শিল্প যখন দোটানায়, শিল্পী তখন ভবঘুরে, অসহায় নাট্যকার অভিমানে পথে পথে - THEATRE FORUM




অভীক রায়

আসানসোল : করোনা প্রতিটা মানুষের কাছে অভিশাপ, সে গরিব হোক বা ধনী, হকার হোক বা নাট্যকার। অর্থ উপার্জন তো দূরের কথা, বেঁচে থাকা নিয়ে টানাপোড়েন। নাটকের মঞ্চ ছেড়ে জীবনের নাট্যমঞ্চ বেশি সজ্জিত হচ্ছে। প্রতিভাধর রা হেরে যাচ্ছে জীবনের নাট্যমঞ্চে। হেরে যাচ্ছে “আসানসোল শিল্পাঞ্চল"। নাট্যকার অরিন্দম সেনগুপ্তের লেখা নাটকে ভারতের বিভিন্ন নাট্যমঞ্চ সেজে উঠতো। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, আজ তিনি ভবঘুরে, না আলোকিত নাটকের মঞ্চে না জনজীবনে। 


      আসানসোলের রাসডাঙ্গা অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন নাট্যকার অরিন্দম বাবু। তিনি ভাল ক্রিকেট খেলতেন, নাটক লেখা শুরু তারপর থেকেই। সেই সময়ে অরিন্দম সেনগুপ্তের নাটক বেশ কয়েকটা মঞ্চস্থ হবার পর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে আসানসোলের শিল্পাঞ্চল জুড়ে। নাটক লেখার পাশাপাশি তিনি নাচ ও গানের রিয়েলিটি শো এ নির্দেশনার কাজ করতেন। আর এটা থেকেই তিনি রোজগার করে সংসার চালাতেন। 


        ২০২০ সালে লকডাউন এর ফলে বিনোদন ক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোজগারে টান পড়ে। ঘর ভাড়া দেবার মত পয়সাও ছিলো না তার কাছে ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হয়, এবং রাস্তাতেই কেটে যায় কয়েক মাস নাট্যকারের ভবঘুরে জীবন। তার বন্ধুরা আশ্রয় দিয়েছিলেন কিন্তু নাট্যকার নিজেই বেশিদিন থাকেননি সেই আশ্রয়ে। আবার রাস্তাতে চলে আসেন, অবশেষে আসানসোল জেলা হাসপাতালের রোগীর পরিবারের থাকার জায়গায় রাতটুকু কাটাচ্ছেন। সহৃদয় বন্ধুদের সহায়তায় খাবার জুটছে। অভাব ও যন্ত্রণা মিলেমিশে নাট্যকারের নাটক লেখা বন্ধ করে দিয়েছে আপাতত। তবে পরবর্তীতে আর নাটক লিখবেন কিনা তাও তাঁর অজানা। 


নাট্যকার যখন হারিয়ে যেতে থাকে তখন নাট্যকর্মীরা অস্তিত্বহীন হয়ে পরে। তাই শিল্পাঞ্চলের নাট্যকর্মী ও নাট্যপ্রেমীরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, অনুরোধ করেছেন পুরানো ছন্দে ফিরে আসার। শহরের নাট্যগোষ্ঠী “কথাভাষ্যের" কর্ণধার তাপস দত্ত জানান-“বয়সে তরুণ হলেও অরিন্দমের প্রতিভা ও অনন্যা অনস্বীকার্য।  তাঁর লেখা নাটক থিয়েটার করতে আসা তরূণ ও নতুন প্রজন্মকে যথেষ্ট আলোড়িত করে। পাশাপাশি অরিন্দম -এর রচনাও অনেক আধুনিক। আমরা সবসময় চেয়েছি তাঁর লেখা নাটক মঞ্চস্থ করতে। নাট্যগোষ্ঠীর নামটিও তাঁর দেওয়া। অরিন্দমকে পুরানো ছন্দে ফিরে আনতে তাঁরই লেখা মঞ্চস্থ না হওয়া এক নাটককে নতুন করে লিখে দেওয়ার আবেদন করেছি। প্রতিদিন যোগাযোগ রাখার চেষ্টাও করছি। শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য নাট্য সংস্থা গুলির কাছে আবেদন রাখছি সমবেত ভাবে নাট্যকার অরিন্দম সেনগুপ্তের জন্য কিছু একটা করার।

        সমস্ত নাট্যপ্রেমীরা আশাবাদী,  তাই করোনাকাল কেটে গেলে তিনি আবার তাঁর জায়গায় ফিরে আসবেন এই আশা রাখেন।

Post a Comment

0 Comments