তূর্ণা
অশোক ঘোষ
একদম বাড়ীর পোশাকেই বিছানায় উপুড় হয়ে বালিশ বুকে ল্যাপটপ খুলে তূর্ণা নিজের অভিনীত নাটকের একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য দেখছে !আজ তার অফিস নেই !ছুটির মেজাজে সময় কাটাচ্ছে ল্যাপটপে !
চাকরী আর থিয়েটার তার জীবনের সব.... !
তূর্ণার একমাত্র ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার মা মৈত্রেয়ী ব্রেকফাস্ট এর প্লেট নিয়ে আসে ও বলে... কিরে ফ্রেশ হয়ে এসে আবার ল্যাপটপে কী দেখছিস.. জলখাবার টা খেয়ে তারপর ... !
কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই তূর্ণার ! মা এবার একটু চিৎকার করেই ওঠে... শুনতে পাচ্ছিস.. গরম লুচিগুলো ঠান্ডা হলে আর খেতে পারবি ?
একলাফে বিছানা ছেড়ে মায়ের ওপর হামলে পড়ে তূর্ণা ! মা মৈত্রেয়ী অভ্যাসবশত মেয়েকে বুকে টেনে নেয়... আদর করে ! এটা সেই ছোটবেলার নেশা তূর্ণার ! সকালে মায়ের আদর না খেলে তার যেন দিনটাই মাটি !
.... নে দেখি খেয়েনে এবার !
তুমি চললে কোথায় মা ?
নিচে, তোর বাপি আজ অফিস যাবে ! মাস্ক, স্যানিটাইজার গুছিয়ে না দিলে... জানিস তো তোর বাপিকে... ভুলো মন !
.. আচ্ছা যাও !
যাবো আর আসবো, তোর সাথে আমার জরুরী কথা আছে.. আসছি ! মৈত্রেয়ী চলে যায় ! খাবার প্লেট টা কোলে নিয়ে তূর্ণা পুনরায় বিছানায় বসে ল্যাপটপ খুলে নাটকের অংশ টা দেখছে আর ভাবছে... 'মা আবার আমার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলবে, না আজ পরিষ্কার আমার কথা আমি বলবো মাকে, মাঝে মধ্যেই মায়ের ওই ঘ্যানঘ্যানানি ভাল্লাগেনা ! আসলে মা এর এই ভূমিকা প্রতিপালনের পিছনে বাপির হাত আছে ! বাপির বদ্ধমূল ধারণা আমাদের নাট্য দলের বিরু দার সঙ্গে আমার প্রেম আছে ! অবশ্য আমিও বিষয়টা বেশ এনজয় করি ! নাঃ, আজ এটার ইতি টানতেই হবে !'
মোবাইল বাজে,ফোন টা কান আর কাঁধের মাঝখানে নিয়ে কথা বলে তূর্ণা.... "হ্যালো, বিরু দা অনেকদিন বাঁচবে তুমি, এই মাত্র তোমার কথা ভাবছিলাম, জানো একটা কথা তোমায় কদিন ধরে বলবো বলে ভুলেই যাচ্ছি... জানো, আমার বাপির ধারণা তোমার সাথে আমার একটা.... ! 'দুজনে কথা বলে চলে ! চুপিসারে মৈত্রেয়ী এসে দাঁড়িয়েছে... ! তূর্ণা খাওয়া আর ফোনে কথা বলা একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে !
মৈত্রেয়ী মেয়ের কথা শুনে বোঝার চেষ্টা করছে অপর প্রান্তে কে আছে .... !
কিন্তু সবটা বুঝে উঠতে পারে না !.... হুম রাখছি, তাহলে আগামী পরশু রাত আট টা নাগাদ ডুও তে আমরা মিট করবো ! রাখো রাখো.. ok !'
এ তোর ভারী অন্যায় , এখনো পুরোটা স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি, আর তুই.. !
তুমি কখন এলে মা?
এই তো, তুই কার সাথে কথা বলছিলি বলে আর ডাকিনি !
সে ঠিক আছে .. আমি একটা কথা বলবো তোকে ?
বলবে তো, আমার বিয়ে করা উচিত... ক্রমশঃ বয়স বেড়ে যাচ্ছে... কবে আর বিয়ে হবে. ছেলেপুলে মানুষ করতে হবে.. এগুলো বলবে তো !
শোনো আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি বিয়ে আমি করবো না !
মানে ?
বিয়ে করবোনা এটা বাংলায় বলেছি ! তোমার না বোঝার কিছূ নেই !
তবে পরশু কোথায় কাকে যেন মিট করার কথা বলছিলি ফোনে, আমি বলি কী ওকে তুই বাড়িতেই আসতে বলনা !
হেসে লুটিয়ে পড়ে তূর্ণা.. 'মা তোমার মাথাটা গেছে... ওটা বিরু দা, আগামী পরশু আমরা ডুও বলে একটা Aaps আছে ওখানে দলের সবাই একটু আলোচনা করবো... আমাদের করণীয় নিয়ে, আমরা এই সময়ে একটা সস্তা ক্যান্টিন চালু করবো যেখান থেকে .. রেলের হকার যাদের কাজকম্মো নেই তারা কম পয়সায় খাবার পাবে..., দারুন ভাবনা বিরুদার ! করোনা, আমফান আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে ! কতো মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে তুমি ভাবতেই পারবে না মা !
সে না ভাবার কী আছে ! মানুষের জন্য করবি তো বটেই... তবু তো আমাদের দুটো জুটছে ! নারে কর কর, রেলের হকার গুলোর কোনো রোজগার নেই !
মা, তুমি কী সুন্দর করে ভাবো বলতো ! ওই জন্যেই তো তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড... লাভ ইউ মা, মাই সুইট মম !
তোর কোনো কাজে তো আমরা কোনো বাধা দিইনিরে, ছোটো থেকে তোর থিয়েটার অন্ত প্রাণ... থিয়েটার এর জন্য কতদিন বাড়ীর বাইরে কাটাতিস, তোর বাপি রাগারাগি করতো...
---- তুমি আমায় গার্ড করতে !সব মনে আছে !
মৈত্রেয়ী মেয়ের কাছে বসে, মায়ের গায়ে হেলান দিয়ে জানলার বাইরে দৃষ্টি রাখে তূর্ণা. !
মৈত্রেয়ী বলে, তোর বাপির বয়েস বাড়ছে, এ বছর রিটায়ারমেন্ট ! তোকে পাত্রস্থ করা তো আমাদের দায়িত্ব !
আমিতো বলেইছি... বিয়ে আমি করবো না ! কেন এইসব বলো আমায় !
তোর জন্যে কী সারা জীবন আমরা বেঁচে থাকবো নাকি, তোকে একা রেখে যে মরতেও পারবোনা.. !
এসব কী বলছো মা !
তোর বাপি বলছিলো তোদের ওই ডিরেক্টর বিরু...
মা, বিরুদা আমাদের ডিরেক্টর, আর বিরুদা বলেন থিয়েটার তার প্রথম প্রেম... ! কেন যে তোমরা বার বার ওই লোকটার কথা বলো ! থিয়েটার আর চাকরী নিয়ে জীবন কাটিয়ে দোবো ! আমাকে নিয়ে ভেবোনা !
তার মানে আমাদের শান্তি সুখ এসব নিয়ে তোর কোনো মাথা ব্যাথা নেই !
ওহো, আমি বিয়ে করলেই শান্তি পাবে.... মানে আমাকে ভাগিয়ে তোমাদের শান্তি ? এ এক অদ্ভুত শান্তির খোঁজ করছো তোমরা ! আচ্ছা আমি এ বাড়িতে না থাকলে তোমার ভালো লাগবে মা ?
প্রথম প্রথম তো কষ্ট হবেই, তারপর আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে ! তুই তো আগেও বলতিস যে তোর এমন একটা বর চাই... যে তোর মাথা টিপে দেবে, জামা কাপড় কেচে দেবে, তোকে মাঝে মধ্যে রান্না করে খাওয়াবে.... !
হেসে মায়ের কোলে লুটিয়ে পরে তূর্ণা !
সেতো তোমাকে আর বকুল মাসি কে রাগানোর জন্যে বলেছিলাম, তুমি একটুও রাগ করোনি কিন্তু বকুল মাসি রেগে গরগর করতে করতে আমায় যা তা বলে চলে গেল !
তারপর আর এলোই না এখানে !
তোর বাপি বলছিলো একটা ভালো ছেলে আছে, যদি সত্যি বিরুর সাথে তোর কিছূ না থাকে তবে ...... !
তোমায় খুব পরিষ্কার একটা কথা বলি মা ... বিরুদা কিন্তু মানুষ হিসাবে একদম অন্যরকম, নাটক অন্ত প্রাণ, মার্ক্সিয় দর্শন কে আত্মস্থ করেছেন, থিয়েটার নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা, নিজেকে আপডেট করে চলেছে নিয়ত !
আর বিরু দা সমস্ত রকম সংস্কারের উর্দ্ধে ! বিরু দাকে যারা জামাই হিসাবে পাবে তারা সৌভাগ্যবান !
কথাগুলো একদমে বলে থামে তূর্ণা ! গোটা ঘর নিস্তব্ধ, মনের মধ্যে অভূতপূর্ব ভালোলাগা তৈরী হয় মৈত্রেয়ীর ! ভাবছে মেয়ে বোধ হয় রাজী হতেই চলেছে.. ! গণৎকার মনা ভাইয়ের টোটকা কাজ হয়েছে, এবার শুধু ওই কলাগাছের সঙ্গে বিয়ের বিষয় টা.... !
কী এতো ভাবছো মা !
কোই কিছূনা তো ! কী আর ভাববো ! আজ তোর বাপি কে তাহলে বলি যে তুই রাজী আছিস !
আমার আরো কিছূ বলার আছে মা !
বল.... !
তোমার ওই মনা ভাই কী যেন বলেছিলো আমার বিয়ের ছ 'মাসের মধ্যেই আমার বৈধব্য যোগ ... এসব জেনেও তোমরা আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছ কেন ?
দূর পাগলী... প্রতিকারের সব ব্যবস্থা একদম পাক্কা করে রেখেছে তোর বাপি !
কিরকম শুনি !
মনা ভাই কে নিয়ে গত জানুয়ারী মাসে তোর বাপি বর্ধমান গিয়েছিলো ! সেখানে এক পন্ডিত সুন্দর বিধান দিয়েছে !
কী বলেছে, টাকা পয়সা খরচ করে যজ্ঞ করালে দোষ কেটে যাবে এইতো.... ! সত্যি আমার বাপি এতোটা অর্থডক্স এটা ভাবতেই পারি না ! তাবিজ কবজ... মাদুলি তে নিজের শরীর টা ঢেকে রেখেছে, ভেবে পাইনা একজন বিজ্ঞানের ভালো স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও বাপির মগজ টা এতো সংস্কারে আবদ্ধ কেন ! তোর জন্যে, তুই ছাড়া আমাদের আর কে আছে বলতো ? ছোটবেলায় তোকে গ্রামের বাড়িতে একটা কাঁকড়া বিছে কামড়ে ছিল... তখন তুই মাত্র তিন মাসের, কথা শেষ হয়না তূর্ণা বলে এটা বোধ হয় কয়েক হাজার বার আমার শোনা মা !
সেই ছোটো থেকে একটু একটু করে বড় করে তুলেছি আমরা তোকে... তুই যে আমাদের যক্ষের ধন রে তু ! আর বাপির কথা বলছিস, সে মানুষ টা তোকে অন্ধের মতো ভালোবাসে ! তোর সামান্য জ্বর হলে দেখিস না কী কান্ড করে !
দেখি তো একদিকে ডাক্তার নিয়ে আসবে আবার ওই মনা ভাই !
তাহলে তোর ভালোমন্দ নিয়ে আমরা তো ভাববই !
মৈত্রেয়ীর চোখে জল গড়িয়ে পরে ! তূর্ণা মাকে কাছে টেনে নিয়ে চোখের জল মোছায় ... মেয়ের আদর পেয়ে আরো ফুঁপিয়ে ওঠে মৈত্রেয়ী !
কী হচ্ছে মা এরকম করছো কেন তুমি, বিয়ে তো আজ বা কাল আমায় করতেই হবে ! আর বার বার বিরু দার কথা বলো কেন মা ? ওনার যা কোয়ালিটি উনি আমায় পছন্দ নাও করতে পারেন ! আমি কোনোদিন বিরুদা কে নিয়ে সে রকম কিছুই ভাবিনি !
শেষমেস তুই যে রাজী হয়েছিস তাতেই আমি খুশি !
তোর বাপি শুনলে যে কী খুশি হবে !
সবই ঠিক আছে, ভালোই হবে বিয়ের পর আমি এখানেই থাকবো !
সে আবার কী কথা ?
ওই যে বৈধব্য যোগ !
দূর, সেতো প্রতিকার বলেই দিয়েছে... তোর প্রথম বিয়েটা দিনক্ষণ দেখে একটা কলা গাছের সাথে হবে... ঐদিন তেরোটা ব্রাম্ভন আর কিছু লোক নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে হবে !
তূর্ণা বলে বাহ্, কী সুন্দর প্রথা, মানে আমার এটা হবে প্রথম বিয়ে... তারপর ওই গাছটা মরে গেলে আবার আমার.., কথা শেষ হওয়ার আগেই মৈত্রেয়ী বলে ওঠে ... এবার তোর আসল বিয়ে হবে !
তারমানে তুমি বলছো প্রথম টা নকল বিয়ে ?
হুম, তাইতো, শুধুমাত্র তোর বৈধব্য যোগ টা কাটানোর জন্য এটা নিদান... !
এ নিদান আমি মানিনা মা..! বিয়ে আমার হোক বা না হোক !
ওইসব মধ্যযুগের কুপ্রথা আমি মানিনা এটা তুমি বাপি কে স্পষ্ট বলে দিও ! আর তোমাদের মনা ভাইয়ের সাথে এ বাড়িতে যেন মুখোমুখি আমার না হয় ! আমি কিন্তু যা তা বলে দোবো !
তারমানে তুই বিয়ে.... !
করবো, এবং একবার, সেটা রেজিস্ট্রি করে প্রচলিত যে ব্যবস্থা তার সাথে সঙ্গতি রেখেই.... বাপিকে এটা জানিয়ে দিও !
বেশ কদিন পর বিরু, তূর্ণা সহ নাট্যদলের সবাই মিলে হই হই করে সস্তা ক্যান্টিন এর উদ্বোধন করলো....মাত্র কুড়ি টাকার বিনিময়ে দুপুরের আহার ! প্রথম দিনেই প্রায় একশো হকার খাবার সংগ্রহ করেছে ..
অনেকেই যথেষ্ট সহযোগিতা করছে সস্তা ক্যান্টিন চালানোর জন্যে ! অনেকদিন এই পরিষেবা দেওয়া হবে বলে বিরু তূর্ণা রা সিদ্ধান্ত নিয়েছে !
একসাথে থিয়েটার করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে যে বোঝাপড়া তৈরী হয়, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আরো বেশি নৈকট্য তৈরী হয়েছে তাদের মধ্যে... !
তুমি কাঁদছো একাডেমী, আমি রবীন্দ্র সদন বলছি , মধুসুদন তোমার কথা বলো - Click Here...
বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে ! ক্যান্টিন চলছে হই হই করে ! দুদিন ধরে তূর্ণা আসছেনা ! তিনদিনের মাথায় তূর্ণা কে ফোন করলো বিরু.... বহুদিন বর্ষার অপেক্ষায় থাকা কৃষক প্রথম বর্ষণের সুতীব্র ধারায় স্নাত হয়ে যেমন আতুর হয়ে ওঠে সোনালী ফসলের স্বপ্নে ঠিক তেমন করেই বিরুর ফোন তূর্ণার মনের ভিত টা মজবুত করে দিলো !
দুজনেই অবচেতন ভাবে কখন যে হারিয়ে গেছে দুজনের মনে তা নিজেরাও জানেনা ! ফোন কানে তোলে তূর্ণা... অপর প্রান্ত থেকে বিরুর গলা ভেসে আসে... ! ঘনিষ্ঠ কথায় কানে কানে সময় কাটে তাদের ! বিরু হঠাৎ একদিন তূর্ণার বাবার মুখোমুখি হয়.. তাদের সম্পর্কের কথা জানাতে ! তূর্ণার বাবা মা দুজনেই খুব খুশি.... গোল বাঁধলো তূর্ণার বাবার কথায়, প্রথমে কলা গাছ তারপর আসল বিয়ে !
তূর্ণা জানিয়ে দিলো তারা সামাজিক অনুষ্ঠান করবে না, রেজিস্ট্রি করে দুজনে একসাথে থাকবে, কোনোভাবেই ওই অন্ধ সংস্কারে তারা আবদ্ধ থাকবে না !
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যার আলো আঁধারিতে তূর্ণা আর বিরু রাজপথ ধরে হাঁটছে... ক্রমে সংখ্যাটা বাড়তে থাকে... ভোরের অভিমুখে ওদের যাত্রা হলো শুরু !
সকাল থেকে বিরুদের থিয়েটার দলে হইচই হচ্ছে ! সস্তা ক্যান্টিনের খাবার মেনু টা আজ দারুন.... পোলাও, ফিশ ফ্রাই, চিকেনকারী, রসগোল্লা ইত্যাদি... এলাহী ব্যবস্থা ! সবটা হচ্ছে দলের ফান্ড থেকে... বিরুদা ব্যক্তিগত ভাবে কিছূ দিয়েছে ! ঢালাও রসগোল্লা আর দই দিচ্ছে তূর্ণা !
আজ বিরু তূর্ণার একসাথে চলবার প্রথম দিনটাকে দলের ছেলেরা সেলিব্রেট করতে চলেছে, রেলের হকার সহ এই সময়ের কর্মহীন সবস্তরের মানুষ দের নিয়ে ! তাই আজ ঘোষণা হয়েছে কোনো বিনিময় মূল্য নয়...মাইকে বলা হচ্ছে.... 'আজ আপনারা আমাদের অতিথি, আপনাদের আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এসে দুপুরের খাবার সংগ্রহ করুন !
ঠিক সময়ে দলের সবাই রান্না শাল থেকে প্যাকেট নিয়ে এসে হাজির ... খাবার নেওয়ার লোকজন আসতে শুরু করেছে... কিন্তু বিরু আর তূর্ণার দেখা নেই !
দুপুরে আহার সেরে তূর্ণার বাবা চোখ বুজিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে.... তন্দ্রা লেগেছে চোখে ! এই সুযোগে মৈত্রেয়ী পাশের ঘরে গিয়ে মেয়েকে ফোন করছে কিন্তু কিছুতেই ফোন লাগছে না !
হঠাৎ তূর্ণার বাবা চিৎকার দিচ্ছে .. মৈত্রেয়ী ছুটে এসে যা শুনলো তা ভয়ঙ্কর..... বাইক দুর্ঘটনায় বিরু.... ! চিৎকার করে ওঠে মৈত্রেয়ী ! দুজনে উদ্ভ্রান্তের মতো রাস্তায় বেরিয়ে স্টেশন এর দিকে যেতে গিয়ে দেখে... একটা অটো থেকে নামছে তূর্ণা... বৈধব্যের পোশাক পরনে !
ওরা এগিয়ে মেয়ের কাছে যায়.... মুখোমুখি দাঁড়িয়ে...কারো মুখে কোনো কথা নেই, শুধু তূর্ণার চোখ দিয়ে জল ঝরছে ! তা দেখে তূর্ণার বাবা আওয়াজ করে কেঁদে উঠে.... !
পাশের ঘর থেকে মৈত্রেয়ী এসে ঘুমিয়ে থাকা স্বামী কে ধাক্কা দিয়ে তোলে ! তূর্ণার বাবার তখনো ঘোর কাটেনি..
মৈত্রেয়ী একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম... চলো আমরা ওদের যেখানে খাওয়া হচ্ছে সেখানে যাই... !
মৈত্রেয়ী বলে তাদের মেয়ের কিছূ হবে না !
তবু যাবো চলো, মেয়েটার সাথে দেখা করে আসি, দিনের স্বপ্ন মিথ্যে হয়না !
ওরা স্টেশন এর দিকে রওনা দেয় !
ওদিকে প্রায় ঘন্টা খানেক হলো প্যাকেট দেওয়া শুরু হয়েছে কিন্তু বিরু আর তূর্ণার দেখা নেই !এইমাত্র তূর্ণার বাবা মা এসে পৌঁছে ওদের খোঁজ করছে... সেই মুহূর্তে দলের সেক্রেটারি প্রসূনের মোবাইল বেজে ওঠে... বিরু খবর দেয় একটা অটো এক্সিডেন্ট হয়েছে, তাতে ওরা ছিল .. ! এসে যাবে, কেউ যেন টেনশন নাকরে !
খবর পেয়ে সবাই আস্বস্ত হয় ! কিন্তু তূর্ণার বাবা মায়ের উদ্বিগ্নতা কাটেনা !
যথা সময়ে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় তূর্ণাকে নিয়ে বিরু শিবিরে পৌঁছোয়... !
সবাই হই হই করে ওঠে !
অটো উল্টে সামান্য চোট পেয়েছে তূর্ণা, কিছুই না !
প্রচুর রজনী আর গোলাপের তোরা দলের ছেলেরা তূর্ণা আর বিরুর হাতে তুলে দেয়... ! সবাই আনন্দে উদ্বেল !
তা দেখে তূর্ণার বাবা মা নিজেদের চোখের জল আটকে রাখতে পারেনা !
তূর্ণা বাবাকে বলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা দুজন একসঙ্গে কাটিয়ে দোবো... তোমার মোনা ভাইকে জানিয়ে দিও বাপি... আমরা যে একই পথের পথিক ! আদর্শগত বন্ধন কখনো ছিন্ন হবে না !
আমাদের আশীর্বাদ করবে না বাপি !
মেয়েকে বুকে টেনে নেয় বাবা !
সবাই গেয়ে ওঠে .. We r in the same boat brother... !!
(একটি কাল্পনিক গল্প, এর সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই । কোন ব্যক্তি বা সংস্থা এই ঘটনার মধ্যে নিজেকে খুঁজে নিতে চাইলে তার দায় পত্রিকার নয়)
অশোক ঘোষ (নির্দেশক, থিয়েটার্স ওয়ার্কাস)
![]() |






0 Comments