রঙ্গসেণার রঙ্গ উৎসবের শেষ দিন শ্রীচরণকমলেষু - THEATRE FORUM






২৪শে জুলাই ছিল রঙ্গসেণার রঙ্গ উৎসবের শেষ দিন । সেই দিন রঙ্গসেণার নিজের ঘরের নাটক ছিল "শ্রীচরণকমলেষু ", নির্দেশক ও অভিনেতা ধ্রুপদ ঘোষ । রবি ঠাকুরের "স্ত্রীর পত্র"কে অনুসরণ করে এই নাটক মঞ্চস্থ করেছেন নির্দেশক । 

প্রথম দৃশ্যেই দেখা যাচ্ছে মৃণাল , নাটকের নায়িকা , সে তীর্থে যাবার জন্যে প্রস্তুত এবং বেরোনোর আগে তার স্বামীকে মাটিতে গড় হয়ে প্রণাম করছে । পরের দৃশ্যেই মৃণাল শ্রীক্ষেত্র পৌঁছে গেছে এবং সমুদ্রের জলের ছোঁয়ায় সে মেজো বউ নয় , নিজের স্বাভিমানকে খুঁজে পায় । সৌন্দর্যের মোহে বিয়ে করে এনে সে শুধু শ্বশুর বাড়িতে গঞ্জনাই শুনে গেছে , সে যে একটা স্বতন্ত্র মানুষ সে ধারণাই তার শ্বশুর বাড়িতে কারো ছিল না । কিন্তু মৃণালের বুদ্ধিমত্তা অন্য সব মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল । সে তার সমসাময়িক মেয়েমানুষদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে পেরেছিল । পনের বছরের নিস্তরঙ্গ অসম্মানের বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান মৃণাল বড়ো গিন্নির দুঃখী ও নির্যাতিতা বোনের প্রতি অসম্মান আর অনাদরের প্রতিবাদ করেছিল । যখন মৃণাল দেখলো সংসারে ও সমাজে মেয়েদের কোনো সম্মান নেই , সেইদিন সে ঠিক করে ফেললো খুড়িমার সাথে শ্রীক্ষেত্র চলে যাবে আর ফিরবে না । সেই শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে সে প্রথম তার স্বামীকে চিঠি লিখতে বসলো । তার জীবনের ক্ষোভ , দুঃখ , হতাশা সেই চিঠিতে উগরে দিল । সেই চিঠি লিখতে লিখতে সে কখনও বারো বছরের মেয়ে হয়ে  মল পায়ে কিত কিত খেলে বেড়ায় স্টেজ জুড়ে , কখনও তার বিয়ের সম্বন্ধের গল্প শোনায় , শোনায় কেনো তাকে বউ করে আনা হয়েছিল , অভিমানে আহত সেই দ্বাদশ বর্ষীয়া বালিকা যে জানেই না তার রূপের গুমোর করতে ,যে জানেই না শ্বশুর বাড়ির আবহাওয়া । তার কাছে বিয়ে মানে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া । তবে দ্বাদশ বর্ষীয়া হলেও মৃণালের বুদ্ধি ও লেখাপড়া অন্যদের থেকে একটু বেশিই ছিল । সে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লিখতো । এভাবেই কেটে যাচ্ছিল , গড়বড় হলো বড় বউয়ের দুঃখী বোন বিন্দু ওদের  বাড়িতে আসার পরেই ।  আশ্রয় পেয়ে বিন্দু খুব কুণ্ঠিত ছিল । বড় বউ বাড়ির লোকদের দেখিয়ে দেখিয়ে তার বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করত ,এতে অন্যরাও বিন্দুর সাথে নীচ ব্যবহার করতো । ক্রমশ যেনো বিন্দু গলার কাঁটা হয়ে উঠল । এসবই মৃনালকে কষ্ট দিত ,সে বিন্দুকে বুকে টেনে নিয়েছিল , আশ্বস্ত করেছিল কেউ না থাকলেও মৃণাল আছে বিন্দুর জন্যে । ক্রমে ক্রমে বিন্দুর যাপন কণ্টকপূর্ন হয়ে উঠলো । এসময় এক পাগল পাত্রের সাথে বিন্দুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হোলো মৃণালের অমতে কারণ বাড়ির বউদের কোনো মান দেবার রীতি ছিল না । শ্বশুর বাড়ির অকথ্য অত্যাচারে বিন্দু শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করে । আত্মহত্যার আগে বিন্দু কয়েকবার শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিল প্রাণভয়ে কিন্তু তাকে কেউ আশ্রয় দেয়নি ।

 মৃণাল চেয়েছিল আশ্রয় দিতে কিন্তু তার স্বামী আশ্রয় দিতে দেয়নি । সে ফিরে যায় শ্বশুর বাড়িতে এবং পরিণামে আত্মহত্যা করে । এই ব্যথা মৃণালের মর্মে বেজেছিল ।  সে তার শ্বশুর বাড়ির লোকদের এমতব্যবহারে রাগে , দুঃখে ঘেন্নায় নিজেকে সরিয়ে ফেলার মনস্থির করে । এসময় মৃণালের স্বামীর  এক খুড়ি মা শ্রীক্ষেত্রে যাবার তোড়জোড় করতে থাকল। তখন মৃণাল শ্বশুরবাড়িতে জানায় সে খুড়িমার সাথে শ্রীক্ষেত্রে যেতে চায় এবং চলে আসে । মৃণাল এই চিঠির মাধ্যমে তার স্বামীকে জানায় সে আর ফিরবে না । কারণ সে বুঝেছে সংসারে মেয়েদের কি পরিণাম হয় ? সে তার স্বাভিমান কে বজায় রেখে বেঁচে রইলো *উৎসব শেষে - শ্রীচরণকমলেষু, রঙ্গসেণা*


২৪শে জুলাই ছিল রঙ্গসেণার রঙ্গ উৎসবের শেষ দিন । সেই দিন রঙ্গসেণার নিজের ঘরের নাটক ছিল "শ্রীচরণকমলেষু ", নির্দেশক ও অভিনেতা ধ্রুপদ ঘোষ । রবি ঠাকুরের "স্ত্রীর পত্র"কে অনুসরণ করে এই নাটক মঞ্চস্থ করেছেন নির্দেশক । 

প্রথম দৃশ্যেই দেখা যাচ্ছে মৃণাল , নাটকের নায়িকা , সে তীর্থে যাবার জন্যে প্রস্তুত এবং বেরোনোর আগে তার স্বামীকে মাটিতে গড় হয়ে প্রণাম করছে । পরের দৃশ্যেই মৃণাল শ্রীক্ষেত্র পৌঁছে গেছে এবং সমুদ্রের জলের ছোঁয়ায় সে মেজো বউ নয় , নিজের স্বাভিমানকে খুঁজে পায় । সৌন্দর্যের মোহে বিয়ে করে এনে সে শুধু শ্বশুর বাড়িতে গঞ্জনাই শুনে গেছে , সে যে একটা স্বতন্ত্র মানুষ সে ধারণাই তার শ্বশুর বাড়িতে কারো ছিল না । কিন্তু মৃণালের বুদ্ধিমত্তা অন্য সব মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল । সে তার সমসাময়িক মেয়েমানুষদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে পেরেছিল । পনের বছরের নিস্তরঙ্গ অসম্মানের বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান মৃণাল বড়ো গিন্নির দুঃখী ও নির্যাতিতা বোনের প্রতি অসম্মান আর অনাদরের প্রতিবাদ করেছিল । যখন মৃণাল দেখলো সংসারে ও সমাজে মেয়েদের কোনো সম্মান নেই , সেইদিন সে ঠিক করে ফেললো খুড়িমার সাথে শ্রীক্ষেত্র চলে যাবে আর ফিরবে না । সেই শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে সে প্রথম তার স্বামীকে চিঠি লিখতে বসলো । তার জীবনের ক্ষোভ , দুঃখ , হতাশা সেই চিঠিতে উগরে দিল । সেই চিঠি লিখতে লিখতে সে কখনও বারো বছরের মেয়ে হয়ে  মল পায়ে কিত কিত খেলে বেড়ায় স্টেজ জুড়ে , কখনও তার বিয়ের সম্বন্ধের গল্প শোনায় , শোনায় কেনো তাকে বউ করে আনা হয়েছিল , অভিমানে আহত সেই দ্বাদশ বর্ষীয়া বালিকা যে জানেই না তার রূপের গুমোর করতে ,যে জানেই না শ্বশুর বাড়ির আবহাওয়া । তার কাছে বিয়ে মানে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া । তবে দ্বাদশ বর্ষীয়া হলেও মৃণালের বুদ্ধি ও লেখাপড়া অন্যদের থেকে একটু বেশিই ছিল । সে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লিখতো । এভাবেই কেটে যাচ্ছিল , গড়বড় হলো বড় বউয়ের দুঃখী বোন বিন্দু ওদের  বাড়িতে আসার পরেই ।  আশ্রয় পেয়ে বিন্দু খুব কুণ্ঠিত ছিল । বড় বউ বাড়ির লোকদের দেখিয়ে দেখিয়ে তার বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করত ,এতে অন্যরাও বিন্দুর সাথে নীচ ব্যবহার করতো । ক্রমশ যেনো বিন্দু গলার কাঁটা হয়ে উঠল । এসবই মৃনালকে কষ্ট দিত ,সে বিন্দুকে বুকে টেনে নিয়েছিল , আশ্বস্ত করেছিল কেউ না থাকলেও মৃণাল আছে বিন্দুর জন্যে । ক্রমে ক্রমে বিন্দুর যাপন কণ্টকপূর্ন হয়ে উঠলো । এসময় এক পাগল পাত্রের সাথে বিন্দুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হোলো মৃণালের অমতে কারণ বাড়ির বউদের কোনো মান দেবার রীতি ছিল না । শ্বশুর বাড়ির অকথ্য অত্যাচারে বিন্দু শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করে । আত্মহত্যার আগে বিন্দু কয়েকবার শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিল প্রাণভয়ে কিন্তু তাকে কেউ আশ্রয় দেয়নি ।


 মৃণাল চেয়েছিল আশ্রয় দিতে কিন্তু তার স্বামী আশ্রয় দিতে দেয়নি । সে ফিরে যায় শ্বশুর বাড়িতে এবং পরিণামে আত্মহত্যা করে । এই ব্যথা মৃণালের মর্মে বেজেছিল ।  সে তার শ্বশুর বাড়ির লোকদের এমতব্যবহারে রাগে , দুঃখে ঘেন্নায় নিজেকে সরিয়ে ফেলার মনস্থির করে । এসময় মৃণালের স্বামীর  এক খুড়ি মা শ্রীক্ষেত্রে যাবার তোড়জোড় করতে থাকল। তখন মৃণাল শ্বশুরবাড়িতে জানায় সে খুড়িমার সাথে শ্রীক্ষেত্রে যেতে চায় এবং চলে আসে । মৃণাল এই চিঠির মাধ্যমে তার স্বামীকে জানায় সে আর ফিরবে না । কারণ সে বুঝেছে সংসারে মেয়েদের কি পরিণাম হয় ? সে তার স্বাভিমান কে বজায় রেখে বেঁচে রইলো যেভাবে মীরাবাই বেঁচেছিল কৃষ্ণ বিরহে । সে আর ফিরলো না তার স্বামীর কাছে । ধ্রুপদ ঘোষ , একজন পুরুষ হয়েও দুজন নারীর ভূমিকায় যে অভিনয় করলেন তা অবর্ণনীয় । মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখতে হয় । যদিও ধ্রুপদ ঘোষ বললেন , অভিনয়ে ভার্সেটিলিটিই প্রধান । নারী বা পুরুষ যে কারোরই যে কোনো চরিত্র করার পারদর্শিতা থাকা উচিৎ । নাটকে গান ও আলোর কাজ আলাদা করে প্রশংসা পাবার যোগ্য । মীরাবাই বেঁচেছিল কৃষ্ণ বিরহে । সে আর ফিরলো না তার স্বামীর কাছে । 


ধ্রুপদ ঘোষ , একজন পুরুষ হয়েও দুজন নারীর ভূমিকায় যে অভিনয় করলেন তা অবর্ণনীয় । মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখতে হয় । যদিও ধ্রুপদ ঘোষ বললেন , অভিনয়ে ভার্সেটিলিটিই প্রধান । নারী বা পুরুষ যে কারোরই যে কোনো চরিত্র করার পারদর্শিতা থাকা উচিৎ । নাটকে গান ও আলোর কাজ আলাদা করে প্রশংসা পাবার যোগ্য ।

Post a Comment

0 Comments