নন্দন-২ তে রিলিজ করছে বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা, দেখুন ১২ আগস্ট থেকে - NEWS THEATRE FORUM

বিজয় কুমার দাস

পরিচালক কুমার চৌধুরী, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার থিয়েটার সিটি গোবরডাঙ্গার মানুষ । ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিলো বিশেষ আগ্রহ ।কাজ করেছেন বিভিন্ন থিয়েটার দলে, গোবরডাঙ্গা নকসা, কলকাতার পি.এল.টি ইত্যাদি নাট্যদলের সাথে ছিল তার থিয়েটার যাপন । পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা জাগে তাঁর মনে । দীর্ঘদিন মিউজিক চ্যানেলে যুক্ত থাকার সূত্রে বেশ কিছু টেলিফিল্ম, শর্টফিল্ম নির্মাণ করলেও জীবনের স্বপ্ন ছিল একদিন ফিচার ফিল্ম তৈরি করবেন ।

কাজের সূত্রেই টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় তাঁর চেনাশোনা অনেক নামি অনামি ব্যক্তির সাথে । রোহীঙ্গাদের জীবনের কাহিনী নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখার সূত্র ধরেই পরিচালক পেয়ে যান তার সিনেমার কাহিনী,  যা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল । তাই তিনি ঠিক করেন, এই  বিষয় নিয়েই চলচ্চিত্র বানাবেন । কিন্তু ছবি বানাতে যে অর্থ প্রয়োজন তার ব্যবস্থা কিভাবে হবে তিনি জানতেন না । প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও একাগ্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে । পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গিনী ।

এরপর বন্ধু বান্ধবের কাছে অর্থ সাহায্য নিয়ে, ঋণ নিয়ে এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সিনেমা তৈরীর পেছনে ব্যায় করেন ।

অবশেষে ২০১৬ সালে হাতে পাওয়া গল্পটি নিয়ে কাজে শুরু হয় ২০১৯ সালে । কিন্তু করোনা আবহে থমকে দাঁড়াতে হয় । করোনার মাঝেই আম্ফান ঝড় যখন সারা রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত, তখন তার বাড়িতে থাকা মেহগনি গাছটিও উপরে পড়ে যায় । সেই গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে টেকনিশিয়ানদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন তিনি । হাজার বাধা অতিক্রম করে নির্মিত হলো পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র 'প্রিয় চিনার পাতা, ইতি সেগুন...' ।

অভিনয়ে অধিকাংশই থিয়েটারের ছেলেমেয়েরা । গল্প শুরু হয় এক রোহীঙ্গা মেয়ে সীমান্তে আটকে পড়া থেকে । তারপর জেল, হোমে আশ্রয় ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে গল্পের বুনেট, যা দর্শক মনে বিশেষ প্রভাব ফেলে । এক কাশ্মীরি অভিনেতা এই ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ।

ছবি নির্মাণের পর শুরু হয় বিশ্বের দরবারে এই চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়ার লড়াই । বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠানোর কাজ শুরু হয় । ২০২১ এর কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি দেখানোয় পর প্রচুর প্রশংসিত হয় । এন.এফ.ডি.সি -র ফিল্ম বাজারেও পাঠানো হয় । সেখান থেকে বেশ ভাল ফল পাওয়া যায় । লন্ডন, রাজস্থান, বস্টন প্রভৃতি পৃথিবীর নানা শহরে ছবিটি সমাদৃত হয় । এখনও পর্যন্ত মোট ২০ টি ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে ছবিটি । পুরস্কার প্রাপ্তিও ঘটেছে একাধিক । সেরা ফিল্ম হিসাবে এবং ফিল্ম-মেকিং এর জন্য পুরস্কার ৭ টি ফেস্টিভ্যালে ।

এরপর নন্দন -এ জমা দেওয়া হয় ছবিটির শো এর জন্য । আনন্দের খবর এই যে, আগামী ১২ই আগস্ট থেকে 'নন্দন ২' সিনেমা হলে সন্ধ্যে ৬ টা থেকে প্রতিদিন ছবিটি দেখানো হবে ।

এই ছবির পরিচালক কুমার চৌধুরীর অনেক নিদ্রাহীন রাত কেটেছে গত কয়েক বছর । তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে এটাই মনে হয়েছে আমাদের । অনেক স্বপ্ন নিয়ে একটা যুদ্ধ জয় করেছেন তিনি । আর সেই জয়ের ফলাফল এখন আপনার শহরে । আপাতত নন্দন-২ তে প্রদর্শনের সুযোগ মিললেও আরো এক আশায় বুক বেঁধেছেন পরিচালক । এ ছবির শো যদি প্রতিদিন পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ হয়, তবে অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সাহস পাবেন তিনি ।


তাই আমাদের প্রত্যাশা, এ ছবি দেখুন সবাই । পরিবার বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে প্রেক্ষাগৃহ ভরিয়ে দিন । কলকাতার বা কলকাতায় যারা থাকেন তাঁরা অবশ্যই পারেন এই লড়াই এর পাশে বন্ধুর মত থাকতে । আপনিই পারেন এই লড়াইয়ে পাশে থেকে পরিচালক কুমার চৌধুরীর নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখাতে ।

Post a Comment

0 Comments