মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ২১ || সুভাষগ্রাম আবির্ভাব থিয়েটারের "কালবৈশাখী" - NEWS THEATRE FORUM

 

 বিজয়কুমার দাস

 দক্ষিণ  ২৪ পরগণার সোনারপুর থানার আর এন চক্রবর্তী রোড হল সুভাষগ্রাম আবির্ভাব থিয়েটারের ঠিকানা।রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার অধীনস্থ সুভাষগ্রামে অবস্থিত এই নাট্যদলটি বয়সে নবীন এবং নতুন প্রজন্মের থিয়েটারপ্রেমী বিশাল ভট্টাচার্যর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দলটি সুপরিচিত হয়ে উঠেছে । ২০২০ সালের ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই দলটি নানা নাট্য উদ্যোগ, নাট্য প্রযোজনা,নাট্য উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের চিনিয়েছে । প্রতিষ্ঠানের  কর্ণধার, সম্পাদক, নির্দেশক বিশাল ভট্টাচার্য নিজে যেমন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি তেমনই থিয়েটারের কাজও করছে নতুন ছেলেমেয়েদের নিয়েই । থিয়েটারকে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া,প্রতিনিয়ত থিয়েটার চর্চার মাধ্যমে দলটি এগিয়ে চলেছে।প্রতিষ্ঠান শুরুর দিন থেকেই দলের মহলা, কর্মশালা হত শোভাবাজার রাজবাড়ির কাছে। কিন্তু নবীন এই দলটি নিজেদের থিয়েটারের কাজকর্মের কেন্দ্র গড়ে তুলেছে সুভাষগ্রামেই । দলে মহিলা সদস্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ।

২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর দলের নিবন্ধীকরণ হয়েছে । ২০২১ এর মার্চ মাসে প্রদীপ চক্রবর্তীর লেখা "কালবৈশাখী" নাটকটি তাদের প্রথম প্রযোজনা । সিনোগ্রাফি ও নির্দেশনা বিশাল ভট্টাচার্যের । এই কালবৈশাখী নাটকটি বহুবার অভিনীত হয়েছে ইতিমধ্যে । কালবৈশাখী নাটকটি ২০২১ এর মার্চে প্রথম অভিনীত হয়েছিল স্টার থিয়েটারে।পরে নাগেরবাজার থিয়েএপেক্স, গিরিশ মঞ্চ, মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে।নাটকটিতে মোট ৫ টি  চরিত্র।তার মধ্যে ২ টি স্ত্রী চরিত্র ও ৩ টি পুরুষ চরিত্র।অভিনেতা অভিনেত্রীরা সবাই দলের।নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযন্ত্রণার কাহিনি এই নাটকে প্রাধান্য পেয়েছে । এমন একটি পরিবারের মেয়ে মিঠুর গায়ের রঙের জন্য বিয়ে না হওয়া,বারবার বিয়ে ভেঙে যাওয়া নিয়ে তার মা বাবার মনোবেদনা নাটকে ফুটে উঠেছে।নবকুমার নামের যুবকটি এই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়।মিঠুর জন্য তার সমবেদনা পরিণত হয় প্রেমে । মিঠুর মনে যন্ত্রণা থেকে হতাশার যে কালবৈশাখী মেঘ উঁকি দিয়েছিল, সেই মেঘ অবশেষে কেটে যায় নবকুমারের বদান্যতায়।মূল নাটকে মিঠু - নবকুমারের মিলন না থাকলেও প্রযোজনার খাতিরে এবং দর্শকের কথা ভেবে নির্দেশক সেই অংশ যুক্ত করেছেন নাটকে ।

নাট্যকার প্রদীপ চক্রবর্তী নির্দেশক বিশাল ভট্টাচার্যের নাট্যগুরু ও নাট্যশিক্ষক । তাই তাঁর অনুমতিক্রমেই নাটকটি অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছে আবির্ভাব থিয়েটার । ২০১৭ সালে গণনাট্য পত্রিকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়েছিল।আনুমানিক ২৫,০০০ টাকা ব্যয় হয়েছে নাটকটির প্রযোজনায় । দলের নিজস্ব মহলাকক্ষ আছে।সেখানেই নাটকের মহলা হয় । কালবৈশাখী নাটকটি দলের প্রথম প্রযোজনা হলেও বিভিন্ন মঞ্চে অভিনীত হয়ে দর্শকদের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে নাটকটি । এক কথায় "কালবৈশাখী" দিয়েই সুভাষগ্রাম আবির্ভাব থিয়েটার নামক নাট্যদলের আবির্ভাব হলেও এ নাটকই চিনিয়েছে দলকে।তাই এই নাটকের প্রতি দলের সবার একটা বিশেষ দুর্বলতা আছে।আগামীতে দলের নাট্যমেলায় মিনার্ভা মঞ্চে অভিনীত হতে চলেছে নাটকটি ।








Post a Comment

0 Comments