মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ১৯ || মালদা অন্যরঙ্গ প্রযোজিত "অথ : চ অনাম্নী" - NEWS THEATRE FORUM

বিজয়কুমার দাস

মালদার অন্যতম নাট্যদল মালদা অন্যরঙ্গ । সৌমেন ভৌমিক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি থিয়েটারে নিবেদিত প্রাণ । তিনি নতুন প্রজন্মকে থিয়েটারমুখী করে তোলার উদ্দেশ্যে তাঁর কিছু ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে গড়ে তোলেন নাট্যদল । এই দলের প্রায় সব সদস্য সদস্যাই নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ।  সবারই বয়স ২৫ এর নিচে।২০২১ সালে দলের নিবন্ধীকরণ হয় । মালদা অন্যরঙ্গ নামে নাট্যদলটি এভাবেই এগোতে শুরু করে সৌমেনবাবুর তত্ত্বাবধানে । মাত্র কয়েক বছরেই বেশ কয়েকটি নাটক প্রযোজনার মাধ্যমে মালদা অন্যরঙ্গ সুপরিচিত হয়ে উঠেছে । সৌমেন ভৌমিক এই দলের সম্পাদক এবং নির্দেশক । ২০২১ সালে নিবন্ধীকরণ হলেও ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে "ফেসবুক - একটি বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ" নাটকটিই তাদের প্রথম প্রযোজনা । নাট্যকার এবং নির্দেশক সৌমেন ভৌমিক । তবে দলের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা অবশ্যই "অথ:চ অনাম্নী" । এছাড়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা হল : The Roma, ফ্যাতাড়ুS, সোঁদামাটি নোনাজল, হৃদ মাঝারে, নিছক খুন নয়,একা সে মাধবী, স্বপ্ন ভাঙার শব্দ । এর মধ্যে বেশিবার অভিনীত নাটক অবশ্যই দলের "অথ : চ অনাম্নী" নামের প্রযোজনাটি । ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর মালদার দুর্গাকিঙ্কর সদনে প্রথমবার অভিনীত হওয়ার পরেই নাটকটি দর্শকদের প্রশংসাধন্য হয়ে ওঠে । মোট ১০ জন কুশীলব এ নাটকে । উল্লেখযোগ্য এই যে, ১০ জন কুশীলবের মধ্যে ৯ জন অভিনেত্রী এবং ১ জন অভিনেতা ।  দলের সদস্য সদস্যারাই এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ।

 নাটকের বিষয়বস্তু এইরকম : পুরুষ দ্বারা শোষিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত হতে হতে এক নারীও হয়ে ওঠে পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ । সে তার অবদমিত লালসা চরিতার্থ করতে চায় । মহাভারতের সময় থেকেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে । তেমনই এক নারীর কথা এ নাটকের বিষয়বস্তু । সে নারীর নাম সত্যবতী । পুরাণের এই চরিত্রই এ নাটকের কেন্দ্রবিন্দু । জানা যায়, বিচিত্রবীর্য ছিলেন অপুত্রক । তার মৃত্যুর পর কুরুবংশ রক্ষার্থে রাজমাতা সত্যবতী ব্রতী হন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় । কিন্তু কাশীরাজ কন্যা অম্বিকা ও অম্বালিকা সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ  হলে সত্যবতী অম্বিকাকে নির্দেশ দেয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্রতী হতে । কিন্তু অম্বিকার কুটিলতায় কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসের ঔরসে রাজপুরীর এক শুদ্রা দাসীর গর্ভে জন্ম হয় পিতামহ ভীষ্মের উপদেষ্টা বিদুরের । কার্যত এই বিদুরই মহাভারতের নিয়ন্ত্রক । কিন্তু সন্তান প্রসবের পরেই সত্যবতীর আদেশে বন্দী হতে হয় সেই দাসীকে । কালের নিয়মে হারিয়ে যায় সেই দাসী । অনাম্নী সেই দাসীকে নিয়েই এ নাটকের গল্প।দাসী রয়ে যায় অনাম্নী হয়েই । সমগ্র নাটক জুড়ে সত্যবতীর জীবন তার পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ হয়ে ওঠার ইতিহাস থেকে শুরু করে অম্বিকা তথা হস্তিনাপুরের রাজনীতি, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, প্রেম, বিরহ, এবং মহাভারতের অসংখ্য না জানা কথা উঠে এসেছে এই নাটকে । 

জানা গেছে, মালদার বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী মধুমিতা কর্মকার নির্দেশক সৌমেন ভৌমিককে একটি নারীকেন্দ্রিক নাটক প্রযোজনার প্রস্তাব দেন । সেই নাট্য নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গেই বুদ্ধদেব বসুর কাব্যনাট্য "অনাম্নী অঙ্গনা"র নাম উঠে আসে । পরবর্তীতে সেটা আশ্রয় করেই দলের সহ পরিচালক তথা সহ নির্দেশক আশাবরী গুপ্ত এটির নাট্যরূপ দেয় ।

পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির আমন্ত্রণে ২১ তম নাট্যমেলায় কলকাতার পর্বে মিনার্ভা মঞ্চে নাটকটি অভিনীত হয়েছে । এছাড়া দমদম শব্দমুগ্ধের আমন্ত্রণে তপন থিয়েটারে, কলকাতা স্বতন্ত্রর আমন্ত্রণে উত্তরপাড়া গণভবনে, রাইনা রায়গঞ্জের আমন্ত্রণে রায়গঞ্জ ইন্সটিটিউট মঞ্চে নাটকটি ইতিমধ্যেই অভিনীত হয়েছে । দলের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৭,০০০ টাকা প্রযোজনা ব্যয় এই নাটকের । এটি মালদা অন্যরঙ্গর ১৬ তম প্রযোজনা ।

Post a Comment

0 Comments