মহলা থেকে মঞ্চে পর্ব - ২ - থিয়েটার ওয়ার্কার্স রেপার্টারির নাটক 'অরূপকথা' - NEWS THEATRE FORUM


বিজয়কুমার দাস

হাওড়ার থিয়েটার ওয়ার্কার্স রেপার্টারি নাট্যদলের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ মে । মুষ্টিমেয় কিছু নাট্যবন্ধু নিয়ে নাট্যজনদের প্রেরণায় সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এই নাট্যদল গড়েছিলেন । প্রথম থেকেই সৌরভের উদ্দেশ্য ছিল একটু ভিন্ন স্বাদের নাটক প্রযোজনা করে জেলায় জেলায় থিয়েটার করার । ঋত্বিক ঘটকের 'জ্বালা', মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের 'কৌটো', মুনীর চৌধুরীর 'কবর' ইত্যাদি নাটক প্রযোজনা করে দলটি পরিচিত হয়ে ওঠে থিয়েটার মহলে । সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ই এই দলের নির্দেশক । বাংলাদেশের অঙ্কুর নাট্য আকাদেমির সঙ্গে সৌরভের সৌহার্দ্যের সম্পর্ক । তাদের দলে নাটক নির্দেশনার দায়িত্ব পেয়ে সৌরভ নতুন নাটক খুঁজছিল।ভাবনা ছিল, পুরাণ আশ্রিত কোন প্রযোজনার।অবশেষে মাচার মানুষ নাট্যদলের নির্দেশক, নাট্যকার সুচরিতা বড়ুয়া চট্টোপাধ্যায়কে সৌরভ অনুরোধ করে মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা চরিত্রকে সামনে রেখে একটা নাটক লিখে দিতে । অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও সুচরিতা "অরূপকথা" নামে একটি একক নাটক লিখে দেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে । বিষয় অবশ্যই চিত্রাঙ্গদা।কিন্তু একক নাটকে যেহেতু দলের অনেকেই অভিনয় থেকে বঞ্চিত হবে তাই অঙ্কুর নাটকটি করতে চায় না।এরপর সৌরভ ঠিক করে, নিজের দলেই " অরূপকথা " মঞ্চস্থ করবে।শুরু হল প্রস্তুতি।সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন নাট্যকার সুচরিতাও।



      চিত্রাঙ্গদার মধ্যে যেহেতু নারী ও পুরুষ স্বভাব বিদ্যমান তাই অনুসন্ধান শুরু হল উপযুক্ত শিল্পীর।নাটকে একই সঙ্গে একজনকে অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদার ভূমিকা পালন করতে হবে।সৌরভ ফেসবুকের মাধ্যমে সন্ধান পেল রাজ দাসের।রাজ ফেসবুকে নানা লেখা, কবিতা পোস্ট করত।অভিনয়ের সঙ্গে এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সঙ্গেও যুক্ত।প্রস্তাব গেল রাজের কাছে।রাজ নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়তে চাইল।
নাট্যকার সুচরিতা ও নির্দেশক সৌরভের উপস্থিতিতে সুচরিতার বাড়িতে রাজকে শোনানো  হল নাটক।রাজি হয়ে গেল সে।নাট্যকার সুচরিতা জানালেন, একদিন নয় - এরপর দিনের পর দিন রাজকে নিয়ে সিটিং হয়েছে।রাজ মুখস্থ করে ফেলল নাটকের চরিত্রের ভূমিকা।দিনের পর দিন রাজ চরিত্রটি নিয়ে ভেবেছে।নিজের পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছে রিহারসালে।


রাজ দাস তো চরিত্রটি পেয়ে অভিভূত।নাটকের আবহ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।রবীন্দ্রনাথের গানগুলি গাইলেন সুচরিতার সহকর্মী শিক্ষিকা লোপামুদ্রা মুখোপাধ্যায়। মাচার মানুষ দলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়,সুচারু নাট্যদলের কিরিট বর্ধন, জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় ( আলোকশিল্পী) প্রমুখ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।পোশাক পরিকল্পনা করেছেন সুমনা চক্রবর্তী।কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব নিয়েছেন অভিষেক দত্ত।সুচরিতার বাড়ি ছাড়াও অভিনেতা অচিন্ত্য দত্তের বাড়িতে হয়েছে রিহারসাল।প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনিও।

নিজেদের নাটকের প্রস্তুতি পর্বের সংবাদ প্রকাশে আগ্রহী

নাটকের দল অবশ্যই যোগাযোগ করুন

লেখক বিজয় কুমার দাস এর সাথে 

যোগাযোগ : ৯৪৩৪৩৭৪৯৭৪


অবশেষে দীর্ঘ রিহারসালের পর ২০১৯ এর ১ সেপ্টেম্বর তৃপ্তি মিত্র সভাগৃহে প্রথম অভিনয়েই " অরূপকথা" প্রশংসিত হল।অভিনয়ের জন্য অভিনন্দিত হল রাজ দাস।তারপর থেকে "অরূপকথা" বহুবার বহু মঞ্চে অভিনয় হয়েছে।বাংলাদেশের অনন্ত হীরা,নুনা আফরোজ,খোরশেদুল সহ এই বঙ্গের সৌমিত্র বসু,প্রকাশ ভট্টাচার্য,কমল সাহা প্রমুখ বিশিষ্টরা দেখেছেন এই নাটক।নির্দেশক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, ত্রিপুরা উড়িষ্যা থেকেও আমন্ত্রিত অভিনয়ের ডাক এসেছে এ নাটকের।চিত্রাঙ্গদা চরিত্রের বীরত্ব,বেদনা,প্রেম রাজ দাস তার অভিনয়ে জীবন্ত করে তুলেছে- এই অভিমত অনেক নাট্যজনের।মঞ্চের পাশাপাশি অঙ্গনেও অভিনয় হয়েছে অরূপকথা নাটকের।এভাবেই এগিয়ে চলেছে থিয়েটার ওয়ার্কার্স রেপার্টারির " অরূপকথা " নাটক।



Post a Comment

0 Comments