বিদ্যার্থীভবনে আমতা পারিচয়
'নাট্যমেব জয়তে' পত্রিকা ১০ জুলাই ২০২০ সংখ্যায় ৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত
১২ই জানুয়ারি,২০২০: স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে খড়িওপ রামকৃষ্ণ প্রেমবিহার বিদ্যার্থি ভবনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের জন্য এক মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ অতিথি ছিলেন “পাণ্ডব গোয়েন্দা-র স্রষ্টা সাহিত্যিক ষষ্টিপদ চট্টোপাধ্যায়, ডক্টর রেশমা খাতুন , বিধায়ক অসিত মিত্র , আমতা ২ নং ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল ,এবং এ ডি এম পঞ্চায়েত. দ্বিতীয়ার্ধে প্রদর্শিত হল রামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের ছাত্রদের দ্বারা অভিনীত নাটক “এগিয়ে চল”। আমতা পরিচয় নাট্যগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধানে, তাদের পরিচালনায় মাত্র ১৫দিনের নাট্য কর্মশালায় তৈরী হয় নাট্যপ্রযোজনাটি। রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মুখনিঃসৃত গল্প “এগিয়ে চল” অবলম্বনে এই নাটিকাটি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাবামায়েদের উচ্চাকাংখার চাপে, শুধু শৈশব হারাচ্ছে তা নয়, মনুষত্য, ভালোবাসা, সহনশীলতা, কল্পনা সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, এই নাট্যে খোকন সেই সমস্ত বাচ্ছাদের প্রতিভু, যে- কাক, প্রজাপতি, বিড়ালছানার সঙ্গে কথা বলতে ভালোবাসে...বাবা মায়ের বকুনির চাপে, ছোট্ট খোকন ঠাকুরের কাছে অভিযোগ জানায় যেন তার বদলে একটা ভাল খোকনকে তার মা, বাবার কাছে দিয়ে দেয়, যে কিনা হবে ঠিক তার বাবা মায়ের মনের মত...কাদতে কাঁদতে খোকন ঘুমিয়ে পরে, স্বপ্নে আসেন ঠাকুর, এবং মা সারদা, এছাড়াও অনেক পশুপাখি, কথায় কথায় উঠে আসে “এগিয়ে চল” গল্পের কাঠুরিয়া, এবং তার বৌয়ের যন্ত্রণা এবং সেই যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার পাওয়ার গল্প, উঠে আসে শ্বেতা আগরয়ালের হার না মানার গল্প, উঠে আসে বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী রবিন বরের শৈশব কথা, অনুপ্রাণিত করে শিশুদের যাতে তারাও তাদের আমিকে খুঁজে পেতে পারে। সর্বোপরি বিবেকানন্দের, বিদ্যাসাগরের কথা উত্থাপিত হয়... যেখানে বিবেকানন্দের ভূমিকায় বিদ্যার্থীভবনের প্রাক্তনী বর্তমানে নবম শ্রেণীর ছাত্র সোহম রায় কৃতিত্বের সঙ্গে তার চরিত্র চিত্রণ করেছে, যেখানে বিবেকানন্দ বলছে “জীবনের মর্মটা আগে বোঝ স্বদেশবাসী, তারপর হবে ধর্ম, দারিদ্র্য মোচন কর, শিক্ষার আলোকে উদ্ভাসিত হও, নারীর শৃঙ্খল মোচন কর, শ্রদ্ধা দাও, প্রেম দাও, শক্তি দাও, সেবা দাও, বিজ্ঞান দাও, প্রযুক্তি দাও। উদ্ভাসিত হও। হে যুবকবৃন্দ, নতুন সমাজ গড়ে তোল, গড়ে তোলো শৃংখল্মুক্ত উদার ভারত... গল্প এগিয়ে যায়, এই পশুপাখিদের স্বপ্ন দেশের সিংরাজা, এবং তার আধিকারীক পশু হনুমান, ও ভল্লুকের দায়ীত্বজ্ঞানহীনতার জন্য নদী ইচ্ছেমতীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় ভলু বলে একটা কুকুরের জন্য এবং খোকনের ইচ্ছাশক্তির জোড়ে সেই স্বপ্ন দেশ রক্ষা পায়, খোকন বুঝতা পারে-“ আমরা বিবেকানন্দকে কতটুকু জানার চেষ্টা করেছি? শুধু রচনা লেখা ছাড়া.”.. খোকন উপলব্ধি করে, যার যে কাজ, সেই কাজ যদি নিজেরা যত্ন নিয়ে করে, যথা সময় যথা দায়িত্ব পালন করে, তাহলে দেশ তার স্বমহিমায় আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে... তাই খোকনের ঘুম ভাঙলে সে প্রমিস করে কখনো হেরে যাওয়ার কথা আর বলবেনা, এগিয়ে চলার নামই জীবন। খোকনের ভুমিকায় সৃজন চক্রবর্তী ক্লাস ২, ভলুর চরিত্রে রোহন সামন্ত, ক্লাস ৬, রামকৃষ্ণ ঠাকুরের ভূমিকায় সায়ন দাস(নবম শ্রেণী), মা সারদা- মহম্মদ নাফিস(দ্বিতীয় শ্রেণী) কাঠুরিয়া- রণিক পাল(পঞ্চম শ্রেণী), কাঠুরিয়া বৌ- স্বর্ণাভ মিদ্যা(দ্বিতীয় শ্রেণী) এছাড়াও বিভিন্ন পশুপাখির চরিত্রে যারা ছিল- আবীর মাল, অনীক বোধক, হেমপ্রভু সাউ, প্রান্তিক আদক, সৌমার্য্য দীর্ঘাঙ্গী, হেমপ্রভু সাউ, প্রান্তিক আদক, রুদ্রনীল জানা, জিত মল্লিক, সোহম প্রামাণিক, স্বর্ণদীপ চক্রবর্তী, অনুব্রত কাঁড়ার এবং অন্তরীপ জানা।এদের কেউ keg 2, কেউ আবার class 2, 3, 4…
আমতা পারিচয়ের কর্ণধার শুভেন্দু ভান্ডারী জানালেন, “গত ২০১৩ সাল থেকে প্রায় নিয়মিত ভাবে এই বিদ্যার্থীভবনের ছেলে নিয়ে নাট্যপ্রযজনায় আমতা পারিচয় নিযুক্ত রয়েছেন..মহারাজদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের নাট্যপ্রযোজনাকে সফল করে তুলেছে”...নাটকটি লিখেছেন ঋতুপর্ণা বিশ্বাস, সহকারী হিসেবে যারা কাজ করেছেন, মহুয়া মুখার্জী, সন্তু ঘড়ুই, ধনঞ্জয় দলুই, কৌস্তুভ রায়, এবং “ওমতৎ” এর সুনন্দিতা ও মিলন, এছাড়া বিশেষভাবে মঞ্চসজ্জায় ছিলেন সুবিখ্যাত রবিন বরের সুযোগ্য ছাত্র স্বপন মন্ডল...অভিভাবকরাও আপ্লুত, একজন অভিভাবক জানাচ্ছেন,তারা ভাবতেই পারেননি ১ঘন্টার একটি প্রযোজনার সমস্ত সংলাপ এদের ঠোটস্থ, মাত্র ১৫দিনে তারা নিজেদের সংলাপ বলে, নিজেদের সেট, প্রপ্স নিজেরা সরিয়ে যেভাবে অভিনয় করল, মনেই হচ্ছেনা এরা অভিনয় করল, বড়দের পর্যন্ত হার মানিয়ে দেবে”-তিনি নিজে বাবা হয়ে তার ছেলেযে এতকিছু করতে পারবে, ভাবতেই পারেননি...। তিনি এর জন্য ধন্যবাদ জানান আমতা পরিচয় এবং মহারাজদের প্রতি...


0 Comments