সঞ্চিতা বিশ্বাস
বনগাঁ : 'থিয়েটারের হেঁশেল' থিয়েটারের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড, শুরুটা হয়েছিল গত বছর লকডাউন থেকেই । বনগাঁ স্টেশন এবং সংলগ্ন এলাকায় অসহায় মানুষের মুখে তুলে দেওয়া হয় প্রতিদিনের পুষ্টিকর প্রয়োজনীয় খাবার । এবছরও তার ব্যতিক্রম নয় । করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই আবারো লড়াই জারি । এযাবৎকাল যাঁদেরকে দেখা গিয়েছে মঞ্চে অভিনয় করতে, তাঁরাই খুন্তি, কড়াই সহ রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েছেন হেঁশেল সামলাতে । শুধুমাত্র বনগাঁ স্টেশনেই প্রতি রাতে প্রায় ৮০ জন নিরন্ন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে । রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য নাট্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন । বাচ্চাদের জন্য দুধ , ডিম সেদ্ধ, ফল, মিষ্টি থেকে জ্যান্ত মাছের ঝোল, সবজি, মাংস সবই থাকছে মেনুতে । আগামী ৮ জুন হেঁসেলের ১০০ দিন সম্পন্ন হতে চলেছে । গত বছর এই হেঁসেল সম্পন্ন হয় কোচবিহার স্বপ্ন উড়ান আয়োজনে কোচবিহার শহরে, বহরমপুর থিয়েটার রুটস আয়োজনে বহরমপুর শহরে এবং থিয়েটার ফোরাম আয়োজনে কলকাতার গড়িয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁতে । এবছর আবার লকডাউন শুরু হতেই প্রতিদিন হেঁসেল চলছে কোচবিহার স্বপ্ন উড়ান আয়োজনে কোচবিহার শহরে, হলদিবাড়ি কোলাজ আয়োজনে হলদিবাড়ী ব্লকে, বহরমপুর রণ আয়োজনে বহরমপুর শহরে এবং থিয়েটার ফোরাম আয়োজনে বনগাঁ রেল স্টেশনে । মূল উদ্যোগটি নিয়েছে 'থিয়েটার ফোরাম' । এই দলটি মূলত 'জিজ্ঞাসা বনগাঁ' দ্বারা পরিচালিত ।
বিশেষ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অনীক কলকাতা ও জন সংস্কৃতি সেন্টার ফর থিয়েটার অফ দি অপ্রেসড । মূলত রেল হকার এবং রেলস্টেশন ও পথের ভবঘুরে মানুষের পাশে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর যৌথ ভাবে নিয়মিত জোগান দিয়েছিল এই সংস্থাগুলো । এই মহামারীতে দীর্ঘ দিন ট্রেন বন্ধ থাকায় তাঁদের অন্নসংস্থান সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ । আগের লকডাউনে একটানা ৭৫ দিন ধরে চলে এই থিয়েটারের হেঁসেল । এক একটি জায়গার হেঁশেলে ২০/২২ জন তরুণ তরুণীরা এই দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে । এছাড়াও যাঁরা দূরে থাকেন তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে অনুদান সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন ।
চলতি মরশুমে নতুন নাটক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে থিয়েটার ফোরাম এর, চলছে তার প্রস্তুতিও । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবারও রঙ্গমঞ্চে দেখা যাবে থিয়েটার ফোরামকে ।


0 Comments