মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ২৯ || অশোকনগর অন্তহীন কলাক্ষেত্র প্রযোজনা "উল্কা" - NEWS THEATRE FORUM

 


বিজয়কুমার দাস

উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরে থিয়েটার চর্চা বেশ উল্লেখযোগ্য । এখানেই অন্তহীন কলাক্ষেত্র নামের দলটি গড়ে উঠেছিল ২০১৮ সালে । সমমনষ্ক ৩ চিত্রশিল্পী এবং ৪ জন থিয়েটারকর্মী মিলে এই অশোকনগর অন্তহীন কলাক্ষেত্র গড়ে তুলেছিলেন । থিয়েটার আর চিত্রচর্চা এই দুই এর মেলবন্ধনে এই সংগঠন কাজ করে চলেছে দায়িত্বের সঙ্গে । অন্তহীন ইন্টিমেট স্পেস এন্ড আর্ট গ্যালারিতে চিত্র ও নাট্য কর্মশালার মাধ্যমে ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল পথ চলা । দলের রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২০১৯-২০২২ সালে । এই দলের সম্পাদক ও নির্দেশক পৃথা চৌধুরী।পৃথা একজন বাচিক শিল্পী । প্রথিতযশা আবৃত্তিকারদের কাছে আবৃত্তি শিখেছেন । অন্তহীন কলাক্ষেত্র এখন থিয়েটারের আঙিনাতেও সুপরিচিত হয়ে উঠেছে । ২০২০ সালে হুমায়ূন আহমেদ এর মূল রচনার আশ্রয়ে পৃথা চৌধুরীর নাট্যরূপে ও সুশান্ত বসুর নির্দেশনায় "বাসায় কেউ নেই" এই দলের প্রথম প্রযোজিত নাটক দর্শক সমাদৃত হয়।দলের আর একটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা হল শিবরাম চক্রবর্তীর রচনা অবলম্বনে "কালান্তক লাল ফিতা" সবচেয়ে বেশিবার অভিনীত হয়েছে ।

সম্প্রতি এই দলের নতুন প্রযোজনা "উল্কা" মঞ্চস্থ হয়ে আরো একবার দর্শকের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে । ২০২২ এর ১৭ জুন অন্তহীন ইন্টিমেট স্পেস এন্ড আর্ট গ্যালারিতে মঞ্চস্থ হল এই নাটক । শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাহিনি "বিষকন্যা" অবলম্বনে এই নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন পৃথা চৌধুরী । তিনি জানালেন, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক রচনাবলী থেকে তিনি "বিষকন্যা" রচনাটি সংগ্রহ করে নাট্যরূপ দিয়েছিলেন । নাট্যরূপের পাশাপাশি আবহ, পোশাক ও প্রয়োগের দায়িত্বও সামাল দিয়েছেন তিন । নাটকে স্ত্রী চরিত্রের প্রাধান্য । অর্থাৎ মোট ৬ টা চরিত্রের মধ্যে ৫ টি মহিলা চরিত্র এবং ১ টি পুরুষ চরিত্র । অভিনেতা অভিনেত্রীরা প্রত্যেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত । দলের এটি পঞ্চম প্রযোজনা ।

নাটকে গুরুত্বপূর্ণ হল কথক চরিত্রটি । কথক এই নাটকে ঐতিহাসিক  প্রকরণ ও মুহূর্তের সাথে বর্তমানের এবং একই সঙ্গে মহাকাব্যিক অনুভূতিরর মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এক অনন্য গতিময়তার সঙ্গে । বর্তমান সময় থেকে ২৪ শতাব্দী আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা পরম্পরা, যা মানব সম্পদকে বারবার দাবার গুটির মত সমাজ, সংসার ও রাজনীতির প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেই প্রয়োজন কীভাবে নখদন্ত বিস্তার করে নারীর ওপর সুকৌশলে প্রয়োগ করা হয়েছে - এ নাটকে সেটাই উপস্থাপন করা হয়েছে ।

কথকতাকে আশ্রয় করে ক্ষমতালোলুপ রাষ্ট্রনেতাদের নিজের স্বার্থে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তোলার কাহিনি তুলে ধরা  হয়েছে । মানব সম্পদের জয়গান গাওয়া হয়েছে এ নাটকে ।  পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শাসকের নিয়ন্ত্রণ শক্তি ও রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধ হানাহানির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা হয়েছে । কথকতার সঙ্গে দৃশ্যকল্পের মনোগ্রাহী মেলবন্ধন এ নাটকের সাফল্যের সোপান । সমগ্র প্রযোজনায় বাচিক,নৃত্য ও মূকাভিনয়ের সমন্বয় এ নাটকের আর এক বৈশিষ্ট্য । ঐতিহাসিক কাহিনীর আশ্রয়ে নাট্যকার এ নাটককে করে তুলেছেন সমকালীন ।

নাট্যকার পৃথা চৌধুরী নিজে কথক চরিত্রে অভিনয় করেছেন । উল্কা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সায়নী সিংহরায় । অন্তহীন ইন্টিমেট স্পেস এণ্ড আর্ট গ্যালারী এই দলের নিজস্ব অভিনয় অঙ্গন । এখানে প্রথমবার অভিনয়ের পরে দমদম থিয়েএপেক্সেও অভিনীত হয়েছে নাটকটি ।

একটি ঐতিহাসিক কাহিনিকে সমকালীন মোড়কে মুড়ে, নাচ, কথকতা, মূকাভিনয় প্রভৃতি নান্দনিক শিল্পের প্রয়োগে "উল্কা" একটি ভিন্ন স্বাদের নাটক হতে চেয়েছে । এই মত নাট্যকার, অভিনেত্রী পৃথা চৌধুরীর । নাটকের মঞ্চনির্মাণে দেবমিত্র চৌধুরী, আলোক পরিকল্পনায় বরুণ কর, রূপসজ্জায় অলক দেবনাথ দায়িত্ব পালন করেছেন ।



Post a Comment

0 Comments