough theatrically of the Pathan natika (street plays) its immediacy and  political sharpness.


চার্জশিট লিখেছিলেন উমানাথ ভট্টাচার্য্য, তাতে অভিনয় করেছিলেন পানু পাল, ঋত্বিক ঘটক, উৎপল দত্ত। এই লেখাটা উদ্ধৃতি হিসেবে দাখিল করলাম পানু পাল যখন কোন নাটক লিখতেন বা কোন নৃত্যনাট্য উপস্থাপনা করতেন তখন তিনি বর্তমান ব্যক্তিদের সাথে পলিটিকাল ভিউজটা খুব জোরালোভাবে থাকতো। সেই সময় কি ঘটছে কি হচ্ছে কি বলছে সমাজ কি বলছে, সেটাই সে বারবার তার লেখায় তুলে নিয়ে  আসতেন। মহৎ ব্যক্তিরা যারা থিয়েটার নিয়ে কাজ করেছেন, করছেন, যারা থিয়েটার বা নাটক লেখেন তারা জানেন যে রিহার্সাল চলাকালীন ডায়লগ সাথেসাথে পাল্টে দেওয়া যায়। কিভাবে স্থান অনুযায়ী সেই সময় অনুযায়ী এখুনি একটা খবর পেলে, পানু পাল সঙ্গে সঙ্গে তাকে সেই নাটকের মধ্যে দিয়ে সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতেন।

পড়ুন নিচের লেখাটি ক্লিক করে

শম্ভু মিত্র : নাট্যের ভাষা --- সৌমিত্র বসু


এবার আসি তার বিখ্যাত সৃষ্টি ভোটের ভেট নাটকটা নিয়ে । ভোটের ভেট নাটক নির্বাচনী পথনাটক হিসেবে প্রথম বাংলার নির্বাচনী পথনাটক:-

 পানু পালের সুযোগ্যা নাতনি শ্রীমতী মধুমিতা পাল

ভোটের ভেট নাটকটি একটি দলিল, এটি ইতিহাসের সা¶ী। এ পথনাটকে নির্বাচনী সভা মঞ্চে ছিলেন আমাদের পথ প্রদর্শক। হাজারো মানুষের বক্তব্যকে তিনি নির্বাচনের মঞ্চে এনেছিলেন সুনিপুণভাবে, যাতে মানুষ অনুপ্রাণিত হন, সেখানে মানুষের ঢল নামে। আইপিটিএ’র মূল বক্তব্য- ফর দ্য পিপল অফ দ্যা পিপল বাই দ্যা পিপল। একেই সা¶্য করে তিনি এগিয়ে চলতেন তার নাটকের কাজে। ভোটের ভেট নাটকটিতে চারটি চরিত্র আছে যাতে অভিনয় করেছিলেন পানু পাল, উৎপল দত্ত, উমানাথ ভট্টাচার্য্য আর ঋত্বিক ঘটক। মহেশতলায় দিনরাত রাস্তায়-মাঠে-বস্তিতে অভিনীতি হতে থাকল ভোটের ভেট নাটকটি।


এই ভোটের ভেট নাটক নিয়ে একটি যুগান্তকারী লেখা আছে. " Panu Pal" as well as Utpal Dutt Meldi describes IPS Pioneer report in poster plays and agit -props play.  Sova sens  article quote even further to criticize  ipta and point out his obvious contradictions  obviously what is highlighted as  IPTA Pioneer achievement  role in poster play, agit prop plays  and performance in the suburban  working class areas, Panu Pal.  the initiator and one of the Pioneer search plays  top of their interest in agit prop plays  and their subsequent experience articles (" Little  theatre group and I, Little Theatre Ami") although I'm taking on a larger Canvas also describes his experience with agit props  plays with the IPTA.  Utpal Dutt who writes and therefore Panu pal and  I infected by the real IPTA concern for the people political struggle  prepared 2nd Street corner play and descended on the suburb of maheshtala , where the people are mostly  tailors and sprinkling of workers from the Bata shoe factory nearby.  that time Epic theatre President  - Shri Satyajit Roy  Secretary -Shrimoti Sova Sen ,editorial board  -  Sri Tapas Sen, Shri  Satyajit Ray ,Sri Rittik Ghatak  ,Sri Ashok Sen, Sri Ashok Mitra.



এবার আমি আইপিটিএ’র আসাম স্কোয়াড নিয়ে কিছু প্রসঙ্গ অবতারণা করবো এবং তার বিষয়ে কথা বলব। আসামে শ্রী জ্যোতি প্রসাদ আগারওয়ালাকে সভাপতি, হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম-সম্পাদক  নগিন কাকতি এবং মনি ভট্টাচার্যকে অফিস সম্পাদক করে গণনাট্য সংঘের প্রথম প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হয় ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে। ডিব্রুগড়ে গণনাট্য সংঘের দ্বিতীয় প্রাদেশিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালে। চারদিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রাদেশিক সম্মেলন। প্রথম সমাবেশেই হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ডাকে দাদুভাই অর্থাৎ পানু পাল চলে গিয়েছিলেন আসামে ভারতের সঙ্গে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য। ওখানে থেকে সাদরি ভাষায় নাটক লিখে ফেলেন তার নাম ‘বদলা লেনা’। দিনের পর দিন ওখানে থেকে তাদের সাথে ওয়ার্কসপ করিয়ে তাদের ভাষা নিজে রপ্ত করে নাটকটা লেখেন এবং তাদেরকে দিয়ে নাটক করান। এটা একটা ঐতিহাসিক কাণ্ড বটে, কারণ আমি যতগুলো লেখায় পেয়েছি, তার আগে শ্রমিকদের ইউনিয়নকে দিয়ে নাটক করানোর নজির নেই ভারতবর্ষে। আসামের জোরহাট কলেজের প্রিন্সিপাল দেবব্রত শর্মা একটি ম্যাগাজিন দেন এবং তার কাজ আসামি ভাষায় পথনাটক নিয়ে। তাতে পানু পাল অবশ্যম্ভাবী চলে এসেছেন। সে নাটক সাধারণ মানুষ শ্রমিক মানুষ মজদুর মানুষদের সামনে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে মানুষের ঢল নাকি নেমেছিল।  আসামের লোকনাথ  গোস্বামী যার কাজ হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে নিয়ে, তার একটি বইতে পাওয়া যায় দার্জিলিং নগরে সভাপতিত্ব ডিব্রæগড়ে একটা সম্মেলনে উপস্থিত কবি ছিল নাম আছিল না টিকার নাম আছিল বদলালে না চাহো অনুবাদ এক কবি আলোক জীবনালেখ্য অবলম্ব^ন বিভিন্ন চিত্র সাদরি ভাষা সংলাপত দানি ধবা  হইছিলো সে শেষ দৃশ্য মালিক মহাজন' আব্বু বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক অভিযান দি ক্লাইমেক্স সৃষ্টি কবে হয়েছিল এই এর ঘন্টিয়া নাটিকা ¶ণে মজবুত আলোড়ন সৃষ্টি  কবে ছিল নাটক অফ সাফল্য পাবে আমার সভাপতি জ্যোতিপ্রসাদ মালিক জ্যোতি প্রসাদ আমাক অভিনন্দন জানাই ছিল।

বর্তমান সময়ের পথনাটক এর ছবি

যুগান্তকারী নৃত্য, নাটক, পথনাটক, প্রবন্ধ- তার সৃষ্টির প্রচুর কাজ ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যার দার্শনিক চিন্তা তার ব্যক্তিত্ব, তার লেখা এবং প্রবন্ধগুলোর মধ্যেই ছড়িয়ে আছে।

ওর একটা প্রবন্ধ থেকে পাঠ করছি আমি। পড়ে শোনাচ্ছি-  প্রবন্ধ: সংস্কৃতির সংকট একাল ও সেকাল- সংস্কৃতির সংকট ও তার সঙ্গে প্রগতিশীলদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সূত্রপাতের জন্য কালান্তর পত্রিকার সম্পাদক পরিচালকদের অশেষ ধন্যবাদ, এটি কালান্তর পত্রিকায় বেরিয়েছিল। দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিবন্ধ ‘আজকের নাটকে’ হৃদয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে চল্লিশের দশকের গণশিল্পী নামে পরিচিত কৃতি শিল্পীদের বর্তমান মঞ্চে উপস্থিতি অসম্ভব কামনা করেছেন। এই কামনা কি বাস্তবে রূপায়িত হওয়া সম্ভব?  এক্ষেত্রে সাধন দাশগুপ্ত-এর সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমার অস্পষ্ট কথা না। কিন্তু আবার শোভনলাল দত্তগুপ্ত-এর সঙ্গে একমত হয়ে বলি, এই কল্পনার বাস্তবায়ন কমিউনিষ্টদের রাষ্ট্র¶মতা দখলের মধ্যে। আর এর মধ্য দিয়েই অপূর্ণতার অন্ধকারকে কাটিয়ে পূর্ণতার আলোর রাজ্যে প্রবেশাধিকার। এখানেই মূল প্রশ্ন কেন্দ্রীভূত- সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অন্যান্য সব ক্ষেত্রের মতই প্রতিনিয়ত চলেছে শ্রেণিসংগ্রাম। পুঁজিবাদ সবকিছুর মতো সংস্কৃতিকেও পণ্যে পরিণত করেছে, পুঁজি যেখানে মুখ্য, বিবেক সেখানে গৌণ। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল এদের কাছে নামমাত্র। অর্থাগমের সহজ সুলভ পথে এদের আনাগোনা তাই তারা বেছে নেয় বিকৃত সংস্কৃতির পথ। আর এর পিছনে ধনতান্ত্রিক প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রের ও সরকারের সকল যন্ত্র ক্রিয়াশীল। এর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যারা সুস্থ-সবল চেতনা সৃষ্টি করে যাবার ব্রত নেয় তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে নিষ্ঠুর আক্রমণ এবং এদের জন্য তৈরি থাকে সরকারের দমন-পীড়ন-নিষ্পেষণ। সমগ্র অবস্থানটাই চলছে ধনিক শ্রেণীর অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভিত্তি করে। চল্লিশের দশককে গণনাট্যের স্বর্ণযুগ বলে যে আখ্যা দেওয়া হয় তাতে আমি দ্বিমত পোষণ করি। এ যুগের শুরু ও শেষ প্রায় একসময় ছিল। নতুনত্বের আকস্মিকতার চমক বোম্বে^ থেকে আসা নৃত্যগোষ্ঠী এবং বাংলায় বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকের আবির্ভাব তৎকালীন মঞ্চ ধারাকে চুরমার করে দিয়েছিল। সৃষ্টি করেছিল একেকটা মাইলস্টোন আলোড়ন সৃষ্টিকারী নাটক, নৃত্যনাট্য। সৃষ্টি হয়েছিল অসাধারণ সমস্ত পেইন্টিং। ঘূর্ণির টানে প্রায় সব নামিদামি শিল্পীরা কেন্দ্রীভূত হয়েছিলেন গণনাট্য আকাশে। কিন্তু তাদের উদয় এবং অস্ত সমসাময়িক।




আসলে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ আইপিটিএ যখন ভেঙে গেল বা ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে যখন তাদেরকে ডাকলো না, এছাড়াও এরকম অনেকেই ডাকেনি , ব্রাত্য করে দেয়া হয়েছিল, তখন থেকেই পানু পালের মন ভাঙতে শুরু করলো। তবুও কিন্তু সে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি, ওর কথার পরিপ্রেক্ষিতে, একটা সভ্যতার পরিণতি অবশ্যই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হবে। তার জন্য মানুষকে শ্রেণী সংগ্রাম বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। গণনাট্য সংঘ শ্রেণীর সচেতনতা বিস্তারে কাজ করতে  চেয়েছিল। ভাঙ্গা গলায় তিনি অনবরত বলে যেতেন, এই ভাবনাটাই যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে প্রতিমুহূর্তে... আমি সেই ভাবনা থেকে বেরোই কিভাবে ?     এরপর  আগামীকাল ... ।। ২ ।। পর্ব পড়ুন ...




পরবর্তী পর্ব টি পড়ুন এই লেখাটি ক্লিক করে

পথনাটককে পোস্টার ড্রামা বলতে আমি রাজি নই - পানু পাল   ( ।। ২ ।। পর্ব )

Post a Comment

2 Comments

জানা ছিলনা। জেনে সমৃদ্ধ হলাম।
জানা ছিলনা। জেনে সমৃদ্ধ হলাম।