বিজয়কুমার দাস
বীরভূমের সিউড়ি শহরের আত্মজ নাট্যদলের কর্ণধার মুকুল সিদ্দিকী থিয়েটারের দুনিয়ায় সুপরিচিত নাম । সুদীর্ঘ সময় ধরে মুকুল সিদ্দিকী থিয়েটার চর্চায় নিয়োজিত । থিয়েটারের প্রতি তাঁর একটা বিশেষ টান আছে । পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরী করার দিনগুলিতেও মুকুল সিদ্দিকী রাজ্যের বিভিন্ন মঞ্চে ছুটে বেড়িয়েছেন থিয়েটারের টানে । সিউড়ির উদয়ন, অচেনা, আনন, এখনই প্রভৃতি দলে নানা নাটকে অভিনয়ের পরে ২০১০ সালে (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের মনের মত করে থিয়েটার করার জন্য আত্মজ নাট্যদল গঠন করেন । নিজের পছন্দের কিছু নাট্যকর্মীর পাশাপাশি নিজের দুই মেয়ে মিমি সিদ্দিকী এবং সঞ্চিতা সিদ্দিকীকেও তিনি তাঁর দলের প্রযোজনায় কাজে লাগান । স্ত্রী কাজী হাসিনা মমতাজ কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের মেয়ে এবং দক্ষ সঙ্গীতশিল্পী ।
নিজেদের নাটকের প্রস্তুতি পর্বের সংবাদ প্রকাশে আগ্রহী
নাটকের দল অবশ্যই যোগাযোগ করুন
লেখক বিজয় কুমার দাস এর সাথে
যোগাযোগ : ৯৪৩৪৩৭৪৯৭৪
আত্মজ নাট্যদল প্রতিষ্ঠার পরে প্রথমদিকের প্রযোজনা নাসিরুদ্দীন মোল্লা, ত্যাগ প্রভৃতি নাটকের মাধ্যমেই নাট্যদল হিসাবে আত্মজ প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় । এরপর ২০১২ সাল নাগাদ আত্মজ "অরূপকথা" নাটক নিয়ে কাজ শুরু করে ।
এই নাটক শুরুর আগের অবশ্য একটা গল্প আছে । ময়ূরাক্ষী গ্রামীণ ব্যাঙ্কের তৎকালীন ডিরেক্টর কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ । লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন শাখা নিয়ে তিনি তথ্যচিত্র নির্মাণ করতেন । ২০০৭-০৮ সাল নাগাদ তিনি বহুরূপীদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে উদ্যোগ নেন । সেই কাজে বিশিষ্ট নাট্যজন রজকুমার সাহা, মোইন খান প্রমুখের সঙ্গে মুকুল সিদ্দিকীও যুক্ত ছিলেন । বীরভূমে লাভপুরের কাছে শীতলগ্রাম নামে একটি গ্রাম আছে । এই গ্রামের বেশ কিছু মানুষ বহুরূপী বৃত্তিজীবী । গ্রামটি বহুরূপীদের গ্রাম হিসাবে পরিচিত । তথ্যচিত্রের প্রয়োজনে সেই গ্রামে গিয়ে বহুরূপীদের জীবন, জীবনযন্ত্রণা, জীবিকা নিয়ে নানা তথ্য জানতে পারেন । তখনই এদের জীবন নিয়ে নাটক করার ইচ্ছাটা তাঁর মাথায় আসে । পরে জেলার সুপরিচিত লেখক, নাট্যকার অতনু বর্মনকে এ কথা জানালে অতনু বহুরূপীদের জীবন নিয়ে নাটক লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন । যথারীতি অতনু বর্মন নাটক লিখে মুকুলকে দিলে মুকুলের পছন্দ হয় । অবশ্য নাট্যকার অতনু প্রথমে এ নাটকের নাম দিয়েছিলেন "ঠিকানা অনন্তপুর" । কিন্তু মুকুলের পরামর্শ অনুসারে পরিবর্তিত নাম হয় "অরূপকথা"। দলের সবার পছন্দের পরে শুরু হয় জোরকদম রিহারসাল । ২০১২ সালের শেষের দিকে রিহারসাল শুরু হয়ে প্রায় সাত মাস রিহারসালে নাটক তৈরি হয়।নাটকের প্রথম শো হয়েছিল ডানকুনি প্রম্পটার দলের আমন্ত্রণে ডানকুনি বিনোদিনী মঞ্চে । ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ এই শো মঞ্চস্থ হয়েছিল ডানকুনিতে । ৩৩ তম শো অভিনীত হয়েছিল সিউড়িতে প্রথমবার ডি আর ডি সি হলে । ২০২২ এর জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলার গ্রাম গঞ্জ শহরের মঞ্চে নাটকটি শতাধিক রজনী অভিনীত হয়েছে । ২০২০ সালে শততম অভিনয় হয়েছিল সিউড়ি রবীন্দ্র সদনে সাড়ম্বরে ।
মোট ৭ জন অভিনেতা অভিনেত্রী । একটি মাত্র নারী চরিত্র।সেই চরিত্রে (বাসন্তী) প্রথমে অভিনয় করতেন সিউড়ির অভিনেত্রী প্রশমিতা দাস।তিনি ৬০ রজনী অভিনয় করার পর ৬১ তম শো থেকে মুকুল সিদ্দিকীর মেয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের ছাত্রী সঞ্চিতা সিদ্দিকী অভিনয় করছেন । সঞ্চিতা অবশ্য তার আগে প্রথম থেকেই এ নাটকে রাম চরিত্রে অভিনয় করতেন।কলকাতার মিনার্ভা, গিরিশ মঞ্চ, সুজাতা সদন সহ চুরুলিয়া নজরুল মেলা, কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, রায়গঞ্জ, চন্ দননগর, বীরনগরসহ নাট্য আকাদেমির নাট্যমেলাতেও অভিনীত হয়েছে "অরূপকথা" নাটক । সর্বত্র মিলেছে প্রশংসা, অভিনন্দন । মুকুল সিদ্দিকী নিজে নাটকের প্রধান চরিত্র গুরুপদ বহুরূপীর ভূমিকায় অভিনয় করেন । নাট্যজন নৃপেন সাহা, কমল সাহা, উৎসব দাস, শিবঙ্কর চক্রবর্তী প্রমুখ বিভিন্ন সময় এ নাটক দেখেছেন ।
নাটকের আবহ মুকুল সিদ্দিকীর পরামর্শ মেনে আবির বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন পাল করেছেন বিভিন্ন সময় । রূপসজ্জার দায়িত্ব সামলে নাটকের পোশাক পরিকল্পনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সনৎ গোস্বামী।আলোর দায়িত্ব পালন করেন আলোকশিল্পী বিশ্বনাথ বিশ্বাস ।
অরূপকথা নাটক বিষয়বস্তু এবং অবশ্যই মুকুল সিদ্দিকী সহ অন্যান্যদের অভিনয়ের গুণে একটি অনন্য প্রযোজনা হিসাবে চিহ্নিত ।
0 Comments