বনগাঁ কাণ্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশংকর হালদার - থিয়েটার ফোরাম


ছবি সংগ্রহ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে


চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অমানবিকতার দৃশ্য দেখা দিল বনগাঁ হাসপাতালে । সেখান থেকে ট্রান্সফার করা এক রোগীর করোনা সন্দেহে এগিয়ে এলো না কোন হাসপাতাল কর্মী বা সাধারণ মানুষ । হাসপাতালের মূল গেটে পড়ে থেকে মৃত্যু হল রোগীর, এবং মৃতদেহ রাস্তাতেই পড়ে থাকল টানা ৩০ মিনিট ।

একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রীদেবশংকর হালদার । কি বললেন তিনি...

"আমার কাছে এই ঘটনাটা এমন একটা লজ্জার ঘটনা, মানে আমাকে একটা নাট্যব্যক্তিত্ব পরিচয় দেওয়া হচ্ছে এবং আমি এই সমাজ থেকে কিছু পেয়েছি । কিন্তু নাটক, কবিতা, সংস্কৃতি আমাদের চারপাশকে কি দিতে পেরেছে আমি বুঝতে পারছি না ।

 আমার বিভ্রান্ত লাগছে, কিন্তু একই সঙ্গে এই কথা বলব যে, সামাজিক দূরত্ব সংক্রান্ত যে কথাটা আমাদের মধ্যে চাউর করা হয়েছে, সঙ্গত কারণেই হয়েছে, কিন্তু এটা আমরা কিভাবে গ্রহণ করলাম আজ তার চূড়ান্ত রূপ দেখতে পারছি । যিনি দাঁড়িয়ে থাকছেন বা যিনি স্বাস্থ্যকর্মী তিনিতো পিপিই কিট পড়েই আছেন, তিনি তো চেষ্টা করতেই পারতেন । কেননা সেই কারণেই তো তার ওই পোশাকটা দেওয়া হয়েছে । কিন্তু তার ভেতরে এই বোধ জাগ্রত হচ্ছে না । তিনি দাঁড়িয়েই থাকছেন বা যিনি ভিডিও করছেন বা যারা দেখছেন, তারা সকলেই দাঁড়িয়ে থাকছেন ।

রুগীকে কিভাবে বাঁচাবেন আমি জানিনা, কিন্তু তাকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হচ্ছেন না, দৌড়েও যাচ্ছেন না, চেঁচামেচি করছেন না । শুধুই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন আর ভাবছেন এটা আমার বাড়িতে তো ঘটছে না ।

জার্মানিতে যখন যুদ্ধের সময় অনেক দূরে দূরে গুলি চলছিল, পাশের পাড়ায় গুলি চলছিল তখন এ পাড়ার লোক ভেবেছিল আমাদের পাড়ায় হয়তো ঢুকবে না । কিন্তু সে পাড়াতেও ঢুকেছিল ।

তাই আমার বলতে খুব অবাক লাগছে এই মর্মান্তিক পরিণতি আমার পরিবারে, আমার বাড়িতে ঘটবে কিনা আমি জানিনা । তখন কিন্তু আমাকে একই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে । ফলতো আমি আবারো অনুরোধ করবো সবাইকে যে কি করবেন সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে, কিন্তু এই অমানবিক দৃশ্যটা তৈরি করবেন না ।

আর সরকারি একটা হাসপাতাল সেখানেও এরকম কেন ঘটল, সেটা সব সময় সরকারের দিকে আঙ্গুল না তুলে আমি বলব এই আশেপাশে যেসব মানুষরা আছেন বা এই বিশেষ হাসপাতালটিতে যারা আছেন তাদের কাছেও কেন খবর গেল না ? এবং তারা কেন এই ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নিতে পারলেন না কোন না কোনভাবে ? এটাও খুব ধোঁয়াশা এবং হতাশা ব্যঞ্জক লাগছে ।

কিন্তু আবারও বলছি আমাদের প্রত্যেকটি পাড়ায় কোন না কোন জায়গায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করতে হবে, নিজেদের ভেতরে বাড়ীতে বাড়ীতেও তৈরি করতে হবে, যাতে  এরকম ঘটনা ঘটলে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি । এটা না পারলে কিন্তু আমি আমার সন্তানকে, আমার পরিবারকে বাঁচাতে পারবো না । এই ঘটনাটা আবার আঙুল তুলে আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে অতএব লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার কথা  ।

এ কার পাপ আমি জানিনা । কথা বলার শক্তিও পাওয়া যায় না কিন্তু তবুও কথা বলতে হবে, বারবার বলতে হবে এই ঘটনাযই যেন শেষ ঘটনা হয় । পিপিই কিট পড়ে যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি অন্তত যাতে দৌড়ে যেতে পারেন, তিনি গেলে হয়ত আরও অনেকে আসবেন বলে আমার ধারণা। তাহলে তিনি এবং তার স্ত্রী মিলে হয়তো গাড়িতে তুলতে পারতেন । আমি কাউকে দায়ী করছি না কিন্তু আমি বলছি আমাদের এই সংস্কৃতিকে জাগ্রত করতে হবে , আমাদের মরিয়া হতেই হবে, একবার আগুনের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতেই হবে ।"

Post a Comment

0 Comments