বিজয়কুমার দাস
বীরভূমের নাট্যদলগুলির মধ্যে সিউড়ির ইয়ং নাট্য সংস্থা ২০০২ সাল থেকে নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত । নাটক প্রযোজনার পাশাপাশি ছোটদের নিয়ে নাটক প্রযোজনা, নাট্য কর্মশালা, নাটকের ক্লাস, প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার মানুষের মাঝে নাটকের আয়োজন তাদের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ।
২০০২ এর আগে ৯০ এর দশকের শুরুর দিকে সিউড়ি ইরিগেশন কলোনীতে স্কুল পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে সিউড়ির নাট্যদলগুলিকে নাটকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হত । কিন্তু নাটকে তেমন সাড়া পাওয়া গেল না বলে নিজেরাই নিয়মিত নাটক করার সিদ্ধান্ত নেয়।সত্যজিৎ দাস ও রাজকুমার দাসের লেখা "হুকুম" নাটক প্রযোজিত হল নির্মল হাজরার নির্দেশনায় । ২০০২ সালে গড়ে উঠল ইয়ং পার্লামেন্ট নাট্য সংস্থা । ২০০৯ সালে নবীকরণের পর হল ইয়ং নাট্য সংস্থা । নির্মল হাজরা হলেন দলের সম্পাদক ও নির্দেশক ।ইরিগেশন কলোনীর মঞ্চে "হুকুম" নাটক দিয়ে দলের যাত্রা শুরু । এ পর্যন্ত দলের বহু উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা জেলা ও জেলার বাইরে অভিনীত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঃ আবোল তাবোল কাণ্ড, ফল, আলোয় ফেরা, গুপ্তধন, সেকেন্ড বেল, অনুভবে বিনোদিনী, হল্লাবোল,ক্ষীরের পুতুল, শুভদৃষ্টি ফুলশয্যা ইত্যাদি।ফল এবং আলোয় ফেরা নাটক বেশিবার অভিনীত নাটক ।
তবে "শুভদৃষ্টি ফুলশয্যা" নাটক অবশ্যই ব্যতিক্রমী প্রযোজনা। ২০১৮ সালে এই নাটক দুবরাজপুর ডি এস এ শারদীয়া মঞ্চে প্রথমবার অভিনীত হয়েছিল। ১৮ জন কুশীলব এ নাটকের সঙ্গে যুক্ত । নাটকের বিষয়বস্তুতে প্রাধান্য পেয়েছে বীরভূমের লোক আঙ্গিকের লেটোগান । সৌমিত্র বসুর একটি শহুরে নাটক "শুভদৃষ্টি ফুলশয্যা" কে লোকনাট্যিকরণ ও লেটো গানের ব্যবহারে নতুন রূপ দেন নির্দেশক নির্মল হাজরা । লেটো গান অভিনয় ও হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার কথা বলে ।বীরভূমের দুই লেটোগায়ক হরকুমার গুপ্ত ও অধীর মন্ডলের লেটো গান ও লেটোপালার কিছু অংশ ব্যবহৃত হয়েছে এ নাটকে ।
গ্রুপ থিয়েটার পত্রিকার একটি শারদ সংঝ্যায় সৌমিত্র বসুর নাটকটি পেয়েছিলেন নির্মল হাজরা ।
নিউ দিল্লী কালীবাড়ি নাট্য উৎসব, দীঘা বিচ লোক উৎসব, কলকাতা থিয়েটার ফেস্টিভেল, বিনোদিনী নাট্য উৎসব সহ বিভিন্ন মঞ্চে এ নাটক অভিনীত হয়েছে ।
নাটকের প্রধান চরিত্র ভোলার ছোট থেকেই অভ্যাস নিজের আঙুল চোষা । তার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় ময়নার । কিন্তু বিয়ের আসরে ভোলার আঙুল চোষা দেখে ময়না বাড়ির ভেতর পালিয়ে যায় । অবশ্য বিয়ের আসরে নারী - পুরুষের তরজার পাশাপাশি দুই বেয়াই এর বাদানুবাদে বিয়ের আসর জমজমাট ।
তবু ময়না আসে শ্বশুরবাড়ি । ফুলশয্যায় সে ভোলাকে জানায় তার এক "হার্টথ্রব" আছে । আবার সঙ্কট দেখা দেয়। ভোলা বাসর ছেড়ে পালায় । দুই বেয়াই নেমে পড়ে কলহের আসরে । পরে জানা যায়, ময়নার "হার্টথ্রব" আসলে ছোটা ভীম । ভোলা সহ সবাই ভুল বুঝতে পারে । এ নাটকের বিশেষত্ব হল পুরুষরা নারী চরিত্রে এবং নারীরা পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করে চমকে দিয়েছে ।
প্রত্যেকের অভিনয়ের পাশাপাশি লেটোগানের ব্যবহার এ নাটককে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে । বিমল কুমার সোম নাটকের সঙ্গীত ও আবহে নেতৃত্ব দিয়েছেন।সব মিলিয়ে লেটোগানের আঙ্গিকে "শুভদৃষ্টি ফুলশয্যা" একটি সুন্দর কৌতুকপ্রধান নাটক ।
*সিউড়ি ইয়ং নাট্য সংস্থা প্রযোজনা*
জমজমাট লেটো আঙ্গিক নির্ভর
*শুভদৃষ্টি ফুলশয্যা*
*রচনা* ; সৌমিত্র বসু
*মুখ্য উপদেষ্টা* : লেটো গুরু হর কুমার গুপ্ত
*বিশেষ কৃতজ্ঞতা* --- লেটো শিল্পী শ্ৰী অধীর মন্ডল।
*মঞ্চ* : সম্রাট মুখোপাধ্যায়
*আলো*: রাজীব দে/ উমেশ শর্মা
*আবহ* : বিমল কুমার সোম, নির্মাল্য সোম,
বাদ্যযন্ত্র - জিকো ব্যানার্জী ও সঞ্জয় দাস
*রূপসজ্জা* : সুকুমার বাগদী
*।।চরিত্রায়ণে।।*
*ঢোল বাদক* - জিকো ব্যানার্জী/নির্মাল্য সোম
*মূল গায়েন -* বিমল কুমার সোম
*জুড়িদারগণ ১* - সম্রাট মুখোপাধ্যায়
*জুড়িদার -২* - উমেশ শর্মা
*জুড়িদার - ৩*- নির্মাল্য সোম/সন্তু রুজ
*ভোলার মা -* মোহন কাহার
*ভোলার বাবা* অনন্যা দাস/শর্মিষ্ঠা ভান্ডারী/বর্ষা সাহা/ সাবিবা খাতুন
*ভোলা-* অনির্বান ঘোষ / গোপীনাথ চৌধুরী
*বৌ - ময়না -* সুকদেব কাহার
*কনের বাবা*- দেবারতি লোধ/নুরজাহান খাতুন/ স্বর্ণালী মজুমদার
*পুরোহিত-* নিতাই বন্দ্যোপাধ্যায়
*জনৈক ব্যক্তি -* বিকাশ রায়
*নৃত্যে -* ফুল মুখার্জী/শম্পা দাস
*সিকিউরিটি/ দূত*- সম্রাট মুখার্জী/সুমন সাধু
*লেটোকিকরণ, বিন্যাস, সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা* : নির্মল হাজরা
*ঋণ স্বীকার* - লেটো শিল্পী হর কুমার গুপ্ত ও অধীর মন্ডল দুই জনের তাঁদের বিখ্যাত লেটোর গান ও লেটোর অংশ এই নাটকে ব্যবহার হয়েছে।
এছাড়া বেশ কিছু কবিদের ছড়া ও কবিতা ব্যবহার হয়েছে, সেই সকল কবিদের প্রতি কৃতজ্ঞ ।





0 Comments