নাপড়লেওচলে_৮
পীতম চট্টোপাধ্যায়
গপ্পোটা তাহলে গোড়া থেকেই শুরু করা যাক। গপ্পোই বলছি কারন এটাই ইতিহাস কিনা আমার জানা নেই। ব্যক্তিগত ভাবে ইতিহাসকে দেখার - গেলার এবং তারপরে একদম নিজস্ব একটা ঢেকুর বলা চলে। ঢেকুরের দায় থাকেনা হাইজিন বা এটিকেট মেনে চলার। সে ওঠে। যখন ওঠে তখন তাকে না তুলে উপায় থাকেনা। আর কোনো জীবনবিজ্ঞান বইয়ে না পড়লেও আমার কেমন যেন মনে হয় ঢেকুরও একটা রেচন - কারন ভালোমন্দ খাওয়ার পর জব্বর একটা ঢেকুর তুলতে পারলে হেব্বি আরাম হয়। আবার চোঁয়া ঢেকুর খবর পাঠায় ভেতরের পাড়ায় হাল্কা ক্যাঁচাল হয়েছে - হাল সামলাও মাঝি !
হোমোনিড গোষ্ঠীর মধ্যে হোমো ইরেকটাস নাকি প্রথম নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিল । আলতামিরা বা তার আগের গুহাচিত্রগুলো দেওয়ালের যে উচ্চতায় তাতে মনে হয় যে সেগুলো না দাঁড়িয়ে আঁকা নয়। তাছাড়া দুটো পা ভারসাম্যর দায়িত্ব না নিলে হাতের সেই স্বাধীনতা থাকতে পারে কিনা যাতে করে ছবি আঁকা যায় সেটাও একটা ভাবার বিষয়। মাথায় আসা রেখাকে দেওয়ালের গায়ে ফুটিয়ে তোলার সিলসিলা কিন্তু বেশ জটিল একটা ব্যাপার। কানে শোনা যে কোনো সুর বা শব্দকে চিনে - ভেঙে অবিকল জীভ - ল্যারিংক্স বা মুখগহ্বর দিয়ে তার পুনরুৎপাদন করাটা যেমন খুব সহজ নয়। এখানে কন্ট্রোল সি কন্ট্রোল ভি কমান্ড অত সহজে কাজ করেনা।
জীবনে প্রথম হাতির ছবি বলে যেটা এঁকেছিলুম - স্পষ্ট মনে আছে পাইওনিয়ারের খাতায় সেটাকে অবিকল ইরেসারের ঘষ্টানি খেয়ে কেলসে যাওয়া একটা ঝিঙের মতন দেখতে হয়েছিল। হাতি আমার চোখ আর মগজ যেভাবে চিনেছিল হাত সেই অনুযায়ী চালাতে পারিনি। এবার এখানে এন্ট্রি নেবে অনুশীলন। ইনি যাকে বলে কল্পতরু - ভালো করে যত্ন আত্তি করলে নাকি এনার থেকে যাই চাওয়া যায় পাওয়া যায়। শুধু সংগীত বা চিত্রকলা নয় আমাদের সমস্ত কার্যকলাপের কমন বাহন হচ্ছেন এই অভ্যাস নামক বিষয়টি। এমনকি খুব ভালো করে ভয় পেতে গেলেও দীর্ঘ দিন ধরে ছোট ছোট আতঙ্কর রেওয়াজ করতে হয়।
ভ্যান্তাড়া ছেড়ে বিষয়ে ফিরে আসি - তা এই যে এবড়ো খেবড়ো দেওয়ালে কোনো একটা নরম পাথর দিয়ে প্রথম ছবিটা এঁকে ফেললেন বতিচ্চেলি - নন্দলাল বসু বা পিকাসোর ভাবনাতুতো অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি - তিনি সেটা করলেন কেন?
নাট্য শাস্ত্রের ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা অনেক এক্সপার্ট বলেন - যে গুহার মধ্যে থাকা প্রধানত মহিলা শিশু বা তখনো রপ্ত না হওয়া জোয়ানদের - শিকার করে আনা হরিণটার পিছনে যে মেহনত ছিল - সেই গল্পটা বলতেই নাকি কোনো এক শিকারি খুব লম্ফঝম্প করে আরেকজন হরিণ হয়ে নেচে কুঁদে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই অভিনয়-এর জন্ম - আবার সেই ঘটনার পুনরুৎপাদন - নাটকের ক্ষেত্রে যা আরো বহুস্তরীয় এবং জটিল। সেই প্রাক ভাষা বা খুব দুর্বল ভাষা তৈরি হওয়ার সময়ে এই " গল্প বলার " ব্যাপারটা কিন্তু ছেলেখেলা নয়। আর এর প্রভাবও ছিল বহু দিক গামী। নিজের দক্ষতা জাহির করা - অন্যদেরকে নেট প্র্যাকটিস করানো - নতুন ভাবে নিজের কাজটারই ইন্ট্রোস্পেক্ট করে আত্মবিশ্লেষণ করে পরের বারে এবারের ভুল ত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে আরও দক্ষ হওয়া - গোদা বাংলায় স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলাপ আলোচনা এমন আরো হাজারো মণিমাণিক্য খুঁজে বার করা যায়।
এমনটা হতেই পারে - যে এভাবে বারংবার অভিনয় করার ধকল কমাতে - তাঁদেরই কেউ বা তাঁদের শ্রোতাদের মধ্যে কেউ - পুরো গপ্পটার একটা বিবরণ একদিন দেওয়ালে এঁকে ফেলে - মানে SOP বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর এর মত ব্যাপার আর কি! " কি করিতে হইবে "-র সম্পর্কে অমর চিত্রকথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই হুট করে করে ফেলা কাজটা একটা " মোক্ষম ঐতিহাসিক " ব্যাপার হয়ে গেল সেটা সেই মানুষটি বা মানুষগুলি ঘুণাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি সেটা নিশ্চয় মোটমুটি হলফ করে বলা যায়, নাকি? অথবা এমনিই আপন খেয়ালে এঁকেছি দেওয়ালে কেসও হতেই পারে। ফেসবুকে কই মাছের পাটিসাপটার ছবি পোষ্ট করার মত। নেহাত সে যুগে লাইক বা কমেন্ট করার অপশন ছিলনা ভাগ্যিস! নাহলে সারা পৃথিবীতে একহাত মাটি খুঁড়লেই পাঁচ পিস্ গুহাচিত্র আর শিলালিপির সনেট-এর মানে খুজতে গিয়ে আরকিওলজিকাল সার্ভের আর্কিওপটেরিক্সের মত হাপিশ হয়ে যাওয়ার হাল হত নির্ঘাত।
বাচালের গুস্তাখি মাফ করবেন - মোদ্দা কথাটা হল এই দুটো জায়গাতেই একটা যোগাযোগ বা কমিউনিকেশনের তাগিদ লক্ষ করা যাচ্ছে। সৌন্দর্যের হোক বা ভয়ের বা জরুরি কোন একটা জীবন প্রক্রিয়া সেটা এক যোগে আরো অনেককে জানানোর ইচ্ছেটাই মূল চালিকাশক্তি বলে আন্দাজ করা যায়।
মজার কথা এর অনেক অনেক পরে বাজারে রাজা রাজড়াদের শীলমোহরের আবির্ভাবের আগে অব্ধিই কিন্তু কি বলা হচ্ছে সেটাই এক এবং একমাত্র বিবেচ্য হয়ে থেকেছে। কে বা কারা ছবিটা আঁকলো সেটা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কোন উচ্চবাচ্য নেই। যদিও যোগাযোগের চেষ্টা - কিন্তু সেটা কার থেকে কার দিকে দুদিকেই নির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন নেই। অর্থাৎ সমস্টিগত কোনো একটা লব্ধ প্রজ্ঞা আগামী প্রজন্ম বা অন্যান্য সমষ্টিকে জানিয়ে দেওয়ার একটা নির্ভার সাইনবোর্ড ধরনের ব্যাপার। পাহাড়ে জঙ্গলে দেওয়া ট্রাকসাইনের মত - ওদিকে যেওনা তুমি - কিম্বা - ওদিকে গেলে জল পাবে - এখানে বিপদ হয়েছিল যার থেকে আমরা এইভাবে বেঁচেছিলাম। মূলত হান্টার গ্যাদারারের দল বা শিকারি যাযাবর মানুষের তৈরী এই শিল্পগুলো তাই একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় - আমাদের মূল প্রবৃত্তির ওরিয়েন্টেশন নিয়ে - প্রেম না প্রতিহিংসা - কোন ইন্সেন্টিভ খুঁজে চলি আমরা আবহমান?
নিখাদ ভালোবাসা না থাকলে কি দায় পড়েছে বলুন তো যাকে আমি চিনিই না তাকেও এটা জানিয়ে যাওয়ার যে এখানে এত বড় একটা বাইসন মেরে আমরা খেয়েছিলাম - এখানে জল আছে - আছে আশ্রয়? কেমন যেন বসুধৈব কুটুম্বকম টাইপের লাগছে না ব্যাপারটা?
তা ওইভাবে অভ্যাসের ঘাড়ে চেপে যখন একজন পাক্কা আঁকিয়ে হয়ে উঠলো বা কেউ দারুন নকল করে কোনো একটা পশুর ডাক ডেকে শিকারে সাহায্য করতে পারলো - দলের বাকিদের কাছে তার একটা বিশেষ উপযোগিতা অনিবার্য হয়ে উঠল। আত্মশ্লাঘার ভ্রুণ তখন মরুলা বা বড়জোর ব্লাস্টুলা - কিন্তু শিকারের মাংসর একটা বড় চাঁই সে পেতে শুরু করলো - " রাজ অনুগ্রহ "। আমি ইচ্ছে করেই বিনোদনের জানলা তৈরি বা তার বিবর্তনের ব্যাপারটায় যাচ্ছিনা কারন বড় পোষ্ট পড়া টিভির অ্যান্টেনার মতই তামাদি ব্যাপার এখন।
মোদ্দা কথা হল এই রাজ অনুগ্রহই বলুন বা " আমি কি হনু "-ই বলুন, এর ফলে যোগাযোগের প্রক্রিয়া যাকে এরপর থেকে শিল্প বলব - সেখানে একটা বেশ বড়সড় রদবদল হয়ে গেল। শুধু "কী" বলা হচ্ছে নয়, "কে" বলছেন সেটাও একটা বিবেচ্য ব্যাপার ধীরে ধীরে তৈরি হতে লাগল। মিউচুয়াল ফান্ডের পাস্ট পারফরম্যান্স-এর মত শিল্পীরও একটা ব্রান্ড বা তকমার ওয়াজুদ বা নিজস্বতা তৈরি হয়ে গেল। সেটা বেশ সুখকর - প্রায় তখন থেকেই শিল্পীরা তাদের সৃষ্টির সাথে নিজের পরিচয়টা জোড়ার একটা চেষ্টা করতে লাগলেন। গানের পদে নিজের নাম - " কহে চন্ডীদাস " কিম্বা আঁকায় নিজের শীলমোহর বা অন্য কোনো অভিজ্ঞান জোড়ার প্রবণতা হয়তো এভাবেই শুরু।
অপরাধী যেমন কোনো চিহ্ন যাতে থেকে না যায় তেমন চেষ্টা করে - তার বিপ্রতীপে শিল্পীরা নিজেদের চিহ্ন কি করে থেকে যায় তার নানা কায়দা ভাবতে লাগলেন। এতে আপাত দোষের কিছুই নেই - শুধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বার্তা পৌঁছনোর নিরাভরণ স্বাভাবিক প্রবাহটা ব্যহত হল। সমষ্টির নয় ব্যক্তির বার্তা তার মর্জিমাফিক উঠে আসতে লাগল। কম স্যাম্পেল নিয়ে করা সমীক্ষার মতই তার সাথে বাস্তব বা সত্যের দুরত্ব বাড়তে থাকলো ক্রমাগত।
এর পরেই যদি আজকের বিমূর্ত শিল্পতে এক লাফে চলে আসি - তাহলে সেটা অনেকগুলো স্টেপ জাম্প করে করা অঙ্কর মত দুর্বোধ্য লাগতে পারে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবের থেকে দুরত্ব - তা একটা আরো সদর্থক নাম পেয়ে গেল - প্রকাশ ভঙ্গী - এবং সেই প্রকাশ ভঙ্গীর হেরফেরেই প্রত্যেক শিল্পীর এক নিজস্ব ধাঁচ বা সিগনেচার স্টাইল তৈরি হয়ে গেল - যা দিয়ে তাঁর সমস্ত কাজ চিনতে পারা যায়।
মনে রাখতে হবে শিল্প কিন্তু এখন শুধুই আর জরুরি তথ্য জানানোর সংকেতের মধ্যে আটকে নেই। তার নিজস্ব এক ব্যাপক বিস্তার ঘটে গিয়েছে এই কয়েক হাজার বছরে। চারু আর কারু শিল্পের দুই স্রোত বয়ে চলেছে নিজের মত করে। উপন্যাস আর প্রবন্ধ নিজেদের আলাদা রাজত্বে জায়গীর বসিয়ে ট্যাক্স তুলছে। খনার বচন থেকে সত্যপীরের পাঁচালী হয়ে বহু দুর হেব্রাইডিসে নিজস্ব মেঘের মিনার - সাম্রাজ্য তৈরি করে নিয়েছে কবিতা। ইস্কুলের এক বেঞ্চির বন্ধুরা যেমন জীবনে দুই মহাদেশের বসবাসকারী ফেসবুক ফ্রেণ্ড হয়ে যায় দু'যুগ পরে - তেমনই যোজনগন্ধা ফারাক - স্টাইল - অভিমুখ বদলে গিয়েছে ফিল্ম - থিয়েটার বা কবিতার। যা পৃথিবীর রং রূপ সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহু বহু গুন। জগতের শিল্প নিজেই একটা মৌলিক শৈল্পিক জগৎ তৈরি করে ফেলেছে, যেখানে সে রসে বঞ্চিতদের প্রবেশ নিষেধ। প্রয়োজনের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে আরো ঢের অন্ধকার বিদর্ভ নগরে চলছে এক অনন্য রসমোক্ষণ বা ক্যাথারসিস-এর কাজ।
মানুষ যখন বৃত্ত বদলায় তখন বদলের আদলে আসলে একটা সংযোজন ঘটে। স্পট লাইটের আলো - আলোচনার অভিমুখ অনেক বেশি করে পড়ে নতুন বৃত্তে, কিন্তু রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর অন্ধকারে। শিল্পের এই যে স্বয়ংক্রিয় সংশ্লেষণ এর জন্য একটা নতুন আলোর পাঠ - অদেখা রঙের মাঠ বা অশ্রুতপূর্ব সুরের মূর্ছনা তৈরি হল - তার সবচাইতে কাছের আত্মীয় হল মুগ্ধতা - প্রাণের আরাম - এক অনাবিল উত্তরণ। সার্বজনীন থেকে সমঝদারের দিকে এই পরিযানে শিল্পের কাছে পৌঁছানোর জন্য এক নতুন শিক্ষা বা বীক্ষণের সিঁড়ির দরকার পড়ছে - নতুন করে আবার মঞ্চে প্রবেশ করছে অনুশীলন -এবার গ্রহীতার অনুশীলন - রসবোধের অভ্যেস। এই পর্যায়ে সৃষ্টিশীলতা সব্বার থেকে আলাদা কিছু মানুষের মধ্যে গুটি পাকাতে শুরু হয়ে গিয়েছে। মজার কথা সমান্তরাল একটা শিল্প চেতনা - যেটায় " লোক শিক্ষে হয় " সেটা কিন্তু তার সাবেকি বলার কথার উপর জোর দিয়ে - শিল্পের সামগ্রিক বার্তার দায় নিয়েও নিজেদের মতো বাড়তে থাকল - ফুলে ফেঁপে উঠতে লাগল সময়ের ইন্ধনে। এ যেন একই খেলায় দুই নিয়ম - একটায় ব্যক্তিগত দক্ষতা অন্যটায় দলগত পারফরম্যান্সের বিচারে হারা জেতার হিসেব।
এই দুক্ষেত্রের জিতে যাওয়ার ট্রফিটাও আলাদা। ব্যক্তিগত প্রেক্ষিতে সেই মানুষটি ছাপিয়ে যান তাঁর শিল্প কে - পাড়ার কালচার কাকু পাওডার চাপড়ে গলা কাঁপিয়ে " কবি বলেছেন " বলে কোটেশান ঝাড়েন - কিন্তু তাতে তার অন্তরের বাণীটুকু কোথায় হারিয়ে যায় তার খোঁজ রাখেন না। আর এর ঠিক উল্টোদিকে কত পল্লীগীতি যে গুনগুনিয়ে উঠি আমরা - কার লেখা - কার সুর সেসবের হিসেব না করেই শুধু ওই অন্তঃসলিলা ভাবটুকু সম্বল করেই। কেউ কেউ সাবলীল হতেই পারেন দুরকমের খেলায় - আবার কারোর প্রতিযোগিতায় অ্যালার্জি থাকাও তো অস্বাভাবিক নয়। নেপথ্য তো কারোর পথ্য হতেই পারে।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি সেই শিল্পকে আমার শ্রদ্ধার অর্ঘ্য দিতে বেশি পছন্দ করব যিনি শুধু ভিতরের অস্থিরতাটুকু উগরে দেওয়ার দায়েই ঢেকুর তুলে ফেলেছেন - এবং সেটা খানিক রসোত্তীর্ণও হয়েছে। যিনি ভালো আঁকিয়ে তাঁর আঁকা ছবির বিনিময়ে তারিফ - আত্মশ্লাঘা - আরো কত লেনদেনের হিসেব থাকে, থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু যে মানুষটা কাঁচা হাতের যে ছবিটা পোষ্ট করছেন ফেসবুকে তিনি জানেন লাইক এর সংখ্যা পেরোবেনা ডবল ডিজিট - তাঁর কিন্তু ওই লেনদেনের হিসেব নেই। তার শুধু ওই প্রকাশের তাগিদ টুকুই সম্বল। যে ফেবুকবির লেখায় ছন্দের অসামর্থ্য আছে - খামতি আছে প্রচুর - তবুও যে লিখে যাচ্ছে নিরলস ভাবে তার ক্ষেত্রেও ওই তাগিদ আর অনুশীলনটুকুই সম্বল - হয়তো কেউ মনে রাখবেনা তাদের - কিন্তু ঠিক ওই গুহাচিত্রের জনক জননীর মতই তাঁদের কাজগুলো সেই সময়ের দলিল হয়ে সেঁধিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়। অর্ডারি উপন্যাস বা লাইক চুম্বক টু লাইনার নয় - সে মানুষটার নামহীনতাই - বা বলাযায় এই সময়ের নিরিখে অস্বাভাবিক সাধারণতাই তাঁর কাছে সবচেয়ে আরামের আর সেটাই তাঁর ইউএসপি ও বটে।
>
আমায় আলাদা করে কেউ চিনবে না এই চরম লোভনীয় স্যাংচুয়ারীর নির্জনতায় শুধু কাফকা বা জীবনানন্দ নন আরো অনেকেই আছেন। আসলে শিল্পও অনেকটা রাজনীতির মতই। কারোর কাছে ক্যারিয়ার আবার অন্য কারোর কাছে তা অনিবার্য যাপন - এখন ওই আপন বাপন চৌকি চাপন-এর খেলায় কে কোন পক্ষ নেবেন সেটা বড় কথা নয় - বড় কথা হল ওই দুটো প্রক্রিয়ারই সমানাধিকার স্বীকৃতি। কোনো একটাই বেছে নিতে হবে কারণ ওটাই নিয়ম - এই হরতনি আস্ফালন কিন্তু নন্দিনী কে বিশুপাগলের সাথে দেখা করতে দেবেনা - দেয়না কোনো দিনও। বুঝতে হবে অখিদে আর নির্লোভ হওয়া কখনোই এক জিনিস নয়। এবং চাইলেও - হাজার চেষ্টা করলেও এ ব্রহ্মান্ডে কিছু হারিয়ে যায়না - কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে লেগে থাকে ঝরা পাতার দলে - বঞ্চিত অভাগার ব্যারাকে। হরিপদ কেরানী বা সবাই হওয়ার ইচ্ছের মধ্যে পূর্বশর্ত হিসাবে কোনো চোরা অসাধারণত্ব বা ব্যাঙ রাজপুত্রর গল্প লুকিয়ে থাকেনা সব সময়।
কোনো একলা বিকেলের হেলানো আলোয় কোনো এক অস্তিত্ব কেউ নয় হওয়ার স্বপ্নে বিড় বিড় করে বলে ওঠে।
" I really want to be a nobody - thats the only dream I cherish… how werried you might think - an unusual gibberish.
Cause I want to fly to the land of no where and don't want to be seen…
cause I have always wanted to be a lotuseater and am really akeen.
The flowers you never know the name - still flood the mountain meadow.
And there are very few desparet dreams - that won't leave any shadow… "
প্রতিযোগিতা ছাড়া - উচ্চাকাঙ্খা ছাড়া - খেয়ে পরে আনন্দে - ভিড়ের একজন হয়ে - বইমেলায় এগরোল সাঁটিয়ে নেহাতই কৌতুহলবশত - কিনতে হয় তাই একখান কাফকা বগলদাবা করে ফিরে এসেও বেঁচে থাকা যায়! দিব্যি ভালো ভাবেই….
(সংগৃহীত : সোশ্যাল মিডিয়া)




0 Comments