অম্বুনাথ সাহা : একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে, সমস্ত মহামারী বিধি-নিষেধ মান্য করে বহরমপুর এর নতুন একটি নাট্য সংস্থা থিয়েটার শূন্য তাদের প্রথম শিশু কিশোর নাট্য কর্মশালার আয়োজন করেছিল ।
তিনদিনের এই নাট্য কর্মশালায় ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সি অনেক শিশু অংশগ্রহণ করে । যেখানে গত দেড় বছরের উপর সমস্ত স্কুল বন্ধ সেখানে বহরমপুর শহরের বুকে থিয়েটার শূন্য একটি নতুন আশার আলো দেখালো । এই শিশু-কিশোর মনগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবদ্ধ হওয়ার পর, বদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে শিশুদের মন আনন্দে ভরে ওঠে গত তিনদিনের এই নাট্য কর্মশালায় । সর্বসাকুল্যে ৩৬ জন নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে ।
থিয়েটার শূন্য এর নির্দেশক সুদীপ্ত মণ্ডল আমাদেরকে জানান, 'ভাবনা ছিল অনেক দিনের, বাচ্চা ছেলেমেয়ে নিয়ে কিছু কাজ করার ওদের জন্য কিছু করার । অনলাইন এ পড়াশোনা । সবাই যদি থিয়েটার এর মাধ্যমে আবার একসাথে মিলে সময় কাটায়, শেখে-জানে; তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে; তবে, ওদের একটু হলেও মানসিক স্বস্তি ঘটবে । আনন্দ হবে ।
সেই কথা মাথায় রেখে নেমে পরা । নজর গেলো তিনটি গ্রামের উপর এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় স্টুডিও অরবিন্দু, পাশে দাঁড়ায় ভাই অনিমেষ । তারপরই কর্মকাণ্ড শুরু ।
ওদের সঙ্গে কী ভাবে তিনটে দিন ফুরিয়ে গেল, বুঝতেই পারলাম না । ওদের উৎসাহ-উদ্দীপনা, ভালোবাসা, কাজ খুব মনে থাকবে । ওদেরকে শেখাতে শিখেছি আমিও । সে এক অন্য অভিজ্ঞতা ।
আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা অনিমেষ সহ সকল শিক্ষার্থীকে, স্টুডিও অরবিন্দু, মনার্ক কলেজ অফ্ এডুকেশনকে ।'
এছাড়াও আগামী দিনে আরো বড় রকমের নাট্য কর্মশালা , নাট্য উৎসবের ও নতুন নতুন নাটক মহড়ার জন্য তারা প্রস্তুতি এখন থেকে শুরু করে দিয়েছে । বিগত দিনগুলিকে যাতে মানুষ ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবনকে ফিরে পেতে পারে সেই দিকে এখন দৃষ্টি আকর্ষণ করা থিয়েটার শূন্যের একমাত্র লক্ষ্য । তাই সমস্ত নাট্যব্যক্তিত্ব ,নাট্যপ্রেমী মানুষ , সর্বসাধারণ মানুষকে তাদের পাশে থাকার জন্য আহব্বান জানাচ্ছে থিয়েটার শূন্য । থিয়েটার কে ভালবাসুন এবং থিয়েটারের পাশে থাকুন ।



0 Comments