শিল্প-সংস্কৃতিতে থেকে করতে হবে লক্ষ্য জয়,
পথ যতই দুর্গম হোক, করবো নাকো ভয়।
কাঁকিনাড়া : বাঙালির বাঙালিয়ানায় বহু জিনিস অন্তর্ভুক্ত, শিল্প-সংস্কৃতি তাদের মধ্যে অন্যতম । শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষকে প্রেরণা দেওয়ার কাজ করে চলেছে বহু মানুষ, যাতে এদের অস্তিত্ব বাঙালির মন থেকে বিলুপ্ত না হয়ে যায় । "কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন" এই প্রচেষ্টায় শামিল হওয়া এমনই একটি নাট্যদল, যারা এই লক্ষ্য পূরণের জন্য অনবরত কাজ করে চলেছে,কঠিন পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে ।
গত দু'বছরের মতনই এ বছরেও কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল "তৃতীয় বর্ষের মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব ২০২২" । এই উৎসবের তিনটি বিক্ষিপ্ত পর্ব ছিল । ১৩ ই মার্চ অর্থাৎ রবিবার সকাল ৮ টায় প্রথম পর্বের আয়োজন হয়েছিল "রবীন্দ্রপল্লী বিদ্যালয়" প্রাঙ্গণে, যা ছিল "অঙ্কন ও নৃত্য উৎসব" । বহু খুদেরা "অঙ্কন ও নৃত্য উৎসবে" অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিভার ছাপ তুলে ধরে এবং তাদের নতুন ভাবনার একটি দিক প্রকাশ করে । আর এই উৎসবের ফল বা কিছু বিশেষ চিন্তা ধারাকে জনসমক্ষে স্মরণীয় করার জন্য একটি বিশেষ দিনের উল্লেখ করা হয়েছিল ২০শে মার্চ ।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল "বসন্ত উৎসব" যা ১৮ই মার্চ সকাল ৮ টায় উদযাপিত হয়েছিল । কালিতলার মঞ্চে বহু গান, নাচ, রং-এর মাধ্যমে মানুষের মনোরঞ্জনের চেষ্টা চালিয়েছে "কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন"। খুব রঙিন ও আন্তরিক একটা সকাল উপহার দেয় দর্শকবৃন্দদের, তাদের বসন্ত উৎসবের রং এবং আয়োজনের মাধ্যমে ।
এই সবকিছুর পর আসে অন্তিম এবং মুখ্য পর্ব যার জন্য এতদিন ধরে চলা তোড়জোড় ও পরিশ্রম। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটে, ২০শে মার্চ অর্থাৎ মুক্তমঞ্চ নাট্যোৎসবের তৃতীয় বর্ষ "মাদরাল যুব সংঘ ফুটবল খেলার মাঠে" আনুষ্ঠানিক রূপ পায় । কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের খুদে সৈনিক ও দলের সকলের অবিরাম পরিশ্রমের ফলাফল ফুটে ওঠে সেই দিন । ছোটদের হাতে আঁকা । বড়দের রাত জেগে তৈরী হয় সফেন কাপড়ে রাঙামাটির রূপ দেওয়া হয় মুক্তমঞ্চটিকে । এছাড়াও অঙ্কন উৎসবের আঁকা গুলি ও দলের সকলের কিছু আঁকা,কারুকার্য করা ঘট দিয়ে সজ্জিত করা হয় মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণকে। বহুগুণী ও স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন সেই সন্ধ্যাতে । নাট্যকার শ্রী তীর্থঙ্কর চন্দ, নির্দেশক শ্রী সঞ্জয় গাঙ্গুলী, শ্রীমতি লীনা পাঠক প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি এই সন্ধ্যাটিকে আরো স্মরণীয় ও সাংস্কৃতিক করে তুলেছিল।অনুষ্ঠানের সমগ্র সঞ্চালনায় ছিলেন রণিত পাল । অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বরণের মাধ্যমে । গুনীজনদের বরণ করা হয় কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের সদস্যা লক্ষীর হাতের নিপুনতায় তৈরি উত্তরীয় ও অরিতার রং তুলির সখ্যতায় তৈরি স্মারক দিয়েৎ। তার সাথে সাথেই সৃষ্টির পথে হেঁটে চারাগাছ অতিথিবর্গের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের রীতি বজায় রেখে, তাদের সন্মানিত করা হয়ৎ। তারপর অঙ্কন ও নৃত্য উৎসব এর বাছাই করা কিছু পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ক্ষণের সূচনা হয় 'মোহিত চট্টোপাধ্যায়' রচিত "কৌটো" নামক নাটকের দ্বারা যার পরিচালনায় ছিলেন 'দ্বৈপায়ন' এবং প্রয়োজনায় "ব্যারাকপুর বিসর্গ" । নাটকের এই তালিকায় দ্বিতীয় নাটক ছিল "আতপুর জাগৃতি" প্রয়োজিত "গরব" রচনা 'অভিক দত্ত' পরিচালনায় 'কৃষ্ণ চন্দ্র ঘোষ', তৃতীয় স্থানে ছিল মূকাভিনয় "থিয়েট্রিক্স ঠাকুরনগর" প্রয়োজিত যার পরিচালনায় ছিল 'জগদীশ ঘরামি' । তারপর "খড়দহ আহিরি" প্রযোজিত "মহামারী" নাটক পরিচালনায় ছিল 'আহিরির ছোটরা' এবং সামগ্রিক ভাবনা ও পরিকল্পনায় "অমিত চক্রবর্তী" । এরপর হয় "কালিনগর ঐকতানের" পরিবেশনা। কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনেরখুদে শিল্পীদের একটি ছোট্ট নাটক উপস্থাপিত হয় যার নাম "ঠাস" পরিচালনায় "কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গনের" ছোটরা ও সহায়তায় "রিঙ্কু সরকার"।সর্বশেষ নাটক "হালিশহর আবহমান" প্রয়োজিত লীলা মজুমদার রচিত এবং তীর্থঙ্কর চন্দের পরিচালনায় "দজ্জাল গিন্নী" এবং অবশেষে মুক্ত মঞ্চ ভেসে ওঠে সুর সফরে সেই সন্ধ্যায় উপস্থিত সবাই সুর সফরে যায় "বিহঙ্গ থিয়েটারের" সাথে ।
আর এই ভাবেই আরও একটি ধাপ পেরিয়ে ফেলল কাঁকিনাড়া শিল্পাঙ্গন।মানুষের কাছে শিল্প-সংস্কৃতিকে এই ভাবে তুলে ধরার আরো একটি স্মরণীয় দিনের ছাপ রেখে গেল । দলের সম্পাদক রাজা দে জানান - "এই ৩য় বর্ষ মুক্তমঞ্চ নাট্য উৎসব এলাকার মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও সাংস্কৃতিক তৃষ্ণা তৈরী করেছে। এই উৎসব এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল তৈরী করবে এই আশা রাখি।"
ঠিক এই ভাবেই তারা পথ চলতে থাকুক শিল্প-সংস্কৃতিকে মানুষের কাছে পৌছে দিক,আরও বহু মানুষ শামিল হোক আগামী দিনের জন্য, অনেক শুভেচ্ছা রইল।




0 Comments