অণু চটক
প্ল্যানচেটে বসেছে চার ছেলেমেয়ে
(তিনজন হাতে হাত ধরে পরস্পরকে ছুঁয়ে আছে। চতুর্থ জনকে তার দুপাশের দুজন ছুঁয়ে আছে, তার হাতে খাতা পেন্সিল। মাঝখানে টেবিল। সকলেই বসেছে চেয়ারে।)
সকলে || নিশান নিশান নিশান নিশান নিশান ...( বিড়বিড় করে যাচ্ছে।)
// মোমের আলো কেঁপে উঠলো। খাতার পাতা ছটফট করে উঠলো। চতুর্থ হাত পেন্সিল কষে ধরলো।)
সকলে || নিশান নিশান নিশান নিশান ...
প্রথম || নিশান তুমি এসেছো ? নিশান ... নিশান ... সাড়া দাও নিশান !
সকলে || আমরা তোমার বন্ধু নিশান ! সাড়া দাও ! খাতায় তোমার নাম লেখো।
// মোমবাতি স্থির ।নট নড়চড়ন ।//
সকলে || নিশান নিশান নিশান ...
নিশান|| ( অলৌকিক কন্ঠ) লিখতে পারবোনা আমি।
দ্বিতীয়া || কেন !?! লিখতে পারবে না কেন ?
তৃতীয়া || লেখো নিশান please লেখো !
প্রথম || কিছু তো লেখো ?
আমাদের যে খুব জানার ইচ্ছে তুমি কেমন আছো। কোথায় আছো ?
নিশান || লিখতে পারবো না। মুখে বলবো।
সকলে || কেন ?
নিশান || তেমন করে লিখতে পারলে কি আর suicide করতাম ?
দ্বিতীয়া || তুমি লিখতে পারোনা ! বলো কি নিশান !
তৃতীয়া || সেকি ! তাই তো , তুমি যে এবছর মাধ্যমিক দিয়েছিলে ?
নিশান || তখন কি জানতাম ,এবছর করনা হবে ? এত ভালো বারোয়ারি রেজাল্ট বেরোবে ? পরীক্ষা খুব খারাপ দিয়ে সেই যন্ত্রনায়, বাপ-মায়ের মুখ মনে করে,বিষ খেয়েছিলাম। এখন আবার বিষ খেতে ইচ্ছে করছে। উফ্ ! বেঁচে থাকলে অন্ততঃ সেভেন্টি পার্সেন্ট তো পেতামই --- নিশ্চিত। আমার মতো গন্ডমুর্খের খাতা দেখে টুকে কাল্টুও ফার্স্ট ডিভিশন পেয়ে গেল। আর আমি ফাল্টু ----
( মোমবাতির আলো দপদপ করে , কাঁপে )
প্রথম || যাক্! কী আর করা যাবে ! এখন আর দুঃখ কোরো না নিশান,করোনা বাজারে সকলেই দুঃখে আছে।
দ্বিতীয়া || ঠিক ঠিক ! মনখারাপ করো না নিশান , বন্ধু আমাদের !
তৃতীয়া || ঠিক আছে, লিখতে না চাও মুখেই বলো। তাতেই তো বেশ বোঝা যাচ্ছে। অসুবিধা নেই।
নিশান || তোমরা তো সব, জেলায় র্যাঙ্ক করেছো, শুনলাম !
প্রথম || হ্যাঁ মানে তা একরকম ঠিকই শুনেছো । কিন্তু নিশান এ রেজাল্টে আমরা কেউ খুব একটা খুশি নই !
নিশান || কেন ? আরো বেশি আশা করেছিলে নাকি ?
দ্বিতীয়া || একদমই না। আমরা এই রকম বারোয়ারি মার্ক্সস পেয়ে মোটেই খুশি নয়।
নিশান || কিন্তু আমাদের এখানে তো অনেকেই ইচ্ছে করছে , করোনা আবহ টিকে থাক। আগামী বছর আবার পরীক্ষা দিয়ে তাঁরা রেকর্ড রেজাল্ট করে দেখাবে।
তৃতীয়া || কারা এমন ইচ্ছে করছে বন্ধু !?! কারা ?
নিশান || ঐ তো , আমার মতো আরো অনেকেই বাজে পরীক্ষা দিয়ে মরেছে কিনা , তাঁরা , কতগুলো ছেলে মেয়ে ।
সকলে || খুবই দুঃখজনক বন্ধু। খুবই দুর্ভাগ্যজনক !
প্রথম|| আচ্ছা, মন খারাপ করোনা। তুমি কেমন আছো, কেমন জায়গায় আছো, বলো।
// পুটুং -- শব্দ হয়।//
নিশান || দাঁড়াও । একটা মেসেজ ঢুকেছে।কে দিলো,কী দিলো ,দেখে নিই।
// মোমবাতি স্থির//সবাই নিরব //
নিশান|| হুম ! বুঝলাম।
সকলে|| কী পড়লে নিশান ?
বাংলায় নাট্যমেলা হয়, কুম্ভমেলার মতো চক্র হয় কি ? থাইয়ামে ১২ বছর অন্তর নাটকের একটা চক্র হয় Click Here...
নিশান || একটু উপর তলার মেসেজ। কে এক আশুতোষ বলছেন , শ্যামাপ্রসাদের বাপ , তা তিনি নাকি বর্তমান CBSC' সিলেবাসের যোগ বিয়োগ , মানে ঐ কী কী বাদছাঁদ হয়েছে ,সেসব একটু বুজতে চান। না না অবাক হয়ো না। আমি যে মুখ্যসুখ্য ছেলে তা তিনি জানেন । এই তোমরা সব র্যাঙ্কাররা রয়েছো টের পেয়ে তিনি আমাকে ধরেছেন মানে তোমাদের থেকে জানতে চাইছেন।
প্রথম || সেকি কথা ?
দ্বিতীয়া || তাজ্জব ব্যাপার!
তৃতীয়া || এতোটা তো ভাবিনি।
// মিডিয়া-চতুর্থ গোঁ গোঁ করতে থাকে//
প্রথম || দাঁড়াও দাঁড়াও নিশান , অধৈর্য হয়ো না।
দ্বিতীয়া || একটু অপেক্ষা করো please please !
// মিডিয়া-চতুর্থ স্বাভাবিক হয়//
তৃতীয়া || তাইতো,কী করা যায় !
প্রথম || বিষয়টা জটিল হয়ে গেল।
দ্বিতীয়া || শ্রেষ্ঠ পান্ডবকে বলে তো লাভ নেই ! শ্যামাপ্রসাদ শুনলেই পেঁদিয়ে কালিঘাটের পেসাদ করে ছাড়বে।
তৃতীয়া || (হাসি চেপে) খিক খিক খিক ! আচ্ছা শ্যামাপ্রসাদের নাম না নিলেই হলো। আশুতোষ বললে নিশ্চয়ই চিনবে না।
প্রথম || এটা অবশ্য খারাপ বলিস নি। কিন্তু আমি বলছিলাম , এদিকে দরকার কী ! ওদিকে বললেই তো হয় ?
দ্বিতীয়া || কাকে বলবে --মানে-- কার কাছে জানতে চাইবে ! দিলবর দিলু না রাউডি রাহুল ! নাকি অজ্জুন ,র্য্যপো , পিকেট --- কে বলতে পারে সিলেবাস -- কাটছাঁট -- CBSCর !?!
প্রথম || সত্যি বিপদে ফেললে হে বন্ধু নিশান ! তোমার ঐ শ্যামাপ্রসাদের বাবার নব সিলেবাসের জ্ঞানের জন্য কার পায় ধরি ?
তৃতীয়া || ঝুনামুকুলের কাছে গেলে হয় না !?!
// মোমবাতি দপদপ শব্দে কেঁপে কেঁপে ফুসকরে নিভে যায় ।ধোঁয়া ওঠে কিছু। দ্বিতীয়ার হাতে টর্চ জ্বলে। গোঁ গোঁ গোঁ করে টলে পড়ে টেবিলে চতুর্থ জন।প্রথমের, তৃতীয়ারও টর্চ জ্বলে ওঠে।
সকলে || কী হলো ব্যাপারটা ! নিশান্ত চলে গেলো নাকি ?
প্রথম || জল দাও জল দাও পৃথ্বীকে জল দাও। চোখে মুখে ছেটাও ওর জ্ঞান চলে গেছে।
// তৃতীয়া বোতল খুলে জল নিয়ে ছেটায়। ধীরে ধীরে মাথা তুলে, চোখ মেলে পৃথ্বী জল পান করে।//
পৃথ্বী || ঝুনামুকুলের নাম শুনে ও আর পারেনি ! আমায় স্রেফ ধাক্কা মেরে ছুটে চলে গেল।
__ সমাপিকাইতি___
যবনিকা
"তৃণ-পদ্ম-মূল"
লেখক - তীর্থঙ্কর রায়



0 Comments