রঞ্জন রায়
কোনো নির্দিষ্ট পথে, নির্দিষ্ট নিয়মে থিয়েটার তার চলার সরণিকেকে বেঁধে রাখেনি । রাজপথ, মেঠো পথ, গলি পথে তার বিচরণ । বিকল্প পথের সন্ধান করেছেন আমাদের প্রাজ্ঞ পূর্ব পুরুষেরা । দেশীয় বিদেশীয় সেই বিকল্প পথ ধরেই বর্তমানের নাট্য কর্মীদের আসা যাওয়া । এক সময় এই মহান শিল্প মাধ্যমকে পৃষ্ঠেপোষকতা করেছেন রাজা, জমিদার, এলিট, এডুটাইট, ধনী ব্যক্তিবর্গ । করছে গণতান্ত্রিক মঙ্গলময় রাষ্ট্র । এলাকার উৎসাহী ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু প্রথমে এগিয়ে আসতে হয়েছে ব্যক্তিকে । থিয়েটারকে ভালোবেসে, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার ধারাকে প্রবাহমান রাখতে, আরো কিছু সমমনস্ক যুব শক্তিকে পাশে নিয়ে সেই ব্যক্তি সজোরে ডাক দিয়েছেন এই মহান শিল্প মাধ্যমকে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবার । চলমান এই শিল্প প্রায় ১০০০০ বছরের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে ।

দলের নাম "ইনসাইড আউট'', সাকিন বর্ধমান, ব্যক্তি সৌম্য দেব । ১৯৯৫ সালে তার ২০ বছর বয়সে সিরিয়াস নাট্য চর্চার শুরু । হাত ধরে ছিলো শক্তিগড় নাট্যওয়ালা দলের প্রয়াত নাট্য গুরু গৌতম বনিকের । বর্ধমান ড্রামা কলেজ থেকে নাটকে জুনিয়র ডিপ্লোমা । তারপর আরো অনেক দল ঘুরে নিজের নাট্য চর্চার ভূমি "ইনসাইড আউটের" জন্ম । বেশ কিছু মঞ্চ সফল নাটক নির্মানান্তে "প্রতি মাসের থিয়েটার" এর আয়োজন । ইতিমধ্যে নাটকের প্রচার ও প্রসারের জন্য প্রতি শনিবার শুধুমাত্র বর্ধমানের দলগুলিকে, বর্ধমান পৌরসভা বিনামূল্যে "টাউন হল" ব্যবহারের ঘোষণার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে

শুরু হয় ইনসাইড আউটের বিকল্প পথের যাত্রা । এই নিয়মিত নাট্য চর্চার প্রথম আয়োজনের দিন ছিল মে ২০১৯ । এর পর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট এক শনিবার গুলো দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে টাউন হল । বর্ধমানের নাট্য প্রেমী মানুষ এবং আশে পাশে শহর থেকেও দর্শক পৌঁছে যায়। সঙ্গীত, পুতুল নাটক, শ্রুতি নাটক, মূকাভিনয়, বুক স্টল । প্রথম পর্বে ১০ মাসে ১৬ টি নাট্য দল, দ্বিতীয় পর্বে ২রা জানুয়ারি ২০২১ -এ শুরু হয়েও বন্ধ হয়ে যায় মহামারীর অশুভ আঘাতে । ১৫ ই জুলাই ২০২১ -এ সরকারী সিদ্ধান্তে সব নাটকের হল খুলে গেলে আবার ওরা ঝাঁপিয়ে পরে প্রতি মাসের থিয়েটার এর আয়োজনে । তৃতীয় পর্ব শুরু হয়েছে মার্চ ২০২২ থেকে । এ প্রয়াস চলছে চলবে ।
এর মাঝে পৌরসভা বিনা মূল্যে টাউন হল ব্যবহারের আদেশ নামা বাতিল করেছে । ভাড়া বৃদ্ধি করেছে । হলের ভিতরের অবস্থাও বেশ খারাপ ।
আর্থিক দায় বহন... কিন্তু ইচ্ছা শক্তির কাছে সব বাঁধাই পরাজিত করে । এ শিক্ষা আমরা ইতিহাস থেকে পেয়েছি । জয়ী হোক, দীর্ঘ স্থায়ী হোক ইনসাইড আউটের এই উদ্যোগ । 
0 Comments