করোনাকালে ঘরে বসে নেই ইমন মাইম ও মনীষার বন্ধুরা, চলছে বিনামূল্যে অন্নসেবা - THEATRE FORUM




মছলন্দপুর : সারা বিশ্বের সঙ্গে করোনা ভাইরাস তার থাবা বিস্তার করেছে ভারতবর্ষেও। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সুনামির মত আছড়ে পড়ছে সারাদেশের সঙ্গে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও। করোনা সংক্রমণের শুরুর সময় থেকেই "মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার" স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় করোনা সচেতনতামূলক পথনাটক থেকে শুরু করে লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে খাদ্য-সামগ্রী বিতরন এবং ঘূর্ণিঝড় আমফান পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে সমস্ত রকম সাহায্য নিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।



 এবার করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ এর সময়েও ঘরে বসে থাকতে পারেননি "ইমনের বন্ধুরা"। মছলন্দপুর এর আরেকটি সাংস্কৃতিক সংস্থা "মনীষা"-কে সঙ্গী করে ইমন মাইম সেন্টার তৈরি করেছে "কোভিড হেল্প গ্রুপ"। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রসার থেকে এলাকায় কারো উপসর্গ দেখা দেওয়ার মুহূর্ত থেকে তার পাশে থেকে সবরকম সাহায্য করে চলেছেন ধীরাজ, শিবানী, দেবপ্রসাদ, কমলেশ, স্মৃতিকণা, উত্তম, জয়ন্ত সহ মনীষা ও ইমনের স্বেচ্ছাসেবক বন্ধুরা। ২৪ ঘন্টার কোভিড হেল্পলাইন চালু করে সাহায্য প্রার্থীদের জন্য জোগাড় করে চলেছেন হাসপাতালের বেড, এম্বুলেন্স, ওষুধ, অক্সিজেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ পেতে সরাসরি কথা বলিয়ে দিচ্ছেন ডাক্তারদের সঙ্গে। নিজেরা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সত্বেও তারা পৌঁছে যাচ্ছেন আক্রান্ত পরিবারের কাছে। যতটুকু সামর্থ্য তা দিয়েই তারা পাশে থাকছেন সেই সমস্ত মানুষদের। এছাড়াও মাননীয় শিক্ষক শ্রী অমল মন্ডলের আহ্বানে "আরোগ্য সন্ধান সন্তোষপুর" স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে মছলন্দপুরে "অন্ন সেবা" কমিউনিটি কিচেন চলছে। এলাকার করোনা আক্রান্ত ২১টি পরিবার সহ মোট ২৫০টি পরিবারের প্রায় ৭৫০ জনের দুপুরের খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই কর্মকান্ডে রান্না করা খাবার প্যাকেট করা থেকে কোভিড আক্রান্ত পরিবার এবং অন্যান্য দুস্থ মানুষদের কাছে সেই খাবার পৌঁছে দেবার কাজটি প্রতিদিন করে চলেছেন ইমনের বন্ধু অনুপ, সায়ন, জয়ন্ত, স্বাগত, ধীরাজ হাওলাদার সহ আরো অনেকে। 



শুধু মঞ্চে নাটক-মূকাভিনয় নয়, মানুষের যেকোনো বিপদে, অসহয়তায় নিজেদের সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়ানোই "মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার" তাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করে।



Post a Comment

0 Comments