আত্মকথনে অনাবিষ্কৃত চপল ভাদুড়ী, পর্ব - ২




কথোপকথনে দীপক নায়েক
(নাট্যমেব পত্রিকার প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত)
প্রথম পর্বের পর...

প্রশ্ন : আর ছোটদি কেতকী দত্ত? 

উত্তর : আমি আজ যা কিছু হতে পেরেছি, তা আমার মা আর ছোটদির জন্য। কামাল আতাতুর্ক করার পরই ছোটদি মিনার্ভা ছেড়ে স্টারে চলে যায়। স্টারের তখন মালিক সলিল মিত্র হলেও মহেন্দ্র গুপ্ত সর্বেসর্বা। স্টারে তখন সপ্তাহে সাতদিনই শো হতো। শনি, রবি ও ছুটির দিন এবং বৃহস্পতিবার শোগুলির জন্য তাদের নায়িকা ছিলেন পূর্ণিমা দেবী আর অন্যদিনগুলিতে ছোটদি। জীবনটাই বেছে নিই। আসলে যা হওয়ার নয় টা হওয়ার নয় বুঝলে; ১৯৫৭ সালে কল্যাণীতে কংগ্রেস অধিবেশন হয়। আমরা যাই, মন্মথ রায়ের মহাভারতী নাটক নিয়ে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ লোকরঞ্জন শাখাতেও আমার কাজের কথা হয়। সেটাও শেষ পর্যন্ত হয় না। এসবের জন্য যে বিশেষ আফশোষ আছে তা নয়, তবে এরপর থেকে 'আমরাতো আছি' কথাটিকে বিশেষ ভয় পাই। ছাড় ওসব কথা। কী বলছিলাম যেন ! 

প্রশ্ন : যাত্রায়...

উত্তর : হ্যাঁ হ্যাঁ। জানোতো শেয়াল একবার বেড়া টপকালে আর তার ভয় থাকে না। তখনকার সময় বিভিন্ন অফিসে পাড়ার ক্লাবে বছরে একটা করে নাটক করার চল ছিল। আমি ওই অ্যামেচার নাটকগুলিতে মেয়েদের রোলে অভিনয় করা শুরু করি। কারণ তখনও থিয়েটারে এই ধরনের কাজে মেয়েদের কাজ করার রেওয়াজ ততটা ছিল না। এছাড়াও বিভিন্ন দিকে ছিল ড্রামাটিক ক্লাব। এই ক্লাবগুলি বাংলার বাইরে—যেমন মধুপুর, গিরিডি, জসিডি, ধানবাদ, জামশেদপুর প্রভৃতি জায়গায় ছিল। সেই ক্লাবগুলোতে অ্যামেচার নাটক করে টাকা ভালোবাসা সব পেয়েছি।

প্রশ্ন : বাংলার বাইরের ওই ড্রামাটিক ক্লাবগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হতো কিভাবে ? 

উত্তর : পোশাক কোম্পানির মাধ্যমে। তা ওই রকমই একবার জামশেদপুরে অভিনয় করতে গেছি। ওখানেই আমার সঙ্গে আলাপ হয় কানাই দাসের, সে যাত্রায় নারীচরিত্রে অভিনয় করতো। ওর যাত্রায় নাম ছিল বনফুল। ওরাও গেছে যাত্রা নিয়ে, আমার অভিনয় দেখে আলাপ করে এবং ওদের শো দেখার নিমন্ত্রণ করে। 

প্রশ্ন : ক্লাবটার নাম মনে আছে ? 

উত্তর : হ্যাঁ, মহাশক্তি ড্রামাটিক ক্লাব। ওদেরকে ম্যানেজ করে ওদের যাত্রা দেখতেও যাই। ওদের দলে তখন মহেন্দ্র গুপ্ত অভিনয় করতেন। ওই প্রথম আমি যাত্রার সাজঘর দেখলাম। মাটির ওপর বিছানা পাতা সারি সারি টিনের বাক্সের ওপর নাপতে বাটিতে জল নিয়ে অভিনেতারা ছোট আয়না দেখে দেখে নিজেদের মেক–আপ করছেন। ওখানেই আলাপ হল ছোটখোকাদার সঙ্গে, যার যাত্রায় নাম ছিল কানন। উনিও বললেন আমি চাইলে যাত্রায় মেয়েদের রোলে সুযোগ করে দিতে পারেন। এমনকি মহেন্দ্র গুপ্তের বিপরীতেও কাজ করতে পারি। কোলকাতায় এসে যোগাযোগ করতে বললেন। যাই হোক, আমিতো যাত্রা দেখতে বসলাম — নারী চরিত্রে পুরুষরা কেমন ঢং করে করে, সুর করে কথা বলছিল। আমার তো ভালই লাগছিল না। কিছুটা দেখে চলে এলাম। কোলকাতায় এসে কানাইদা আমার সাথে যোগযোগ করলেন বেশ কিছু দিন পর। তাঁর সাথে চলে গেলাম নট্ট কোম্পানিতে। তখন নট্ট কোম্পানিতে ছবিরানীর খুব নাম। ওনার আসল নাম ছিল শ্যামাপদ দাস। সে বছরই উনি নট্ট কোম্পানি ছেড়েছেন। অসম্ভব খ্যাতি ছিল তার। তার জায়গায় অভিনয়ের জন্য আমাকে নিয়ে গেল। সূর্যবাবু তখন নট্ট কোম্পানীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আমাকে একটা বই দিয়ে কিছুটা পড়তে বললেন। আমি পড়লাম। সূর্যবাবুকে বুঝতে পারছিলাম ওনার পছন্দ হচ্ছে না। সে সময়ই মাখনবাবু অর্থ্যাৎ মাখনলাল নট্ট এলেন তিনিও শুনলেন। 



প্রশ্ন : নট্ট কোম্পানী নিয়ে যদি কিছু বলেন—

উত্তর : শোভাবাজার থেকে সোজা গেলে হরচন্দ্র মল্লিক স্ট্রীটে একটা পুরানো বাড়ীতে তখন নট্টকোম্পানী চলে। কর্ণধার মাখনলাল নট্টের পাঁচপুরুষের দল। বরিশালের মাছরঙ বৈকুন্ঠ সঙ্গীত সমাজ গয়নার নৌকায় যাত্রা কীর্তন গান করে বেড়াতো, তারাই নট্ট কোম্পানী নামের যাত্রাদলটি তৈরী করে। এই মাখনলাল নট্টের মতো শিক্ষিত মানুষ যাত্রায় খুব কমই ছিলেন। আমি বনফুলের সঙ্গে প্রথম যেদিন ওখানে গিয়েছিলাম, আমার যেন খুব অদ্ভুত লেগেছিল। মেঝেতে সারি সারি বিছানা পাতা, সামনে একটা করে ট্রাঙ্ক; যাই হোক, কী হল জানি না — মাখনবাবু আমাকে পছন্দ করে ফেললেন। ১০০ টাকা মাইনে। রাধাগোবিন্দর পায়ের কাছ থেকে একটা টাকা তুলে নিতে বললেন, সেটাই অ্যাডভান্স। শুরু হয়ে গেল এক নতুন পথে যাত্রা। 

প্রশ্ন : আপনার অসুবিধা হল না? নতুন একটা মাধ্যম? 

উত্তর : হ্যাঁ! প্রথম তো অসুবিধা হতোই – আমার ডান পা–টা সবসময় আগে যেতো, এবার মেয়েদের তো বাম পা আগে যায়; সেটা শোধরাতে হয়, তারপর যাত্রার অভিনয় অনেক জোরে জোরে করতে হয়। মঞ্চের তিন দিকে তো দর্শক বসে; ফলে ডায়লগ বলার ক্ষেত্রে যে আলাদা কায়দা রপ্ত করতে হয়, তা তো জানতাম না। সব অভিনেতাদের অনেক বকা শুনেছি। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তেমন শেখাতেও চাইতেন না। তবে নির্মলদা, কৃষ্ণনগরে বাড়ী ছিল—উনি আমাকে খুব সাহায্য করেছিলেন। আর আমার নায়ক হিসাবে অরুণদা, শেখরও আমাকে খুব সাহায্য করেছে। তবে যাত্রার গুরু হিসেবে আমি সূর্যবাবু, মাখনবাবু ও ব্রজেন দে–কে ( পালাকার ) বিশেষভাবে মনে রাখবো। 

প্রশ্ন : যাত্রার অভিনয়তো অনেক চড়া, একটু সুরেলাও বটে—আপনি ব্যাপারটার সাথে মেলালেন কী করে ? 

উত্তর : দেখো, অভিনয়তো অভিনয়ই। সেক্ষেত্রে আমার স্বাভাবিক যে অভিনয় রীতি অর্থাৎ সাধারণ এবং স্বাভাবিকভাবে সংলাপ বলা, সেটা করলে তো দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারতাম না। আমি করলাম কি, যাত্রা ও থিয়েটারের আমার এতোদিনে শেখা বিদ্যাকে মিলিয়ে একটু নতুনভাবে অভিনয় করতে শুরু করলাম। একটু নতুন কিছু হলো আর আমিও যাত্রায় দাঁড়িয়ে গেলাম। 



প্রশ্ন : শুনেছি আপনি একসময় যাত্রার হায়েস্ট পেইড আর্টিস্ট ছিলেন?

উত্তর : হ্যাঁ আমি যার জায়গায় অভিনয় করতে এলাম সেই ছবিরাণী তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। সেখানে এসে আস্তে আস্তে চপল রাণী হয়ে ওঠাটা একেবারে কমকথা ছিল না। আমার সবচেয়ে নাম হয় চাঁদাবিবি করে। ৬২–৬৩ সালে আমার বেতন হয়ে যায় মাসে পাঁচ হাজার টাকা। শুনেছি, ওটা নাকি সে সময়ের সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয় আমার জন্য আলাদা সাজঘর দেওয়া হতো।

প্রশ্ন : নট্ট কোম্পানীতে কতদিন করলেন ? 

উত্তর : ৫৭ থেকে ৬৬ অবধি আট ন'বছর। শেষ করি সুলতানা রিজিয়া করে। দু'মাস করে নট্ট ছেড়েছিলাম। 

প্রশ্ন : নট্ট ছাড়লেন কেন? 

উত্তর : সে অনেক কথা, একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য নট্ট কোম্পানী ছাড়তে হয়। আমার উপর চুরির মিথ্যা দোষারোপ হয়। নানান বিষয়ে মতান্তর থেকে আস্তে আস্তে মনান্তর হয়। ওরা পরে আমায় ডেকেছিলো কিন্তু আর যাইনি। 

প্রশ্ন : নট্ট কোম্পানী ছেড়ে কোথায় গেলেন ? 

উত্তর : নট্ট কোম্পানী ছেড়ে চলে গেলাম নবরঞ্জন অপেরায়, স্বপনকুমারের সঙ্গে। স্বপনদার কথা তোমরা নিশ্চয়ই জানো। তাঁকে বলা হত নটসম্রাট। 

প্রশ্ন : যাত্রা করলেন কত বছর ? 

উত্তর : ১৯৭৪ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় সতেরো বছর।

প্রশ্ন : তার মানে তখন উৎপল দত্তও তো যাত্রায় নেমেছেন; তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন ?

উত্তর : হ্যাঁ, উৎপলবাবুর সাথে একটি পালায় কাজ করেছি। তিনি নির্দেশক ছিলেন। জালিয়ানওয়ালা বাগে। মহেন্দ্র কাউরের চরিত্রে যিনি ছিলেন, সুবেদার অর্জুন সিংয়ের স্ত্রী। 

প্রশ্ন : উৎপল দত্তকে যাত্রায় কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন ? 

উত্তর : আজকে তোমরা যে যাত্রা দেখছো, এই রূপ কিন্তু উৎপলদাই দিয়েছিলেন। তিনি আসার আগে যাত্রায় প্রবেশ ও প্রস্থানের একটিই পথ ছিল; তিনিই প্রথম যাত্রায় দুটি পথের সূচনা করেন। যাত্রার অভিনয় ধারায়ও বিরাট পরিবর্তন ঘটান তিনি। 

প্রশ্ন : এরপর আপনি আর যাত্রা করেননি ? 

উত্তর : হ্যাঁ করেছি। তবে বিশেষভাবে বলবো রক্তে রাঙা কাশ্মীরের কথা। ওই পালাটিতে আমি একজন কাশ্মীরি মেয়ে সেজেছিলাম। যার নাম ছিল শামিম। ডবল ড্রেস পরতে হতো। একটা সিন ছিল শামীম ঝিলম নদীর তীরে বসে, আফ্রিদি সৈন্যরা ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে অনেকজন মিলে রেপ করে। ওর স্তন কামড়ে ছিঁড়ে দেয়। যাত্রায় দেখানো হত ওই স্তনটি দেহ থেকে ঝুলছে। তার জন্যই ডবল ড্রেস পরতে হতো। একটা অবিস্মরণীয় মর্মান্তিক দৃশ্য তৈরী হতো।



প্রশ্ন : ৭৪ সালে আপনি কাজ ছেড়ে দিলেন কেন?

উত্তর : অনেকগুলো কারণ ছিল। তারমধ্যে একটা প্রধান কারণ হল যাত্রায় অভিনয়ের জন্য মেয়েরা এসে যাওয়া। তবে তার পরেও আমি যাত্রার সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে থাকতে চেয়েছিলাম। কারণ, যে পুরুষরা সে সময় নারী চরিত্র করতেন — তাঁরা অনেকে পরে ম্যানেজার হয়ে যেতেন। আমার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে পুরোপুরি যাত্রা ত্যাগ করতে হয়েছিল। 

প্রশ্ন : ১৭ বছর আপনি যাত্রাকে দিলেন, তারপর যাত্রা আপনাকে কী দিল ?

উত্তর : কী দিল বলতে চপলরানী হয়ে গ্রাম বাংলার নয়নের মণি হয়েছিলাম; স্বপন কুমার মতো শিল্পীর সাথে কাজ করেছি, কত গ্রাম দেখেছি। জানো — কোথাও গেছি নদী পথে নৌকা থেকে মানুষের মাথায় ঝাঁকাতে চেপে নেমেছি। পায়ে কাদা লাগাতে হয়নি। 

প্রশ্ন : যাত্রা শিল্পী হিসেবে পেনশেন বা অন্যকিছু?

উত্তর : না। যাত্রা শিল্পীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে এই যাত্রাশিল্পী হিসেবেই তো বর্তমান মমতা ব্যানার্জীর সরকার আমাকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার দিলেন। এক সঙ্গে পাঁচ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। এখনকার এই যে আমার ব্যবস্থা দেখছো, তা অনেকখানি ওই টাকা থেকে। আমি মমতাদিদির কাছে কৃতজ্ঞ। 

প্রশ্ন : উত্তমকুমারের সঙ্গে কোনোদিন দেখা হয়েছে ? 

উত্তর : হ্যাঁ, একবার রবীন্দ্র সদনে উনি আমাদের পালা দেখতে এসেছিলেন মাইকেল মধুসূদন, আমি মাইকেলের মায়ের রোল করতাম। শো–য়ের শেষে এসে আমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন, বলেছিলেন আমি নাকি সত্যি মা। 

প্রশ্ন : হ্যাঁ! আমাদেরও এই প্রশ্নটা বেশ ভাবায়। সবদিক থেকে তো আপনি একজন পুরুষ, অবিবাহিত। বাস্তব জীবনে পিতৃত্বের অভিজ্ঞতাও আপনার ছিল না। সেই আপনি মা হয়ে উঠতেন কীভাবে ? 

উত্তর : তা আমি অত বলতে পারবো না। তবে আমি বিশ্বাস করি, তুমি আমি আমাদের সকলের ভিতরেই একজন নারী বাস করে। অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ হল সেই নারীকে মা–য়ে রূপান্তরিত করা। 



প্রশ্ন : এরপর প্রায় কুড়ি বছর আপনার সম্পর্কে আমরা বিশেষ তথ্য পাই না। এই সময়টার কথা যদি বলেন ? 

উত্তর : থাক না, ওই সময়টা না হয় অন্ধকারেই থাক।

প্রশ্ন : ঠিক আছে আপনি না চাইলে...

উত্তর : যাত্রা ছেড়ে দিয়ে আমার হাতে বিশেষ কাজ ছিল না। এক বন্ধুর বাড়ীতেই থাকতাম। একসময় তার বাড়ী ছেড়ে দিতে হয়; জীবনের পথে ঘুরতে ঘুরতে আমি তারাপীঠে চলে যাই... ওখানেই কাটে আমার জীবনের অনেকগুলো বছর। শেষে আবার আমাকে তারাপীঠ ছেড়ে চলে আসতে হয়। ছোটদির কাছে চলে আসি। ছোটদি আশ্রয় দেয়; বয়স হয়েছে তেমন কোনো কাজকর্ম নেই, পাড়ায় পাড়ায় শীতলা যাত্রা করে বেড়াই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি — মানুষের কোনো অভিজ্ঞতাই ফেলে দেওয়ার নয়; যাত্রার জ্ঞান কাজকে এই কাজে লাগাই। টানা তিন ঘণ্টা শীতলা যাত্রা করে পেয়েছি চল্লিশ টাকা। তাও কয়েক মাস এই কাজ হতো। বসন্তকাল আসলে। এই সময়টা আমার জীবনের বড় শিক্ষা দিয়ে গেছে, মানুষের জীবনে Bad time Good time আসেই। নিজের গুনে চেষ্টা দিয়ে তাকে সামলাতে হয়। আর লড়াই যদি সৎ হয়, তবে তুমি জীবনের পথে ঠিক ফিরতে পারবে। 



প্রশ্ন : এই শক্তি কী আপনি থিয়েটারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন ? 

উত্তর : শুধু থিয়েটারের কাছ থেকে পেয়েছিলাম তা বলবো না। নাটক ও যাত্রা করতে করতে আমার সাথে বহু আধ্যাত্মিক মানুষ জনের পরিচয় হয়। পুরীর শঙ্করাচার্য, শ্রী অনুকূল চন্দ্র, হীরেন্দ্রচন্দ্র লাহিড়ী চৌধুরী প্রমুখ। তাঁদের আশীর্বাদ আর যাত্রা ও নাটকের নানান চরিত্র থেকে শিখেছি, কীভাবে বেঁচে থাকা যায়। 

প্রশ্ন : তারপর কি নবীন কিশোরের সঙ্গে দেখা হয়? 

উত্তর : তারপর নয়, ওই সময়। হয়েছিল কি তখন আমার অবস্থা খুব খারাপ; বয়স হয়েছে, স্ত্রী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মেয়েরা চলে এসেছে, অফিস থিয়েটারেও মেয়েরা রোল করছে। তবে এসব শুনে তোমরা যেন মনে কোরো না থিয়েটারে যাত্রায় মেয়েরা চলে আসায় আমি ভেতরে ভেতরে খুব ক্ষুব্ধ হয়েছি। বরং বলতে পারি — তাইতো হওয়া উচিত ছিল। এই সময় হল কি, আমার দুরবস্থা দেখে ছোটদি শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলে আমার জন্য কিছু যদি করা যায়; সম্ভবত শমীকদাই নবীন কিশোরকে আমার কথা বলেন। নবীনজী তখন সিগাল আর্টসের কর্ণধার। তারপর একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। একটু একটু করে বদলাতে থাকে আমার মন্দ দিনগুলো। সেটা ওই ১৯৯৪ সালে।  (চলবে...)



টেকনিক্যাল সহযোগিতা : রঞ্জিতা রায়                                                সমস্ত ছবি  :  সন্দীপ কুমার







Post a Comment

0 Comments