মহলা থেকে মঞ্চে || পর্ব - ১১ || করুণাময়ী সপ্তর্ষি প্রযোজনা 'এখন প্লাবন' - NEWS THEATRE FORUM




 বিজয়কুমার দাস

দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরের  করুণাময়ী সপ্তর্ষি নাট্যদলের নাম এলাকার সবাই জানে । নিয়মিত থিয়েটারচর্চার সঙ্গে জড়িয়ে এই নাট্যদল । অবশ্য প্রথমে নাম ছিল সপ্তর্ষি । তখন সেটা ছিল নিছকই এলাকার যুবকদের ক্লাব । কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে নাটক করার পরিকল্পনাটা শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে । সে বছর দোলের দিন দোলখেলার পর বন্ধুরা মিলে ঠিক করে নাটকের চর্চায় সময় দেওয়া হবে । শুরু হয়ে যায় নাট্যচর্চা । বছরে একবার নাটক থেকে নিয়মিত নাট্যচর্চার শুরু  শ্যামাকান্ত দাসের "গুলশন" নাটকের মাধ্যমে । পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সমীর চৌধুরী । তিনি গণনাট্য প্রান্তিক শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । ২০০০ সাল থেকে সিরিয়াস নাট্যচর্চা সেই "গুলশন" এর মাধ্যমেই । গুলশন নাটকের পর আলিবাবা পাঁচালি, কৃষ্ণ গোবর্ধন, কাঞ্চনরঙ্গ প্রভৃতি নাটকও অভিনীত হয়েছে দলে । দলের পক্ষে তপন পুরকাইত জানিয়েছেন,  তখন বন্ধুবান্ধবরাই অভিনয় করতেনয়। নিজেদের উদ্যোগেই ১৫ টা শো হয়েছিল "গুলশন" নাটকের । কিন্তু অনেকেই সময় দিতে পারলেন না পরে।

 নাটকের প্রস্তুতি পর্বের সংবাদ প্রকাশে আগ্রহী

নাটকের দল অবশ্যই যোগাযোগ করুন

লেখক বিজয় কুমার দাস এর সাথে 

যোগাযোগ : ৯৪৩৪৩৭৪৯৭৪

তপনবাবু  নেতাজীনগর ডে কলেজের বাণিজ্য বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার সূত্রে কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের যুক্ত করেছিলেন নাটকে । শুরু হল জোরকদম নাট্যচর্চা ।

 একদা সপ্তর্ষি ক্লাব নামে পরিচিত সংগঠনটিই নিবন্ধীকরণের পরে ২০০৯ সালে "করুণাময়ী সপ্তর্ষি" নামে পরিচিত হয় । এই দলের সাম্প্রতিক প্রযোজনা "এখন প্লাবন" থিয়েটারের দর্শকদের ভাল লাগার নাটক হয়ে উঠেছে । গণনাট্য পত্রিকায় নাটকটি প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি পড়ে ভাল লেগে যায় দলের সবার।সিদ্ধান্ত হয়, এই নাটকটিই মঞ্চস্থ করা হবে । নাট্যকার শিবঙ্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় ছিলই আগে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার সূত্রে । তাই নাট্যকার শিবঙ্করবাবুর অনুমতিও পাওয়া গেল । মহলা চলল প্রায় মাস পাঁচেক । অভিনয় করল দলের ছেলেমেয়েরাই । অমিত রায়ের পরিচালনায় "এখন প্লাবন" প্রথম মঞ্চস্থ হল পাড়াতেই ৪১ পল্লীর মঞ্চে । সমীর চৌধুরী দলের ছেলেমেয়েদের যেমন থিয়েটারের খুঁটিনাটি শিখিয়েছিলেন তেমনই  দলের অমিত রায়কেই গড়ে তুলেছিলেন পরবর্তীকালের নির্দেশক হিসাবে । দলের সম্পাদকও অমিতবাবুই । যদিও দলের সংগঠক সদস্য তপন পুরকাইতের ছাত্র ইন্দ্রনীল মুখার্জীও দলে বেশ কিছু নাটকে নির্দেশনা দিয়েয়েছেন । ইন্দ্রনীল মুখার্জী পরে স্বপ্নমৈত্রী নামে অন্য একটি দলের দায়িত্ব নেন । তারপর পরিচালনার হাল ধরেছেন অমিত রায় । কাছাকাছি ভাল উপযুক্ত মঞ্চের অভাব আছে । তবু প্রথম অভিনয়েই নাটকটি দর্শকদের প্রশংসা পেল । টালিগঞ্জ রঙ্গব্যঙ্গ অদ্বিতীয়ার নাট্য উৎসবে এবং টালিগঞ্জ স্বপ্নমৈত্রী নাট্য উৎসবেও নাটকটি আমন্ত্রিত হয়ে অভিনীত হল । বেশ কিছু বিশিষ্ট মানুষ দেখলেন নাটক । প্রশংসাও করলেন এমন একটা বিষয় নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করার । বিশিষ্ট অভিনেতা অর্ঘ্য মুখার্জী নাটকটি দেখে মুগ্ধতার কথা বলেছেন । নাটকে মোট ১২ টা চরিত্রের মধ্যে ১০ টা পুরুষ চরিত্র এবং ২ টো নারী চরিত্র ।



নাটকটি দর্শকের ভাললাগার অন্যতম কারণ অবশ্যই নাটকের গল্প । পুরনো জামাকাপড় নিয়ে বাসনপত্র বিক্রি করা মুন্নিকে কিছু অসামাজিক লোকের হাত থেকে ছিনিয়ে আনে সতু । মুন্নিকে রাখা হয় শিক্ষিকা কোয়েল রায় ও তার স্বামী প্লাবনের সংসারে । প্লাবন একসময় সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিল নিবিড়ভাবে । সে সময় তার সব কাজের সঙ্গী ছিল পাড়ার ছেলে সতু । প্লাবন পরবর্তী জীবনে পঙ্গু হয়ে পড়লেও মনের জোর যথেষ্ট । সেই সূত্রেই সতু মুন্নিকে রেখেছিল প্লাবন - কোয়েলের সংসারে । কিন্তু অসামাজিক লোকেদের দলটি শেষ পর্যন্ত মুন্নির জন্য হামলা চালায় প্লাবন - কোয়েলের বাড়িতে । প্লাবন - কোয়েলের ছেলে আকাশ সবসময় ব্যস্ত থাকত মোবাইল নিয়ে । যুদ্ধ যুদ্ধ খেলত মোবাইলে । বাবার এবং সতুর সমাজসেবার কাজ তার পছন্দ ছিল না । বরং বিরক্তই হত । কিন্তু সেই আকাশই সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ।



নির্দেশক অমিত রায় নিজে অভিনয় করেছেন সতু চরিত্রে । প্লাবন ও কোয়েল চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৌশিক গাঙ্গুলি ও প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী । আকাশের বন্ধু হিসাবে মঞ্চে নেমেছেন তপনবাবুর পুত্র অয়ন পুরকাইত । তেমনই প্লাবন চরিত্রের অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলির ছেলে জিৎ গাঙ্গুলি অভিনয় করেছে প্লাবনের ছেলে আকাশ চরিত্রে । অর্থাৎ পিতাপুত্র একই সঙ্গে এই নাটকে অভিনয় করেছে।নাটকের নেপথ্যশিল্পী হিসাবে মঞ্চ ও উপকরণে সমীর দাস ও গণেশ দাস, রূপসজ্জায় অজিত মণ্ডল ও শ্রেয়সী মুখার্জী, আবহ নির্মাণে সৌম্য ঘোষ ও অরিজিৎ দত্ত ভৌমিক, আলোর দায়িত্বে ইন্দ্রনীল মুখার্জী এবং নামাঙ্কনে সুমর্ত্য দত্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

 করুণাময়ী সপ্তর্ষির "এখন প্লাবন" নাটক দলকে সাহস জুগিয়েছে ভাল বিষয়বস্তু নিয়ে নাটক করার।



Post a Comment

0 Comments