মহলা থেকে মঞ্চে | পর্ব - ৩০ | সেন্টার স্টেজ প্রযোজনা : পত্নী ও প্রেয়সী || NEWS THEATRE FORUM

বিজয়কুমার দাস

সেন্টার স্টেজ একটি সুপরিচিত নাট্যদল । বেশ কিছু ভাল প্রযোজনার মাধ্যমে নিজেদের দলের নাম সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে এই দলটি । কলকাতার ৮৭/২, এ কে মুখার্জী রোডের শাশ্বতী হাউজিং  এস্টেট এই দলের ঠিকানা । স্বভাবতই দলের কোন মহলাকক্ষ নেই, মঞ্চও নেই - তবু থিয়েটার করে চলেছে এই দলটি । কলকাতার বিভিন্ন নাট্যদলে যুক্ত থাকা চারজন থিয়েটারপ্রেমী অসমবয়সী বন্ধু মিলে নিজেদের মত নাটক করবে বলে এই দল গঠন করেছিল । ২০১১-১২ সালে দলের নিবন্ধীকরণ হয়েছিল । শুরু হয়েছিল নিয়মিত থিয়েটার চর্চা । দলে বিভিন্ন সময় নাটক নির্দেশনার কাজে  দায়িত্ব পালন করে চলেছেন স্বরূপ দাস, স্বজন সৃজন মুখার্জী এবং নবনীতা মুখার্জী দাস । বর্তমানে দলের সম্পাদক কৌশিক রায়চৌধুরী । দলের অন্যতম নির্দেশক নবনীতা  মুখার্জী দাস জানিয়েছেন, বিগত বছর গুলিতে দল বেশ কয়েকটি প্রযোজনার মাধ্যমে থিয়েটার মহলে সুনাম পেয়েছে । দলের প্রথম প্রযোজনা ছিল "হারায়ে খুঁজি" নাটক । দলের প্রথম বর্ষ পূর্তিতে নবনীতা মুখার্জী দাসের লেখা এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন নবনীতার সঙ্গে যৌথভাবে স্বরূপ দাস । দলের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাগুলি হল : রবীন্দ্রনাথ ও জয় গোস্বামীর কবিতা সমৃদ্ধ নাটক "হারায়ে খুঁজি" সহ আন্তন চেকভের Marriage Proposal অবলম্বনে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রূপান্তরিত প্রস্তাব, রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর, খ্যাতির বিড়ম্বনা এবং আশাপূর্ণা দেবীর কাহিনি অবলম্বনে "পত্নী ও প্রেয়সী" নাটক। প্রস্তাব নাটকটি সবচেয়ে বেশিবার মঞ্চস্থ হওয়া নাটক ।


সেন্টার স্টেজ দলের প্রযোজনা পত্নী ও প্রেয়সী মঞ্চস্থ হওয়ার পর দর্শকবন্দিত হয়েছে বলে জানালেন নবনীতা মুখার্জী দাস । ২০২২ এর ৮ মে গোবরডাঙা শিল্পায়ন স্টুডিওতে নাটকটি প্রথমবার মঞ্চস্থ হয়েছিল । পরে গিরিশ মঞ্চেও নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ে দর্শকদের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে । স্বরূপ দাসের নেশা হল বই পড়া । আশাপূর্ণা দেবীর ছোটগল্প সংকলন হাতে আসার পর সেই সংকলনের প্রথম গল্পটি পত্নী ও প্রেয়সী পড়ে ভাল লেগে যায় । সেই গল্পের নাট্যরূপ দেন নবনীতা মুখার্জী দাস । তিনিই এ নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন ।


নাটকের গল্পটি আসলে ৭০ এর দশকের একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প । প্রেমহীনতার এই পৃথিবীতে মিষ্টি প্রেমের গল্পটিই দলের প্রযোজনার জন্য বেছে নেওয়া হয় । গল্পে প্রাধান্য পেয়েছে স্বামী স্ত্রীর প্রেম । অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যেও প্রেম অসম্ভব নয় - এই বার্তাই আছে এই নাটকে । অপেক্ষা যে প্রেমের এক অন্য রূপ, আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই রূপ যেন হারিয়ে যাচ্ছে । সেই আস্বাদ ফিরিয়ে আনার গল্প নিয়ে এই নাটক । মোট ৯ টি চরিত্রের এই নাটকে স্ত্রী চরিত্র ৪ টি । দলের পঞ্চম প্রযোজনা এই নাটকটি । যাঁরা অভিনয় করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই দলের ছেলেমেয়ে । অতিথি শিল্পীদের দিয়ে কাজ করানোয় বিশ্বাসী নয় সেন্টার স্টেজ । নাটকে আলোর দায়িত্বে ছিলেন সাধন পাড়ুই এবং আবহ প্রক্ষেপণের দায়িত্বে স্নেহাশিস দে । নবনীতা মুখার্জী দাস নির্দেশনা এবং মঞ্চভাবনার দায়িত্ব পালন করেছেন । সহ নির্দেশক স্বজন সৃজন মুখার্জী । স্বরূপ দাস মাধ্যমে গল্পটি হাতে এলেও নবনীতাদেবীই দিয়েছেন নাট্যরূপ । 

তিনি জানালেন, এই প্রেমহীনতার যুগে প্রেমের বার্তা প্রদানই এই নাটকের মূল বিষয় । শুধু তাই নয় নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার পর এই সময়ের দর্শকের কাছে এই মিষ্টি প্রেমের নাটকটি প্রশংসিতও হয়েছে । প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রযোজনা ব্যয়ে নির্মিত এই নাটক নিয়ে তাঁরা আশাবাদী বলে দলের পক্ষে জানানো হয়েছে ।









Post a Comment

0 Comments