মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ৩৬ || বাঁশদ্রোণী অনুপ্রাণন প্রযোজিত "বর্ণচোরা" - NEWS THEATRE FORUM

 

 বিজয়কুমার দাস

কলকাতার ২২৬/২ পঞ্চাননতলার নাট্যদল বাঁশদ্রোণী অনুপ্রাণন । অমিতাভ চ্যাটার্জী এবং শান্তনু সেনগুপ্ত নামে দুই নাট্যপ্রেমী বন্ধু মিলে এই নাটকের দল তৈরি করেছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে । শুধু তাই নয়,  নিজেদের স্ত্রী ও কন্যাকে  প্রথম অভিনয়ের মঞ্চে নামিয়ে দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল । যদিও দলের নিবন্ধীকরণ হয়েছিল ২০২১ সালে । দলের সম্পাদক এবং নির্দেশক অমিতাভ চ্যাটার্জী জানালেন, ২০১৬ সাল থেকেই এই দলটি নাট্যচর্চায় নিয়োজিত আছে । ভাল নাটক প্রযোজনাই এই দলের উদ্দেশ্য । ২০১৭ সালে অমিতাভ চ্যাটার্জীর লেখা "চোর" নাটকটি দলের প্রথম প্রযোজনা । নির্দেশনার দায়িত্বেও ছিলেন অমিতাভবাবু । পরে বেশ কিছু নাটক প্রযোজনার মাধ্যমে থিয়েটার মহলে পরিচিত হয়ে উঠেছে ।  বেংলিশ কন্যার রূপকথা,  অশ্রুতপুরাণ এই দলের খুবই উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা । অশ্রুতপুরাণ নাটকটি দলের সর্বাধিক অভিনীত নাটক । সম্প্রতি "বর্ণচোরা" নাটকটি দলের নতুন প্রযোজনা হিসাবে মঞ্চস্থ হয়েছে তপন থিয়েটারে । ২০২২ এর ১৪ আগস্ট এই নাটক দেখে দর্শকরা প্রশংসা করেছে প্রযোজনাটির ।


"বর্ণচোরা " প্রকাশিত নাটক । কবি বসুর লেখা এই নাটকটি একটি নাট্য সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল । নাটকটি  ভাল লাগার কারণে সেটি জেরক্স করে নিয়ে এবং নাট্যকারের সম্মতি নিয়ে নাটকটির কিছু পরিমার্জন করা হয়েছিল । কিছু চরিত্রও সংযোজিত হয়েছিল । অমিতাভবাবু এবং জয়েশ ল মিলে এই পরিমার্জনার কাজটি করেছিলেন । মোট ১২ টি চরিত্রের মধ্যে এই নাটকে স্ত্রী চরিত্র ৪ টি। দলের পঞ্চম প্রযোজনা "বর্ণচোরা" নাটকের বিষয়বস্তুতে প্রাধান্য পেয়েছে মানুষের সাথে মানুষের ভেদাভেদ । এ নাটকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে,  এই ভেদাভেদ দূরীকরণ কি আদৌ সম্ভব ?  উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের মানুষের মধ্যে কোথাও যেন এক অদৃশ্য সীমারেখা আছে । তবু কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই ভেদাভেদ দূর করতে এগিয়ে এসে দেখে, সে কাজ বড়ই কঠিন । তারা যেন এই মহান কাজে নেমে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় । তাই এ নাটকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে কি এই ভেদাভেদের সত্যিই শেষ নেই ? দলের নিজস্ব কোন মহলাকক্ষ নেই। তবু নিয়মিত নাট্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে এই দলটি । একটি ক্লোজডোর অভিনয়ের খরচ সহ মোট ৪০,০০০ টাকা প্রযোজনা খরচ এ নাটকের । নাটকে ৪ জন ফ্রী ল্যান্সার আছেন । 


" বর্ণচোরা " নাটকটি প্রযোজনা করে দল উজ্জীবিত হয়েছে দর্শকের প্রশংসায়। আলো , আবহ মঞ্চের দায়িত্বে থাকা নেপথ্যশিল্পীরাও খুব সঙ্গে কাজ করেছেন এ নাটকে। আগামীতে এ নাটক বারবার মঞ্চস্থ করতে চায় বাঁশদ্রোণী অনুপ্রাণন।


চরিত্রলিপি

শাস্ত্রী - অমিতাভ চ্যাটার্জি

গৌরী - রিমি গাঙ্গুলি

সিদ্ধেশ - প্রান্তিক চ্যাটার্জি

বিপলু - অন্বয় ব্যানার্জি

মুখিয়া - পিকন ঘোষ

পান্ডে - সঞ্জয় দে

রবি - মুকেশ দাস

শান্তি - তন্দ্রা চৌধুরী

দুলিয়া - কৌশিকী ঘোষ

গ্রামবাসী - মণিকা সেন, টুম্পা বোস, অমিতাভ বোস

Post a Comment

0 Comments