বিজয়কুমার দাস
বাংলা থিয়েটারে সুমনা চক্রবর্তী সুপরিচিত নাম । নানা ভাবনার এবং নানা আঙ্গিকের থিয়েটার তিনি করে চলেছেন প্রতিনিয়ত । অভিনয়ের ডাক পেলে কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে, জেলায়, গ্রামে তিনি উপস্থিত হয়ে যান নাটক নিয়ে । থিয়েটারের কাজে অবশ্যই এক দায়বদ্ধ অভিনেত্রী। বেহালা অনুদর্শী নামে একটি নাটকের দল আছে তাঁর । এই দলের প্রযোজনা দেখার জন্য থিয়েটারের মানুষজন বেশ আগ্রহীও থাকেন ।
১৯৯৫ সালে তিনি বেহালা অনুদর্শী নামে নাটকের দল প্রতিষ্ঠা করে নিজের মত করে থিয়েটারচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন । ১৯৯৫ সালেই দলের নিবন্ধীকরণ হয়েছিল । নানা সামাজিক সমস্যা, অবক্ষয়, মানুষের জীবনযুদ্ধ, অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম প্রাধান্য পায় তাঁর নাটকে। নিজে একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক এবং অবশ্যই সুঅভিনেত্রী । থিয়েটারের ক্ষিদে, নতুন কিছু করতে চাওয়া, নিজের না বলা কথা বলতে চাওয়া - এসব বিষয়কে সামনে রেখেই তিনি বেহালা অনুদর্শী গড়েছিলেন । থিয়েটার তাঁর কাছে এক অতি প্রিয় মাধ্যম।একই সঙ্গে নান্দনিক শিল্পচর্চার ক্ষেত্র ।
বেহালা অনুদর্শীর সাম্প্রতিক প্রযোজনা SUFFOCATION থিয়েটারের দর্শকদের কাছে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে প্রযোজনা ও বিষয়বস্তুর গুণে । সাফোকেশন যদিও একটি ইংরেজি শব্দ, কিন্তু বাংলাভাষীদের কাছেও এই শব্দটিই ব্যবহৃত হয় । তাই নাটকের শিরোনাম SUFFOCATION হলেও এটি বাংলা নাটক ।
নানা কারণে ব্যক্তিজীবনে, সমাজজীবনে দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয় । মানুষ তখন পরিত্রাণের পথ খোঁজে । এই দমবন্ধ পরিস্থিতি যে সুখকর নয়, সেটাই বলতে চাওয়া হয়েছে এ নাটকে । এটি একটি সাইকো থ্রিলার। মনস্তত্ব নিঃসন্দেহে একটা জটিল বিষয়। ব্যক্তিজীবনে নানা কারণে এই দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয় । বিশেষত অনিচ্ছাকৃত কোন অপরাধের শিকার হয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত বিবেক দংশনে ক্ষতবিক্ষত হয় ।
এ নাটকে এমনই একটা বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে । নির্দেশক সুমনা মনে করেন, নাটকের বিষয়বস্তু বা কাহিনী আগে থেকে বলে দিলে নাটক দেখতে গিয়ে তিনি হয়তো নাটকের কাহিনীকেন্দ্রিক দমবন্ধ পরিস্থিতি সেভাবে অনুভব করতে পারবেন না । তার চেয়ে নাটকের কাহিনী বা কাহিনীর চরিত্রগুলির পরিণতি না জেনেই এ নাটক দেখতে যাওয়া ভাল ।
বেহালা অনুদর্শী সব সময়েই দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দিতে চায় । তাই কাহিনীর জট আগে থেকেই না খোলার পক্ষে নির্দেশক সুমনা চক্রবর্তী ।
নটরাজ দাশ রচিত এ নাটকে কোন স্ত্রী চরিত্র নেই । একটি কাল্পনিক চরিত্র ও তিনটি পুরুষ চরিত্র আছে এ নাটকে।ডঃ নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় নামক সেই কাল্পনিক চরিত্রে অভিনয় করছেন নির্দেশক সুমনা চক্রবর্তী । অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রতীন গঙ্গোপাধ্যায়, অনুপম পাল, সপ্তর্ষি ভৌমিক। নাটকের নেপথ্যশিল্পীরা হলেন বাবলু সরকার (আলো), অনির্বাণ দত্ত (আবহ) , সুশান্ত চক্রবর্তী (মঞ্চ, রূপসজ্জা পরিকল্পনা) ,অজিত রায় (মঞ্চ নির্মাণ) , রবীন দাস (আবহ প্রক্ষেপণ) ।
এক নারী কাদম্বরী, মধ্যবর্তিনী, আহত অম্বা, ইতি তোমাদের রথী, 41 ফার্স্ট, বড়ো একা লাগে, অমলতাস, মনদাম্পত্য ইত্যাদি নাটকের পর SUFFOCATION (সাফোকেশন) এক জরুরী বার্তা নিয়ে এসেছে থিয়েটারের দর্শকদের কাছে ।
২০২২ এর ১৪ জুলাই নাটকটি প্রথম অভিনয়ের পরে বিভিন্ন মঞ্চে বেশ কয়েকটি শো হয়েছে এ নাটকের । অনীক উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে অভিনীত হয়েছে । আগামীতে নাটকটি কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চের পাশাপাশি জেলায় জেলায় এ নাটক পরিবেশন বেশি আগ্রহী নির্দেশক ও অভিনেত্রী সুমনা চক্রবর্তী ।
মঞ্চে
অনুব্রত শর্মা - ব্রতীন গঙ্গোপাধ্যায়
ধৃতিমান - অনুপম পাল
শুভময় বসু - সপ্তর্ষি ভৌমিক
ডঃ নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় - সুমনা চক্রবর্তী
আলো
বাবলু সরকার
আবহ
অনির্বাণ দত্ত
মঞ্চ ও রূপসজ্জা পরিকল্পনা
সুশান্ত চক্রবর্তী
মঞ্চ নির্মাণ
অজিত রায়
আবহ প্রক্ষেপন
রবীন দাস
নাটক
নটরাজ দাশ
নির্দেশনা
সুমনা চক্রবর্তী

0 Comments