নীরা এবং
অশোক ঘোষ
অ্যাম্বুলেন্স এর আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় নীরার ! রোজ সকাল থেকে মাঝে মধ্যেই এই আওয়াজে বুকের মধ্যে একটা ঢিপ ঢিপ শব্দ শোনে আর মনের মধ্যে আতঙ্ক ঠাঁই নেয় ! পাশের ঘরে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে নীরার যত চিন্তা ! রোজ সকালে নিয়ম করে ঈষদোষ্ণ জলে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ানো থেকে শুরু করে যা যা করার সব করছে... ! আসলে নীরার মা হলেন নীরার শাশুড়ি !
কোন ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে নিরা, ভালো করে মনেও নেই নিজের মায়ের মুখটা ! তাই বিয়ের পর এই বাড়িতে আসা থেকে মনোরমা দেবী অর্থাৎ তার ডাক্তার স্বামী অয়নের মা নীরার নিজের মা হয়ে গেছে !মনোরমা দেবীও নিরা কে নিজের মেয়ের মতোই ভাবেন ! সম্বোধনে তুই থেকে আরম্ভ করে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে... নিরা আর নিরা !
নীরা থিয়েটার নিয়ে পিএইচডি করছে ! বিয়ের আগে প্রত্যন্ত গ্রামে একটি থিয়েটার এর দলে অভিনয় করতো ! উত্তর চব্বিশ পরগনার চাঁদপাড়াতে এক নাট্যোৎসবে নীরার অভিনয় দেখে মনোরমা দেবী আপ্লুত হয়ে নিজের ডাক্তার ছেলের বৌ করবে বলে মনস্থির করেন ! মনোরমা দেবীর বাপের বাড়ি এই চাঁদপাড়া তে ! একমাত্র ভাইপোর বিয়ে উপলক্ষে এখানে এসেছিলেন মনোরমা ! বৌভাতের পরদিন চলে যাবার কথা ছিল, কিন্তু নতুন ভাইপো বৌয়ের আবদারে থাকতে হলো একটা দিন !
সবাইমিলে এলাকার একটা বড় নাট্যোৎসবে নাটক দেখতে যাওয়ার মনস্থির করলো !সেমতো সন্ধ্যে বেলা নতুন বৌমা সহ সব্বাই নাটক দেখতে গেল !
সেদিনই নীরার অভিনয় মনোরমা কে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিলো, নাটকের শেষে গ্রীন রুমে গিয়ে নীরা কে অভিনন্দন শুধু নয় বলে এসেছিলেন মনোরমা যে খুব শিগগিরই তাঁদের দেখা হবে ! আজ সেই নীরা এ বাড়ীর বৌ ! স্বামী ডা: অয়ন চৌধুরী একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরা সার্জেন !তবুও নীরা কিন্তু মঞ্চ মায়া ত্যাগ করতে পারেনি, শ্বশুর বাড়ীর পাড়ার একটি দলের পরিচালক অয়নের বন্ধু ! বিয়ের কয়েকদিন পর নীরার শিল্পী সত্তাকে সম্মান দিতেই ওই বন্ধু পরিচালকের রিহার্সাল রুমে স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন অয়ন, সেই চলা আজও থামায়নি নীরা ! এলাকার গন্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার নামি অভিনেত্রী হিসাবে ডাক্তার গিন্নি যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে ! নিজের দল ছাড়াও কলকাতার অন্য প্রতিষ্ঠিত নাট্যদলেও সুনামের সাথে কাজ করে চলেছে নীরা ! গত জানুয়ারী মাস থেকে অন্তঃসত্ত্বা নীরা মঞ্চে নামছে না চিকিৎসকের পরামর্শ মতো, আর মার্চ মাসের পর থেকে সবই তো বন্ধ, করোনা অতিমারী গোটা সমাজের সাথে থিয়েটারকেও গ্রাস করেছে !
যাহোক সকাল থেকে শ্বাশুড়ি মায়ের পরিচর্যা চলছে ! কাজের লোক কেউই আসছেনা ! রান্নার মাসি এ বাড়িতে থাকে ! তবু মাঝে মধ্যেই নীরা রান্নায় হাত লাগায় ! আজ মনোরমার অতিপ্রিয় খাদ্য মুড়িঘন্ট বানাচ্ছে নীরা ! কোন সকালে ব্রেকফাস্ট করে অয়ন হাসপাতাল চলে গেছে ! ফিরতে ফিরতে রাত দশটা ! রান্নার মাসি কে মুড়িঘন্ট টা সময় মতো নামানোর কথা বলে নীরা নিজের বেডরুমে ড্রেসিং টেবিল এর সামনের আয়নায় নিজেকে দেখছে ! নিজের পেটে হাত বুলিয়ে বোঝার চেষ্টা করে ভেতরের প্রাণটার অস্তিত্ব ! মোবাইল বাজে, অয়ন ফোন করেছে !
হ্যালো.. বলো অয়ন !
অপর প্রান্ত থেকে অয়নের গলা ভেসে আসে... !
কী করছো নিরু ?
বসে আছি, তোমার ভবিষ্যতের স্পর্শ নিচ্ছি !
দারুন বললে নিরু, এ জন্যই তোমায় বড্ড ভালোবাসি, আর থিয়েটার এর মানুষদের এতো সুন্দর অনুভূতি.... সাধারণের মধ্যে পাওয়া যায়না !
তাই ? জিজ্ঞাসা করে নীরা !
হুম, তাইতো মা যখন বললো আমার জন্য তোমায় পছন্দ করেছে আমি এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম !
থিয়েটার আমার ভীষণ পছন্দের ! মেডিকেল কলেজের ফেস্ট এ প্রতিবছর আমাদের নাটক হতো, সেতো তোমায় বলেছি... ! মা কোথায়?
স্নান করে নিজের ঘরে বসে আছে, বই পড়ছে নিশ্চয় !
শোনো আজ হয়তো রাতে বাড়ি ফিরতে পারবোনা ! দুটো খুব ক্রিটিক্যাল অপারেশন আছে ! আর এখন তো আবার covid রুগীদেরও ট্রিটমেন্ট করতে হচ্ছে !
তুমি দুপুরে চলে এসো, বাড়িতে লাঞ্চ করে যাও !
হবেনা নিরু, আজ টেলিভিশন এ লাইভ আছে না covid নিয়ে ! তার একটু প্রিপারেশন নোব পোস্ট লাঞ্চ !
তোমার লাইভ কটার সময়?
ঠিক সন্ধে সাতটায় ! তুমি মা দেখবে কিন্তু !
একদম !
রাখলাম... !
বর্তমান বাংলা থিয়েটারে বেনোজল বেশি মাত্রায় ঢুকে পড়েছে, ফলে মানুষ থিয়েটার থেকে মুখ ফিরিয়ে... Click Here...
মোবাইল টা রেখে গুনগুন করে ওঠে নীরা ! নীরা কে আদর করে অয়ন নিরু বলেই ডাকে !
নীরা যেন হাঁফিয়ে উঠেছে, মঞ্চ থেকে এখন বেশ কিছুদিন ওকে দূরেই থাকতে হবে ! এই মুহূর্তে হল গুলো খুললেও অধিকাংশ দল নাটক নামাতে পারবে বলে মনে হচ্ছেনা নীরার ! আর হলেও তার তো আর অন্তত দুটো বছর নাটক করা হবে না ! তবুও তার একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে ! তার শরীরের ভিতর যে স্বপ্নটা একটু একটু করে বেড়ে উঠছে, আট মাস চলছে সামনের দু 'মাসের মধ্যে নির্ধারিত দিন, নীরা মা হবে!
এই সময়টা যেন একটা বন্দী জীবন যারা মা হতে চলেছে তাদের ! নীরা নিজেকে সহ সমস্ত মা হতে চলা মানবীদের সামনে যেন মমতাময়ী বসুন্ধরা হয়ে বলে ওঠে, 'দুঃখ পেয়োনা, ভয় পেয়োনা, সময়ের ক্ষণিক যন্ত্রণাকে আয়ু দিও না ! যদি নারী জীবনে কোনো যন্ত্রনা পেয়ে থাকো, লাঞ্ছনা পেয়ে থাকো সেই স্মৃতিকে দিওনা জীবনীশক্তি ! আমরা কন্যা, জায়া, জননী ! আমাদের জন্ম জ্যোৎস্নায়, মমতায়, আমন্ত্রণে হয় না ! কেউ শঙ্খ বাজায় না ! উলুধ্বনি তোলে না কেউ ! মানুষের পৃথিবীতে আমরা লালিত হইনা, বেড়ে উঠি অশথ্য বৃক্ষের মতো....!
মানব প্রজাতির জন্মদাত্রী হিসাবে নয়, জন্মদেবার এক স্থূল কৃৎকৌশলের মতো ব্যবহৃত হই আমরা, তুমি কোন দেবীর কাছে প্রার্থনা করছো নারী ..? ঈশ্বরের রাজ্যে কোনো দেবী নেই ! এখানেও তাঁরা অপমানে, অমর্যাদায় ম্রিয়মান !'
হঠাৎ সম্বিৎ ফেরে নীরার, এতো তার পিএইচডি র একটা অংশের ভাবনা ! এসব কী ভাবছে সে !
কেন ভাবছে ! সে তো লড়াইতে নেমেছে, সে জানে এই মা হতে চাওয়া আর মা হতে যাওয়ার লড়াইটা সাংঘাতিক, জয়ের অনিবার্যতা নিয়েই লড়াই, কিন্তু তবুও জানে সে রক্তাক্ত হবেই.... তার প্রাণহানিও ঘটতে পারে, ঘটুক কিন্তু একটা নতুন প্রাণকে সে পৃথ্বীর বুকে দিয়ে যাবে, এটাই তার লড়াই এর স্বার্থকতা !
এইসব নানা ভাবনা তার মাথায় ঘুরপাক খেলেও মা হবার অপার আনন্দ সেসব ভুলিয়ে দিচ্ছে ! মনের মধ্যে খুশির বান ডাকছে ! মাঝে মাঝে মঞ্চ বা তার পিএইচডি মাথায় ভিড় করলেও এই মুহূর্তে মা ডাকের অপেক্ষা তাকে অনেক বেশি প্রাণিত করছে ! এ ভাবেই নীরার দিন আর রাত কাটে স্বামী অয়ন আর শ্বাশুড়ি মা মনোরমার সাহচর্যে ! মনোরমা সব সময় টিকটিক করে চলেছে.... নীরা ঠিক সময়ে খাচ্ছে কী খাচ্ছে না, মুখে কোন খাবার টা তার এই মুহূর্তে ভালো লাগছে, সব দিকে তীক্ষ্ণ নজর মনোরমার !
নীরা যেন গর্ভবতী অবস্থায় নিজের বাপের বাড়িতে মা র কাছেই আছে ! শ্বাশুড়ি মায়ের যত্নে সে আপ্লুত ! অনেকদিন পর অয়ন ছুটি পেয়েছে, তাই সে ঠিক করেছে বাড়িতে আজ বেশিরভাগ সময়টা সে কাটাবে নিরুর সাথে ! দীর্ঘ লকডাউন কাল রোগী সেবায় প্রাণপাত করেছে অয়ন ! তার একান্ত আপন মা হতে চলা নিরুর দিকে ভালো করে তাকানোর অবকাশ পায়নি !
দুপুরে খেয়ে নিরুর সাথে গল্পে গানে মেতে উঠেছে অয়ন ! দুজনে মিলে রক্ত করবীর কিছূ অংশ অভিনয় করছে, অয়ন কখনো রাজার ভূমিকায় আবার কখনো বিশু পাগলের ভূমিকায় !
ওদের এই বন্ধুতায় মুগ্ধ মনোরমা ভাবে এ সময়ে মেয়েটার এই স্বতঃস্ফূর্ত অনাবিল আনন্দ আর অয়নের সাহচর্য খুবই প্রয়োজন, নিশ্চিন্তে দুপুরের বিশ্রাম এ নিমগ্ন হন তিনি !
এদিকে নীরা অয়ন কে নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে তোলে, ঠান্ডা মাথায় সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে অয়ন ! বলতে পারো অয়ন সমস্ত মন্দির গুলোতে সুপ্রাচীন নারী মূর্তি নগ্নিকা, সিঙ্গার রত... কোথাও আবার গর্ভিনী... কেন ?
-- আমাদের সুপ্রাচীন অতীত প্রত্নগর্ভ যে শুধু নারী মূর্তিকেই ধারণ করেছে নীরু, তাই !
কিন্তু কেন, পুরুষ ঈশ্বর সেখানে অনুপস্থিত ?
-- খুব কঠিন প্রশ্ন নীরু, তবে উত্তর আছে, বিস্তারিত বলতে গেলে রাত ভোর হয়ে যাবে !
আট সন্তানের 'মা' কাদম্বিনী গাঙ্গুলী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক -Click Here...
নীরু জেদ ধরে, অয়ন কে বলতেই হবে !
পুরান কথা বলতে শুরু করে অয়ন, মাতা বসুন্ধরা সীতাকে সবচেয়ে বর্ষীয়সী, প্রজ্ঞাবতী দেবী শোচনা যিনি কী সীমাহীন যন্ত্রনা আর বিশাল দুঃখ অতিক্রম করে অধিষ্ঠিতা হয়েছেন স্বর্গোদ্যানে তাঁর কাছে পাঠালেন ! বসুন্ধরা দুহিতা সীতাকে বুকে টেনে নিলেন দেবী শোচনা, আলিঙ্গনে মুহূর্তে মুছে যায় সীতার মালিন্য আর দুঃখময় অতীতের স্মৃতি, গ্লানিমুক্ত মনে হয় নিজেকে সীতার ! একমনে অয়নের বর্ণনা শোনে নীরা, ভাবে এ কোন অয়ন, ডাক্তার অয়নের মধ্যে এক অন্য অয়নকে খুঁজে পায় নীরা.... !অয়ন বলতে থাকে ! যে পৃথিবী সীতার নারীত্বের শুচিতায় অবিশ্বাস করেছে বারেবার, বারবার দেখতে চেয়েছে সীতার অপাপবিদ্ধ শরীর, যারা সীতাকে রাজমহিষীর সিংহাসন থেকে টেনে নামিয়ে নির্বাসনে পাঠিয়েছে শ্বাপদ সংকুল অরণ্যে ! যে পুরুষ পৃথিবীর পবিত্রতম ভার বহনের ক্লান্তিতে অবসন্ন গর্ভিনী স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেছে আপন সন্তানের জন্মক্ষনে সে পুরুষ ঈশ্বর !
মানব সমাজের সূচনায় বেঁচে থাকার প্রয়োজনে মানুষের কাছে গভীরতম কামনার বস্তু ছিল দুটি, সন্তান ও শস্য ! আর এই দুটি সম্পদ আসে পৃথিবী আর নারী থেকে ! এ কারণেই তাঁদের দৃষ্টিতে নারী আর ধরিত্রী ছিল সমার্থক ও অভিন্ন ! সন্তান ধারণের যে প্রাকৃতিক নিয়ম, নারীকে যে মহিমান্বিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিল ---সেই বাস্তবতাই মানুষের কল্পনায় প্রতিবিম্বিত হয়ে সূচনা করেছিল মাতৃপূজায়, তাই পুরুষ ঈশ্বর সেখানে অনুপস্থিত.... !
হঠাৎ অয়ন লক্ষ্য করে নীরু ছটপট করছে.... কী হলো নীরু ?
নীরু যন্ত্রনায় কুঁকড়ে ওঠে, মনোরমা ছুটে আসে, ধরাধরি করে নীরু কে নিয়ে নিজের হসপিটালের উদেশ্যে রওনা দেয় অয়ন !
সারারাত হসপিটালেই কাটে অয়নের ! সকাল বেলা অপেক্ষা করছে নীরুর covid টেস্টের রিপোর্টের জন্য ! মোবাইলে ফোন আসে মনোরমার ! অয়ন বলে পরে ফোন করবে, নীরু ভালো আছে ! অয়ন হসপিটালে নিজের নির্দিষ্ট কক্ষে বসে, একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছে এই সময় ঘরের ল্যান্ড ফোন টা বেজে ওঠে, ফোন তুলে অয়ন যা শুনলো তাতে মাথায় বাজ ভেঙে পড়ার অবস্থা ! অয়ন ছুটলো স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ড: শ্রুতি চৌধুরীর কক্ষে ! নীরুর covid পজিটিভ ! আর কিছূ ভাবতে পারছে না অয়ন ! তবে ড:চৌধুরী তাকে আশ্বস্ত করেছে ! সিদ্ধান্ত হয়েছে 24ঘন্টা পর্যবেক্ষণ এ রেখে তারপর সিজার হবে !
ক্লান্ত অবসন্ন অয়ন বাড়ি ফিরলো ! মনোরমা সব শুনে কান্নাকাটি করছে ! মাকে শান্ত করে অয়ন !সমস্ত বাড়িটা নিস্তব্ধ ! যেন কেউ নেই বাড়িতে ! ব্যাথাতুর কণ্ঠে মনোরমা ছেলের কাছে জানতে চায় নীরার খবর ! ভয়ের কিছূ নেই ! আজ সিজার হবে এবং অয়ন নিজে থাকবে ওটি তে ! যথারীতি দুপুরেই অয়ন হাজির হয় হসপিটালে ! নীরুর খোঁজ নেয় সিস্টার দের কাছে ! আজ সন্ধ্যায় সিজার হবে ! সমস্ত রকম প্রতিষেধক মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ! যেন যুদ্ধারম্ভের প্রস্তুতি !
আজ এই হসপিটালের সবার কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ! ডাক্তার অয়নের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী covid আক্রান্ত, আজ তাঁর সিজার হবে ! সমস্ত opd বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে !
টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য কর্মী থেকে কর্তৃপক্ষ ! সংবাদ মাধ্যমের কাছে খবর পৌঁছে গেছে ! হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকরা ভিড় করে আছে ! হাজারো গোপনীয়তা ভেদ করে সংবাদ মাধ্যম হাজির ! কিন্তু ভিতরে প্রবেশাধিকার নেই তাঁদের !
যথা সময়ে অপারেশন শুরু হলো, উত্তেজনায় অস্থির হয়ে ওটির বাইরে চলে এলো অয়ন ! ppe কিট্স্ খুলে পায়চারি করছে ! আত্মীয় স্বজন সব ফোন করছে !এক সময় ডাক্তার শ্রীমতি শ্রুতি বাইরে এসে বলেন, কংগ্রাচুলেশন Dr চৌধুরী, আপনি কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছেন, বেবি ও মাদার দুজনেই সুস্থ, সেফ ! আপনি PPE পরে ভিতরে যান ! তবে দূর থেকে !
অয়নের দুচোখ বেয়ে নামে জলের ধারা !এই মাত্র নীরা কে হসপিটালের পাশের এনেক্সের covid বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে !বেবির সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই !
এরপর 20দিন অতিক্রান্ত, অয়নের মেয়ে মনোরমার কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে !আজ covid মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে নীরা... আউট হাউস এ আরো কিছুদিন থাকতে হবে নীরা কে ! চৌধুরী পরিবারে যেন প্রাণ ফিরে এসেছে ! প্রতিবেশী যারা এদিকে ভয়ে আসছিলোনা তারাও সব আসছে... খোঁজ খবর নিচ্ছে !কেউ কেউ মনোরমার নাতনি কে দেখে যাচ্ছে ! বাড়ীর নিচ তলায় ঘরটা ! ওটাকে আউট হাউস না বলে গেস্ট হাউস বলাও যায় ! সেই গেস্ট হাউস দারুন ভাবে সেজে উঠেছে !
এইমাত্র চৌধুরী পরিবারের সবার রেপিড টেস্ট নেগেটিভ এসেছে বলে অয়ন ফোন করে তার মা কে জানালো !
দুপুরের পরে অয়ন স্ত্রী নীরা কে নিয়ে বাড়ি ফিরলো... মনোরমা ছুট্টে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে নিলো বুকে... সবার চোখে জল... দূর থেকে নীরার মেয়ের কান্না ভেসে এলো ! নীরা অস্থির হয়ে উঠলো মেয়েকে দেখবার জন্য !
অনেকটা দূর থেকে এই প্রথম নীরা দেখলো তার স্বপ্ন কে ! আনন্দে দুচোখ ভরে গেল জলে !
পরদিন সমস্ত সংবাদ পত্রের হেডলাইন "শরণ্য "হসপিটালের এই খবর... covid আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বার সুস্থ কন্যা সন্তান প্রসব এবং রোগমুক্ত মা বাড়ীর পথে !!!!
(এটি একটি কাল্পনিক গল্প, এর সঙ্গে বাস্তবের কোন চরিত্রের মিল নেই)





0 Comments