বিজয়কুমার দাস
কলকাতার যাদবপুর সংলগ্ন বিজয়গড় মনপ্রাণ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠা ২০১০ সালে।সরকারী অন্তর্ভুক্তিকরণ হয়েছে ২০১১ সালে।প্রায় ১০ বছরের বেশি পথ অতিক্রম করে দলটি একটা নতুন ধরণের বক্তব্যকেন্দ্রিক নাটক প্রযোজনা করে প্রশংসিত হয়েছে । দলের নির্দেশক বিমান ব্যানার্জী জানালেন, তাদের সাম্প্রতিক প্রযোজনা "দূরবীণ" নাটক বেশ কয়েকটি মঞ্চে অভিনীত হয়ে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে । ২০২০-২১ এর করোনাকালীন বিপর্যয়ের মধ্যে নাটক করতে না পারার যন্ত্রণা যেমন ছিল, তেমনই একটা ভাল নাটকের সন্ধানে ছিল এই দল।অবশেষে একটি গল্পের নাট্যরূপ দিয়ে ২০২১ এর ১৫ আগস্ট "দূরবীণ" প্রথম মঞ্চস্থ হয় থিয়েএপেক্স থিয়েটার স্পেসে । প্রথম রজনীর অভিনয়ের দর্শকরা নাটকের গল্পের পাশাপাশি উপস্থাপনের প্রশংসা করেন । দলের পক্ষে বিমান ব্যানার্জী জানালেন, হাংরি জেনারেশনের বিশিষ্ট গল্পকার বাসুদেব দাশগুপ্তর একটি গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এ নাটক । গল্প থেকে নাট্যসূত্র নির্মাণ করেছেন সুদীপ্ত ভুঁইয়া।বিন্যাস ও নির্দেশনায় বিমান ব্যানার্জী ।
নিজেদের নাটকের প্রস্তুতি পর্বের সংবাদ প্রকাশে আগ্রহী
নাটকের দল অবশ্যই যোগাযোগ করুন
লেখক বিজয় কুমার দাস এর সাথে
যোগাযোগ : ৯৪৩৪৩৭৪৯৭৪
CLICK HERE
বিমানবাবু চাকরী সূত্রে বিএসএনএল এর সাথে যুক্ত থাকলেও থিয়েটারে যুক্ত দীর্ঘদিন ।
একসময় প্রেরণা নামে একটি নাট্যদল গড়ে বেশ কিছু নাটক নির্মাণ করেছিলেন । পরে বিজয়গড় মনপ্রাণ দল গড়ে থিয়েটার নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন । কিন্তু করোনাকালে আর পাঁচটা দলের মতই তাঁর দলের অনেকেই ভিন্ন পেশা বেছে নেয় । তবু হাল ছাড়েননি বিমানবাবু । বেশ কয়েকজন থিয়েটারপ্রেমীকে সংগ্রহ করে "দূরবীণ" নাটক তৈরি করেন । এটি দলের ১৮ তম প্রযোজনা ।
এ নাটকের গল্পে একটা ভিন্ন স্বাদ আছে । নাটকের প্রধান পুরুষ এবং নারী চরিত্র সম্পর্কে তুতো ভাইবোন হলেও একে অন্যের প্রতি আসক্ত।ছেলেটি এক বন্ধু মাধ্যমে একটি দূরবীণ হাতে পায় । এই দূরবীণের বিশেষত্ব হল, একজন মানুষকে বাইরে থেকে যেরকম, সেরকম না দেখিয়ে তার অন্তরের অন্ধকার দিকটি তুলে ধরে।ছেলেটির কাছ থেকে দূরবীনটি পেয়ে সেই দূরবীণে মেয়েটি দেখে ছেলেটির কদর্য কামুক রূপ।অন্যদিকে দূরবীণ মাধ্যমে অনেকের মনের অন্ধকার দিক জেনে ফেলার কারণে সমাজ তাদের একঘরে করতে চায়।যেন অভিযোগের অজস্র আগুনের শিখায় যন্ত্রণার আগুনে পুড়ে যেতে চায় ছেলেটি । মেয়েটি বোঝে, আসলে ছেলেটিকে দূরবীণে যেমন দেখিয়েছে সে তেমন নয়।মেয়েটি ভুল থেকে বেরিয়ে এসে মূলস্রোতে ফিরে আসে।নারী পুরুষের সম্পর্ক দেহে? নাকি মনে? নাকি অন্য কিছু ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেয়েছে এ নাটক ।
মোট পাঁচটি চরিত্রের নাটক।৪টি পুরুষ চরিত্র এবং ১ টি নারী চরিত্র । এই পাঁচ চরিত্রে অভিনয় করেছে দলের প্রাণজয়,অমিত,স্নেহাশিস, বিমান,দিয়া । প্রথম শো থিয়েএপেক্স এ হওয়ার পর এই মঞ্চেই বার পাঁচেক বিভিন্ন রবিবার মঞ্চস্থ হয়েছে "দূরবীণ" নাটক।বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রশংসিতও হয়েছে ।
বিজয়গড় মনপ্রাণ দলের অন্যতম আপনজন ছিলেন নাট্যজন রমাপ্রসাদ বণিক । তিনি থাকতেনও এই দলের মহলাকক্ষের পাড়াতেই।কিন্তু দলটি গঠিত হওয়ার এক বছর পরেই রমাবাবু প্রয়াত হন । বিজয়গড় মনপ্রাণই বাংলা আকাদেমি মঞ্চে ২০১১ সালে রমাপ্রসাদ বণিকের স্মরণ সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল । বিজন ভট্টাচার্যর শতবর্ষেও ( ২০১৫ সাল) এই দল অনুষ্ঠান করেছে তাঁকে স্মরণ করে।বিভিন্ন সময়ে দেবদূত ঘোষ, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র বসু, সঞ্জীব সরকার, রঞ্জন গঙ্গোপাধ্যায়রা এই দলের কর্মশালায় নাট্য প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
"দূরবীণ" নাটকের বেশ কয়েকটি শো হয়েছে।নাটকের আবহর দায়িত্ব সামলেছেন কৌশিক সজ্জন । আলোক পরিকল্পনা দেবাশিস দত্তর । প্রক্ষেপণে সুরিন্দর । কার্যত করোনার জড়তাকে সরিয়ে ফেলে "দূরবীণ" নাটক দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে ।
0 Comments