বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে 'সাহস উৎসব' ২০২২, আয়োজনে 'সহসা' - NEWS THEATRE FORUM


নিজস্ব প্রতিনিধি : গতকাল ১৯ জানুয়ারি ২০২২ থেকে বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে শুরু হয়ে গেলো ৩ দিনের 'সাহস উৎসব' । আয়োজনে বহরমপুর 'সহসা' ।

নামটা শুনেই প্রথমে একটা কৌতুহল জাগতে পারে সকলের, মনে হতে পারে, তাহলে আমরা কি খুব ভীত ? নাকি আমরা অনেক বেশি সাহসী ?

বহরমপুর 'সহসা' ও EZCC  (Eastern Zonal Cultural Centre) কতৃপক্ষ এমন এক উৎসব আয়োজন করেছে, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাধারণ মানুষকে চিন্তার জগতে প্রবেশ করিয়ে বুদ্ধির চর্চাকে উৎসাহিত করতে পারে । 

একাধিক সংস্কৃতির সমাহার নিয়ে বহরমপুর মেতে থাকবে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি ২০২২, টানা ৩ দিন । থাকছে সিনেমা, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, আলোচনা চক্র, অঙ্কন প্রর্দশনী ইত্যদি সমস্ত ধরনের শিল্প চর্চা । শিল্প চর্চাই একমাত্র পথ যা 'মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়' ।

বর্তমান সময়ে আমরা বড্ড বেশী ভীত, ক্রমশ সময়ের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি । ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছি । আর এই কঠিন সময়ে সংঘটিত হবার একমাত্র পথ সংস্কৃতি চর্চা । কারন শিল্প আপনাকে চিন্তা করতে শেখাবে । চিন্তা আপনাকে প্রশ্ন করতে শেখাবে । আর আপনি যত বেশি প্রশ্ন করবেন ততই সাহসী হয়ে উঠবেন ।

এদিন রবীন্দ্র সদনের মূল ফাটকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, EZCC ডিরেক্টর শ্রীমতি গৌরী বসু মহাশয়া । প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর এর ভূমিপুত্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী মহাশয়, ডকুমেন্টারী সিনেমার বিশিষ্ট পরিচালক জনাব মুজিবুর রহমান সহ একাধিক গুণিজনেরা । এরপর রবীন্দ্র সদনের দোতলায় 'চিত্রকলা' প্রর্দশনীর উদ্বোধন হয় ও তারপর মূল মঞ্চে অতিথি বরণের মধ্যে দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায় । স্বাগত ভাষণে শ্রীমতি গৌরি বসু বহরমপুর এর সংস্কৃতি চর্চার প্রশংসা করে জানান আগামী দিনে এই অঞ্চলে আরো অনেক কাজ করবে EZCC । শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী উল্লেখ করেন মুর্শিদাবাদ জেলার 'আলকাপ' শিল্প নিয়ে আরো কিছু কাজ করার । 

এরপর মুজিবুর রহমান এর পরিচালনায় ও EZCC প্রযোজনায় ডকুমেন্টারি সিনেমা 'পলাশীর ষড়যন্ত্র : ১৭৫৬-১৭৫৭' এর প্রিমিয়ার শো শুরু হয় । তৎকালীন সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে হয়ে থাকলো এই সিনেমা । মঞ্চস্থ হয় বহরমপুর 'সহসা' প্রযোজিত ও শ্রী সন্দীপ বাগচী রচিত, নির্দেশিত নাটক 'অবতার' । এই প্রযোজনাটি শিক্ষামূলক এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল । 'অবতার' নাটকের ভাবনা এই সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক । ১৯০৩ সালে বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের সান্নিধ্যে আসেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) । তার নেতৃত্বে বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন 'যুগান্তর দল' এর বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড নিয়েই এই প্রযোজনা রচিত হয়েছে, উঠে এসেছে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু সহ একাধিক বিপ্লবীদের আত্ম বলিদান এর কথা । প্রত্যেক শিল্পীর সুনিপুন অভিনয় দক্ষতা, আলোক পরিকল্পনা, রূপসজ্জা ও মঞ্চসজ্জার সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার এই নাটককে অন্য মাত্রা দিয়েছে ।

নির্দেশক সন্দীপ বাগচী জানান, আমরা প্রথমে আমাদের দলের নাম দিতে চেয়েছিলাম 'সাহস' । কিন্তু সাহস দেখানো কি এতই সোজা ব্যাপার ? তাই 'সাহস' নাম রাখার সাহস তখন আমরা দেখাতে পারিনি । তাই এই শব্দকে আয়নার সামনে ধরে দেখলাম নামটি 'সহসা' হয়ে গিয়েছে । তারপর থেকেই এই নাম । 'সাহস' উৎসবের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন ও সমস্ত সংস্কৃতি'র মিলনক্ষেত্র উপহার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ।







Post a Comment

0 Comments