মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ১৬ || ইগ্ন্যাশিয়া প্রযোজিত "মৃত্যুর চোখে জল" - News Theatre Forum

 


বিজয়কুমার দাস

দলের নাম ইগ্ন্যাশিয়া । ইগ্ন্যাশিয়া আসলে একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ।বিভিন্ন মানসিক কষ্ট লাঘবের জন্য এই ওষুধ ব্যবহৃত হয় । থিয়েটার মানসিক কষ্ট লাঘবের একটি মাধ্যম - এই সত্যের ওপর বিশ্বাস রেখে দলের সম্পাদক তথা নির্দেশক তাঁদের নাট্যদলের নাম রেখেছিলেন ইগ্ন্যাশিয়া।কলকাতার টালিগঞ্জের কাছে হরিদেবপুরের এই নাট্যদলের নাম অবশ্য আগে ছিল অঙ্গীকার সাংস্কৃতিক চক্র । ইগ্ন্যাশিয়ার সম্পাদক তথা নির্দেশক শ্যামসুন্দর সেনগুপ্ত সূত্রে জানা গেল, তিনি ছোট থেকেই নাটক ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত । চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়েই পাড়ার রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ( ১৯৮৯ সাল)  "ছাত্রের পরীক্ষা" নাটকে অভিনয় করেন।আসলে তাঁর মা স্নিগ্ধা সেনগুপ্ত ও বাবা তেজময় সেনগুপ্ত ছিলেন থিয়েটারে যুক্ত । মা ছিলেন ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের অভিনেত্রী সদস্যা। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মায়ের হাত ধরে শ্যামসুন্দরের গণনাট্যে যোগ ও মাইকেল মধুসূদন  দত্তের "বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ" নাটকে অভিনয় । উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর অঙ্গীকার সাংস্কৃতিক চক্র গড়ে তোলেন শিশুদের নিয়ে নাটক করার উদ্দেশ্যে । সেসময় নাট্যকার মনোজ মিত্রের চমচমকুমার,রাজার পেটে প্রজার পিঠে ইত্যাদি বেশ কিছু নাটক প্রযোজনা করে যোগেশ মাইম একাদেমিতে অভিনয় করিয়েছিলেন ।

২০১৪ সালে সরকারী নিবন্ধীকরণের পর অঙ্গীকার হল ইগ্ন্যাশিয়া । কিন্তু ছোটদের তেমন করে নাটকের জন্য পেলেন না । তাই স্ত্রী বীণা সেনগুপ্তর সক্রিয় সহযোগিতায় শুরু হল বড়দের নিয়ে নাটক।নাট্যকার মনোজ মিত্রের নাটকের ওপর একটা দুর্বলতা ছিলই । তাই বেশ কয়েকটি নাটক করার পর বেছে নিলেন মনোজ মিত্রর লেখা " মৃত্যুর চোখে জল" নাটকটি । এটি দলের দশম প্রযোজনা ।


নাটকের বিষয়বস্তুতে প্রাধান্য পেয়েছে সংসারে বৃদ্ধ মানুষদের অসহায়তার কথা । বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সংসারেই বৃদ্ধ বৃদ্ধারা বোঝা হয়ে ওঠেন । ফলে এই নাটকের বৃদ্ধ চরিত্রটি সংসারে সবার কাছে বিরক্তিকর চরিত্র হয়ে ওঠে । সংসারের কনিষ্ঠ নাবালক ছেলেটি যখন প্রায় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ তখনও নিজের সুস্থতা নিয়েই বেশি সচেতন । শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধের নাতি নাবালক ছেলেটি মারা যায় । তখন বৃদ্ধের স্ত্রী বৃদ্ধকে কাঁদতে কাঁদতে অনুরোধ করে বলে, নাতির মৃত্যুতে কেঁদে যেন বৃদ্ধ সংসারের সবাইকে বুঝিয়ে দেন যে, তাঁরা এখনো বেঁচে আছেন।

নাটকে মোট ১১ টি চরিত্র।তার মধ্যে নারী চরিত্র ৩ টি।অভিনয় করেছিলেন দলের সদস্য সদস্যারাই । নির্দেশক শ্যামসুন্দর সেনগুপ্ত নিজে বঙ্কিম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন । তাঁর স্ত্রী বীণা সেনগুপ্ত অভিনয় করেছিলেন নীহার চরিত্রে।

২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নাটিকটি মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়ে প্রথম অভিনয়ের পরেই দর্শকদের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে । নাটকের আবহ প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন ঈপ্সিতা সেনগুপ্ত, রূপসজ্জা বীণা সেনগুপ্ত । আবহ নির্মাণ, মঞ্চ ভাবনা, নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন শ্যামসুন্দর সেনগুপ্ত । আলোর দায়িত্বে ছিলেন সুশান্ত নীল ঘোষ।

 ইগ্ন্যাশিয়ার প্রথম প্রযোজনা ছিলবনিরূপ মিত্র রচিত ও শ্যামসুন্দর সেনগুপ্ত নির্দেশিত "সহমর্মী" নাটক । এছাড়া বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রজকল্প নাটকটিও দলের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা।তবে "মৃত্যুর চোখে জল" নাটকটি নিয়ে ইগ্ন্যাশিয়া আশাবাদী । আরো বহুবার তারা মঞ্চস্থ করতে চায় এই নাটক ।


মৃত্যুর চোখে জল 

• নাট্যকার

শ্রী মনোজ মিত্র

• চরিত্রাবলী

বঙ্কিম - শ্যাম সুন্দর সেনগুপ্ত

নীহার - বীনা সেনগুপ্ত

বড়ো ছেলে (রবি ) - তপন রায়চৌধুরী

ছোট ছেলে (শম্ভু ) - পার্থ মুখার্জী

পদ - প্রসেনজিৎ হালদার

 বৌমা(কণিকা) - পম্পা রায় 

ডাক্তার - অরিজিৎ ভট্টাচার্য 

ভোট কর্মী - শুভশ্রী রায়

অর্পণ শিকদার

শোভিক চৌধুরী

সৌভিক সাহা

আবহ প্রক্ষেপন ঈপ্সিতা সেনগুপ্ত

রূপসজ্জা - বীনা সেনগুপ্ত

আলো -সুশান্ত নীল ঘোষ

মঞ্চ ভাবনা, আবহ নির্মাণ, সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা - শ্যামসুন্দর সেনগুপ্ত

সহযোগিতা - সুদীপ্ত ভট্টাচার্য, সুশান্ত ভট্টাচার্য, স্নেহাশিস ঘোষ 

প্রথম প্রযোজনা -22/02/2022, মুক্তাঙ্গন রঙালয়

Post a Comment

0 Comments