বিজয় কুমার দাস
সবুজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নামে দলটির সম্পদ একদল সবুজ ছেলেমেয়ে । থিয়েটারটাকে যারা মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসে । থিয়েটার নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিচালক রাজেশ দেবনাথের প্রেরণায়।যদিও দলটির শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে শ্রুতিনাটক চর্চাকে সামনে রেখে, কিন্তু ২০০৯ থেকে তারা প্রসেনিয়াম থিয়েটারে মনোনিবেশ করে । ২০১০ সালে দলের নিবন্ধীকরণ হয় ।সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের গল্প অবলম্বনে তনয় মজুমদারের নাট্যরূপে "ফালতু" নাটক দিয়ে তাদের পথচলা শুরু হয়েছিল । দলটির ঠিকানা যদিও অশোকনগর তবু দমদমেই তাদের নাট্যচর্চা, মহলা চলে।অশোকনগর শহিদ সদনেই দলের প্রথম প্রযোজনা মঞ্চস্থ হয়েছিল । পরে লেডি ম্যাকবেথ, মিরর, ওয়েটিং ফর ইউ, আন্তিগোণে, রাজা অয়েদিপাউস ইত্যাদি নাটক মঞ্চে এনে থিয়েটার মহলে অন্যরকম ভাবনাচিন্তার নজির সৃষ্টি করে পরিচিত হয়ে উঠেছে সবুজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ।
এই দলের প্রযোজনা "গালি দিবেননি কাক্কা" বেশ আলোড়ন তুলেছে থিয়েটার মহলে । অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি এ এমন নাটক যা দেখলে গালি দিতে ইচ্ছে করে ?... নাকি নাটকের সংলাপে স্ল্যাং শব্দের ব্যবহার আছে বলেই নাটকের এমন নামকরণ ?... অভিনবত্ব কিছু থাকলে তা কোথায় ? বিষয়বস্তুতে ? নাকি উপস্থাপনায় ? দলের নাট্যকার, নির্দেশক রাজেশ দেবনাথ নাটকটি প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন, কেন এমন নামকরণ তা জানতে হলে নাটকটি দেখতে হবে । তবে এটা একটা ডার্ক কমেডি । বিষয় অবশ্যই সমকালীন রাজনীতি ।রাজনীতিতে যে অবক্ষয়, নীতিহীনতা, আদর্শচ্যুতি, চলছে তা অকপটে বলা হয়েছে এ নাটকে।রাজনীতির জগতের অনেকের সঙ্গেই এ নাটকের চরিত্রগুলির মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে । একটা থিয়েটারের দলের অন্যতম দায়িত্ব তো সমকালকে তুলে ধরা । এ নাটকে কোন রাখঢাক না রেখে সেই দায়বদ্ধতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । তিনি আরো জানালেন, নাটক দেখে দর্শক কিন্তু এমন নাটক মঞ্চে আনার সাহসকে অভিনন্দিতই করেছে । কমেডির ছলে খুব সরাসরি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে এ নাটকে রাজনীতির কথা বলা হয়েছে । রাষ্ট্র রাজনীতির অনেক বাস্তব চরিত্রের ছায়া আছে এ নাটকের অনেক চরিত্রে।নাটকের চমক আছে প্রজেকশনে গানের ভিডিও ও কিছু দৃশ্য দেখানোর মধ্যে ।
রবীন্দ্র ভারতীর নাটক বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্র ও NSD এর পরিচালনা বিষয়ক কর্মশালার অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজেশ এ নাটক নির্মাণ করেছে তার কায়িক ও মানসিক শ্রমের সবটুকু উজার করে । ২০২১ এর নভেম্বরে নাটকটি মিনার্ভা মঞ্চে প্রথম অভিনীত হওয়ার পর গিরিশ মঞ্চে পরপর দু বার অভিনীত হয়েই নাটকটি আলোড়ন তুলেছে ।
২ ঘন্টা ১০ মিনিটের এই নাটকে ৩৫ জন অভিনেতা অভিনেত্রী আছেন।তার মধ্যে ৬ জন অভিনেত্রী।বেশ কিছু ফ্রী ল্যান্সার অভিনেতা অভিনেত্রীকে নেওয়া হয়েছে নাটকে । অভিনেত্রী হিসাবে ঊর্ণাবতী সেন, ন্যান্সি রায়, নবমিতা ঘোষ, পারমিতা ঘোষ প্রমুখ অভিনয় করেছেন । থিয়েটার শাইন এর শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইফটার দেবাশিস দত্ত, বারাসাত কাল্পিক এর দেবব্রত ব্যানার্জীর বিশেষ ভূমিকা আছে এ নাটকে । সেট ডিজাইন করেছেন দেবব্রত ব্যানার্জী, সঙ্গীত পরিচালনা এবং গানের ভিডিও তে দায়িত্ব পালন করেছেন ভাস্কর মুখার্জী । দেবাশিস দত্ত অভিনয় করেছেন । তথাকথিত কোন স্টার নেই, কিন্তু যারা আছে তারা অবিরত থিয়েটারচর্চার সঙ্গে যুক্ত।প্রচুর আলোক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে নাটকে।গানের ব্যবহারে আছে অভিনবত্ব । প্রায় দেড় লক্ষ টাকা প্রযোজনা ব্যয় এ নাটকের । রাজেশ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, আমরা আগে নাটক নিয়ে ভাবি।পরে প্রযোজনা খরচ । কার্পণ্য রাখি না।"আপত্তিকর শব্দে আপত্তি থাকলে কানে তুলো গুজে থাকুন" কিংবা "একটি অপসংস্কৃতিমূলক নাটক" - এ জাতীয় বাক্যবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে নাটকের পোস্টারে।তাতেই বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, "গালি দিবেননি কাক্কা" একটি ভিন্ন ধরণের ছকভাঙা নাটক।





0 Comments