ভারতীয় নাট্যজগতের দিকপালদের আলোচনা সমূহ - THEATRE FORUM

 


নৈহাটি : গত ১০ই জুলাই শুভ উদ্বোধন হল নৈহাটি রঙ্গসেণার আয়োজিত পঞ্চম রঙ্গোৎসব( দ্বিতীয় পর্যায়) এর দ্বিতীয় জাতীয় নাট‍্যৎসব, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। 

শ্রী ধ্রুপদ ঘোষের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আমাদের দেশের মান্যগণ্য মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমেই স্বাগত ভাষণ দেন রঙ্গসেণার সভাপতি শ্রী দেবব্রত ঘোষ। উপস্থিত বিশিষ্ট জন ও অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজ্যের থিয়েটার গ্রুপ গুলিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অতিমারিতে এরকম অনুষ্ঠান করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তিনি অস্কার ওয়াইল্ডের একটি বিখ্যাত উক্তি এখানে উল্লেখ করেন," আমি বিশ্বাস করি একমাত্র থিয়েটারে সর্ববৃহৎ মাধ্যম অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের থেকে যা খুব দ্রুত একে অন্যকে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে বার্তা প্রদান করে"।



আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অধ্যক্ষ অতিথি মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে শ্রী অশোক মিশ্র, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র লেখক ও কবি( দু'বারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত)। উপস্থিত ছিলেন ড. সেঁজুতি রায় মুখার্জী- অধ্যাপক বিবেকানন্দ কলেজ এবং কোলকাতার বিশিষ্ট অভিনেত্রী। বিশেষ প্রধান অতিথি ছিলেন কেরালার কোচি হতে শ্রী চন্দ্র দাশান, বিশিষ্ট আর্টিস্টিক নির্দেশক "লোকধর্মী" থিয়েটার। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রধান অতিথি শ্রী বলবন্ত ঠাকুর, ডিরেক্টর (আই জি সি আই সি) পোর্ট লুইস, ডিপার্টমেন্ট অফ মৌরিটাস, মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল এ্যফেয়ারস জিও আই, ফরমার সেক্রেটারি অফ জম্মু এন্ড কাশ্মীর, আর্ট কালচারাল এবং লঙ্গুয়েজেস ও জম্মু-কাশ্মীরের "নটরঙ্গ" নাট্যদল বিশিষ্ট অভিনেতা। উপস্থিত ছিলেন ড. ইয়ামনান সদানন্দ যিনি - মণিপুরের কাঙ্গলেই মাইম থিয়েটার রেপার্টরির  বিশিষ্ট নির্দেশক।



অতিমারি পরবর্তী থিয়েটার প্রসঙ্গে প্রথম বক্তব্য রাখেন ড. সেঁজুতি রায় মুখার্জী। তিনি বর্তমান অবস্থা নাট্যকর্মীদের অচল অবস্থার কথা উল্লেখ করেন এবং অতিমারি অতিক্রম করার পর থিয়েটার কর্মীদের নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পরার কথা বলেন। আগামী দিনে সাদা ক্যানভাসে নতুন করে নাটকের ছবি আঁকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।



পরবর্তী বক্তা ছিলেন শ্রী চন্দ্রা দাশান, ওনার বক্তব্য বিষয় ছিল, থিয়েটার ও মানবাধিকার। সামান্য সময়ে অসামান্য বক্তব্য রাখেন শ্রী দাশান, তিনি প্রধানত গ্রামাঞ্চল ও উপজাতি সম্প্রদায়ের সামাজিক অধিকার প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন এবং নাটক গুলি প্রধানত তাদের সমস্যা নিয়ে উপস্থাপনা করার উপরে জোর দেন।

শ্রী বলবন্ত ঠাকুর  মরিশাস থেকে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। তার বক্তব্য বিষয় ছিল, থিয়েটার ও জাতীয় জাতীয়তাবোধ। সুন্দর ব্যাখ্যা করেন কয়েক শতকের নাট্য উপাখ্যান সম্পর্কে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

পরের বক্তা-ড.ইয়ামনান সদানন্দ সিং, ওনার বিষয় ছিল, থিয়েটার ও থিয়েটারের সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা। তিনি বিভিন্ন নাট্য কর্মশালা উল্লেখ করেন এবং প্রয়াত বাদল সরকারের নাট্য গবেষণার প্রতি আলোকপাত করেন। নাটক সর্বত্রগামি হয়ে উঠুক, তার উল্লেখ করেন। মনিপুরী আঞ্চলিক বিভিন্ন নাটক ধর্মী বিষয়কে উল্লেখ করে তিনি নাটককে আরো জীবনমুখী করে তোলার আহ্বান জানান।

সর্বশেষে শ্রী অশোক মিশ্র র প্রেরিত বার্তা শোনানো হয় দর্শকদের সামনে। তিনি নাট্যকর্মীদের আরো সমসাময়িক হয়ে উঠতে আবেদন করেন। এখন এই পরিস্থিতিতে আরো বেশি করে নাটক কে সংরক্ষিত করার বিষয়ে তিনি জোর দেন যা অতীতে আমাদের করা হয়নি সে ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাট্যকর্মীদের আরো বেশি পড়াশোনা ও অন্যান্য সাহিত্যচর্চার প্রতি আকর্ষিত হওয়ার আবেদন রাখেন।

রঙ্গসেণার কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডের ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয় সেদিনের অনুষ্ঠানে।

একটি সাফল্যমন্ডিত শুভারম্ভ দিয়ে ৫ম রঙ্গোৎসব তথা জাতীয় নাট্যোৎসব শুরু হয়।

Post a Comment

0 Comments