বহরমপুরের জায়মান, এবার শিশির মঞ্চে



পরবর্তী শো 25 আগষ্ট রবিবার সন্ধ্যা ছটায় শিশির মঞ্চে


শীতল বাগচী,নাট্য দর্শক বহরমপুর


সৈদাবাদ নবীন নাট্য সংস্থা বহরমপুর প্রযোজিত জায় মান নাটক টি নিঃসন্দেহে একটি বলিষ্ঠ প্রযোজনা।মূল উপন্যাস অমিতাভ সমাজপতি এবং নাট্যরূপ দিয়েছেন দেবাশীষ বিশ্বাস।


এবার আসি নাটকের বিষয়ে মঞ্চের ক্যানভাস এ আলো আসার পর প্রথম এই চোখ যাই মঞ্চ সজ্জার দিকে,যা অনেক টাই ভারতীয় ভিসুয়াল আর্টস এর ব্যাবহার চোখে পড়ে। এই নাটকটির পরিচালনা করেছেন অভীরুপ দাস( প্রাক্তন ছাত্র রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নাটক বিভাগ কলকাতা)।
নাটকটির মূল বিষয় খুব প্রাসঙ্গিক এবং যুক্তিপূর্ণ।এই নাটকে দুটি বিষয় মাথায় রেখে এগিয়ে যাওয়া হয়েছে,পরে আসছি সেই কথায়।


বর্তমানে নারীসমাজ ধর্ষিতা হচ্ছে অহরহ,এটা যেনো একটা সামাজিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।তাইতো বন্ধু রূপি পিশাচ দের হাতে ধর্ষিত হতে হয় অদৃজা কে,এরফলে কি হয় মেয়েটি মানসিক ভাবে একদম বিপর্যস্ত হয়ে পরে,এবং আত্মহত্যা র পথ বেছে নিতে চাই। কিন্তু সেই পথে এক মানুষ এর আবির্ভাব ঘটে,সেও কিন্তু পুরুষ মানুষের এর ,পুরুষ জাতির  প্রতিনিধি,সে মেয়েটিকে বোঝাই যে সব পুরুষ একরকম হোয়না,লড়াই করে বেঁচে থাকতে হই এই পৃথিবীতে।তিনি বোঝান যে নারী র মধ্যে লুকিয়ে আছে যে ক্ষমতা যে মাতৃত্বের অহংকার তা কে লালন করতে হয় শরীর দিয়ে পালন করতে হয় মন দিয়ে। এইভাবে দুর্ঘটনায় ঘটে যাওয়া সন্তান নিষ্পাপ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এই পৃথিবীতে।



এই রকম সুন্দর পটভূমিকা তে টান টান উত্তেজনা র মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে এই নাটক।
এইখানে পরিচালক আরও একটি বিষয় কে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং মিলিয়ে দিয়েছেন শেষে একত্র করেছেন নারী সমাজ কেও, বিচ্ছেদ,আখাঙ্খা,মিলন এই তিনটি স্তরে উন্নীত করেছেন ভালোবাসার ব্যাখা,সত্যি কল্পনা শৈলী এবং তার ক্যানভাস যে কত সুন্দর তা এই নাটক আবারও মনে করাই।
একজন নাটকের সাধারণ দর্শক হিসেবে এই নাটক দেখতে দেখতে আমার মনে হতে থাকে কোন সমাজ এ বাস করছি আমরা! নিজেরা নিজেদের নিয়েই মগ্ন! ভাবার চোখ নেই,দেখার আগ্রহ নেই! আশ্চর্য পৃথিবী। 


এই নাটকের মঞ্চ এবং আলো সত্যি ই প্রশংসার দাবি রাখে।প এর ভাবনার সাথে যদি অভিনেতা রা আর একটু উচ্চারণ এর দিকে ধ্যান দেন তাহলে একটু ভালো হয়,তবে প্রত্যেক এর ই অভিনয় যথাযথ,বিশেষ ভাবে এই নাটকের মেয়েরা মন ছুয়ে যায়। 


পরিচালক অভিরপ যেভাবে এই সামাজিক গল্প কে যে ক্যানভাস এ ভেবেছে এবং ভারতীয় শিল্পের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে সর্বত্র,টা তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে, অভীরূপ এর আরও কাজ দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
নবীন এগিয়ে চলুক, অভিরুপ এগিয়ে চলুক।




                          

Post a Comment

0 Comments