বিজয়কুমার দাস
৮৫/১৩ বি চন্ডী ঘোষ রোড, রিজেন্ট পার্কের দল টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী গড়ে উঠেছিল থিয়েটার করার উদ্দেশ্য নিয়েই । অবশ্য এই গড়ে ওঠার একটা গল্প আছে । নেতাজীনগর ডে কলেজের একটা চিলেকোঠা ঘরে কয়েকজন মিলে "সমুদ্রের সীমানায়" নামে একটা নাটক নির্মাণের কাজ চালাতেন । তাদের দলের নাম ছিল "একটি নাট্যদল" - নাটকটা ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হরিদেবপুর শক্তি সংঘের একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।সেটাই ছিল একটি নাট্যদলের প্রথম প্রযোজনা । কিন্তু নাটকটা প্রথম মঞ্চস্থ হওয়ার পরেই সবাই মিলে ঠিক করেছিল "একটি নাট্যদল" নামটা বদলাতে হবে আর থিয়েটারটা জোরকদমে করতে হবে । পরের দিনই কলেজের ২১ নম্বর রুমে বসে ইন্দ্রনীল,সৌম্যজিৎ,প্রভাত,মাইকেল,সুইটি,প্রিয়ম মিলে ঠিক করে দলের নাম হবে স্বপ্নমৈত্রী।নাটকের দল গড়ে তোলার স্বপ্ন এবং এই স্বপ্নকে কেন্দ্র করে কলেজের কলা,বাণিজ্য,বিজ্ঞান বিভাগের যে মৈত্রী গড়ে উঠেছে তাকে গুরুত্ব দিয়েই স্বপ্নমৈত্রী।২০০৫ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত শখের থিয়েটার হিসাবে কাজ চললেও ২০১৩ সালে নিবন্ধীকরণ হল । দল শুরু করা অনেকেই তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে চাকরীর সন্ধানে ব্যস্ত।সঞ্চয়িতা, অরিজিৎ প্রমুখ কয়েকজন নিবন্ধীকরণে উদ্যোগ নিয়েছিল । নাম হল : টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী । দলের সম্পাদক ও নির্দেশক হলেন ইন্দ্রনীল মুখার্জী ।
যদিও চন্দন সেনের লেখা "সমুদ্রের সীমানায়" নাটককেই তারা প্রথম প্রযোজনা হিসাবে স্বীকৃতি দেয় । পরে চমচমকুমার,আদাব, মুক্তিসোপান,ভূষণ্ডির মাঠ, লুকোচুরি নাটক প্রযোজনা করেছে ।
এই দলের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা হল "খোঁজ" নাটক । ২০২২ সালের ৬ মার্চ নাটকটি টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রীর প্রযোজনায় মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়ে করুণাময়ী সপ্তর্ষি আয়ীজিত নাট্যোৎসবে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েই দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সম্পাদক ও নির্দেশক ইন্দ্রনীল মুখার্জী । নাটকের বিষয়বস্তুটি অভিনব । পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সংগে তাল মিলিয়ে খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও যোগান বাড়ছে না । এমত অবস্থায় এক বিজ্ঞানী নতুন কিছু আবিষ্কারের আশায় গবেষণা শুরু করেন । কিন্তু গবেষনার মাঝেই নিখোঁজ হলেন গবেষকের সহকারী মৌসুমী ও চাকর হরিপদ । ঘটনার সঙ্গে অপরাধ জগতের কোন যোগ আছে কিনা জানার জন্য বিজ্ঞানীর সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রীকে পাঠানো হয়েছিল তার ল্যাবে । সে আসল সত্য খুঁজে বের করতে পারবে কি ?... তাই নিয়ে এই নাটক ।
নাটকটি অমিতাভ রায়ের গল্প অনুসরণে নাট্যরূপ দিয়েছিলেন নাট্যকার তপন পুরকাইত । গল্পটি দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । তবে নাট্যরূপের অনেক পরে নাটকটি প্রযোজনা করেছে টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী । দলের ২০ তম প্রযোজনা এই নাটকটি মধুসূদন মঞ্চে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল । ৫০০০ টাকার মত প্রযোজনা ব্যয় । মোট সাতটি চরিত্র । তার মধ্যে নারী চরিত্র ৩ টি । নাট্যকার তপন পুরকাইত এবং নির্দেশক ইন্দ্রনীল মুখার্জী অভিনয় করেছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে । মঞ্চের দায়িত্বে সুলগ্না বসু, আলোক প্রক্ষেপণ ইন্দ্রনীল দে,আবহ প্রক্ষেপণ সত্রাজিৎ গুপ্ত,গানের দায়িত্বে তনুময় চক্রবর্তী । আগামীতে টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী অনেক অনেক অভিনয় করতে চায় ।
খোঁজ
গল্প - অমিতাভ রায়
নাটক - তপন পুরকাইত
ডঃ জোনাথন - তপন পুরকাইত
ঈশা - সঞ্চয়িতা রায়
ডঃ মুকুল দত্ত - ইন্দ্রনীল মুখার্জী
মদন- দীপ্তনভ চ্যাটার্জী
ম্যাডাম (কন্ঠ) - সুস্মিতা বটব্যাল
মৌসুমী (কন্ঠ) - রিয়া খাতুন
হরিপদ (কন্ঠ) – সৌরভ দত্ত
মঞ্চসজ্জা - সুলগ্না বসু
আলোক প্রক্ষেপণ - ইন্দ্রনীল দে
আবহ প্রক্ষেপণ - সত্রাজিৎ গুপ্ত
গান - তনুময় চক্রবর্তী
মঞ্চ পরিকল্পনা, আবহ ও প্রয়োগ - ইন্দ্রনীল মুখার্জী

0 Comments