মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ৩১ || সেমন্তী নাট্য সংস্থা প্রযোজিত "একটি তুলসীগাছের কাহিনী" - NEWS THEATRE FORUM

বিজয়কুমার দাস

নৈহাটি শ্যাম রোডের নাট্যদল সেমন্তী নাট্য সংস্থা । দীর্ঘ সময় ধরে থিয়েটার চর্চার সঙ্গে যুক্ত । প্রযোজিত নাটকের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য । থিয়েটারকে ভালবেসেই কিছু মামুষ এই দল গড়েছিলেন । দলের প্রতিষ্ঠাতারা আগে অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । কিন্তু সেই দল খানিকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েকজন একত্রিত হয়ে সেমন্তী নাট্য সংস্থা গড়েছিলেন ১৯৮৭ সালে । যদিও দলের নিবন্ধীকরণ হয়েছে ২০১২-১৩ সালে । ১৯৮৭ সালে দলের প্রথম প্রযোজনা "সময়ের অপেক্ষা " মঞ্চস্থ হয়েছিল । সে নাটকের নাট্যকার এবং নির্দেশক ছিলেন বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী । দলের অন্যতম প্রযোজনা মনোজ মিত্র রচিত "গন্ধজালে" নাটকটি বহু মঞ্চে পুরস্কৃত হয়েছিল । অতীন ভট্টাচার্যর "স্বপ্ন নিয়ে" নাটকটির দুই শতাধিক বার অভিনয় দলকে বিশেষভাবে মর্যাদামণ্ডিত করেছে ।

এই দলের প্রযোজনায় "একটি তুলসীগাছের কাহিনী" নাটকটি সম্প্রতি বেশ কিছু মঞ্চে অভিনীত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে । নৈহাটি ঐকতান মঞ্চে ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নাটকটি প্রথমবার মঞ্চস্থ হয় । কিন্তু তার পরেই করোনার আবহ ঘিরে ফেলে চারদিক । স্বভাবতই লকডাউনের কারণে থমকে যায় এ নাটকের অভিনয় । বাতিল হয়ে যায় নাটকের বেশ কিছু শো । কিন্তু করোনা আবহ কাটতেই আবার শুরু হয়েছে "একটি তুলসীগাছের কাহিনী" নাটকের অভিনয় । দলের সম্পাদক ও বর্তমান নির্দেশক অলোক মিশ্র জানিয়েছেন, নাটকে ১৬ টি চরিত্রের মধ্যে সবাই দলের ছেলেমেয়ে । নাট্য আকাদেমির কর্মশালার মাধ্যমে নাটকটি নির্মিত হয়েছিল ।

বলা বাহুল্য, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ রচিত এই কাহনীটির প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করেই নাটক নির্মাণে এই গল্পটি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল । নাটকের মূল বিষয়ে প্রাধান্য পেয়েছে যে বক্তব্য তা হল, মানবিকতা সবসময় সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধে । গল্প থেকে জানা যায়, দাঙ্গার আতঙ্কের সময়ে একদল মানুষ একটি পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নেয় । অবশেষে সেই ঘরে আবিষ্কৃত হয় একটি তুলসীগাছ । যার থেকে বোঝা যায়, এই পরিত্যক্ত ঘর কোন হিন্দুর । হয়তো কোন হিন্দু বধূ এই তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালত।হয়তো দাঙ্গার কারণেই তারাও ঘর ছেড়ে পালিয়েছে । তবু তুলসীগাছ দেখে ভিন্নধর্মী মানুষগুলি বিব্রত বোধ করে।কিন্তু দেখা যায়, বিবর্ণ তুলসীগাছটি অলক্ষ্যে তাদেরই কারো যত্নে সজীব হয়ে উঠেছে ।

নাটকে ১৬ টি চরিত্রের মধ্যে ৪ টি নারী চরিত্র । নাট্য আকাদেমির কর্মশালায় প্রথমে নাটকটি নির্মিত হয়েছিল । নৈহাটি ঐকতান মঞ্চ, দমদম থিয়েএপেক্স, অশোকনগরের অমল আলো,  কলকাতার মধুসূদন মঞ্চে -এ পর্যন্ত নাটকটি অভিনীত হয়েছে । এই নাটকের আগে সেমন্তী নাট্য সংস্থা অন্তত ৩০  টি নাটক প্রযোজনা করেছে । দলের সবাই মনে করে, এ নাটকের কাহিনীর একটা চিরকালীন আবেদন আছে । তাই একটি নাট্যদল হিসাবে এটি তাদের দায়বদ্ধ প্রযোজনা।এ নাটকের মঞ্চায়ন চলবে ।

Post a Comment

0 Comments