অ্যামেচারী মেজাজ নিয়ে বিপ্লব করাও সম্ভব নয়

অ্যামেচারিজম ছাড়তে হবে, অ্যামেচারী মেজাজ নিয়ে বিপ্লব করাও সম্ভব নয় ----অজিতেশ

অজিতেশবাবু কিন্তূ কেয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি || লিখেছেন রথীন চক্রবর্তী (সত্যযুগ )১৯৮৩


আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই ছিল শেষ সাক্ষাৎকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে |


মনে হতে পারে, গভীর হতাশা থেকে যেন এইসব মন্তব্যের সৃষ্টি.............এর আগে পরে অজিতেশবাবুর সঙ্গে আরও অনেক কথা হয়েছে...............কিন্তূ কখনই মনে হয়নি হতাশায় ক্লিষ্ট কোনো শিল্পী এসব কথা বলছেন...............বরং মনে হয়েছে, প্রচন্ড রাগ এবং ক্ষোভ থেকে যন উঠে আসছে এসব কথা................ মনে হয়েছে যে মুখোশ পরে ইদানীংকালে হেঁটে চলেছে আমাদের শিল্প সংস্কৃতির ভাবনা, সেগুলোকেই যেন আশ্চর্য সাহসের পায়ে ভর করে নির্দ্বিধায় তিনি ছিঁড়ে ফেলছেন এক এক করে |
অজিতেশবাবু বললেন, ওরা একবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তলস্তই-এর 'পাপ পুণ্য' নাটকটি নিয়ে মস্কো যাবার জন্য..........মস্কোটাও একবার দেখা হয়ে যাবে, এই আর কি..............আমি প্রস্তাব গ্রহণ করিনি, মস্কো দেখে কি করবো ?.................নিজের দেশই তো এখনও ভালো করে দেখা হলো না, চেনা গেল না.................তুমিই বলো, তোমার দেশকে , তোমার দেশের মানুষকে তুমি কতটুকু চিনেছ, কতটুকু জেনেছ তাদের ?

এমনিভাবেই একদিন হঠাৎ এক বেমক্কা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়.............যে প্রশ্নের সামনে পড়ে কেঁপে ওঠে আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের সমস্ত অহংকার................এমনিভাবেই একদিন বলেছিলেন, আসলে ছিঁচকাদুনি গাওয়াটা আমাদের স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে...............কথায় কথায় খালি বিদেশ দেখাচ্ছি আর বুক চাপড়িয়ে বলছি, আহা, শিল্পীদের ওখানে কত সুযোগ ! আমরা কিছুই করতে পারছি না, কোনো সুযোগ পাচ্ছিনা................ কিন্তূ প্রশ্ন হলো, যেটুকু সুযোগ পাচ্ছি তাতেই বা আমরা কি করছি ? শুধুমাত্র ধান্দাবাজী ছাড়া ? কি করে কাজ না করে, ভালো কাজ না করে গুছিয়ে নেওয়া যায় তারই কৌশল তৈরী করছি দিনরাত্তির |...............আসলে কাজ করার ক্ষমতাই আমাদের নেই, বুঝলে | আমরা সব শেষ হয়ে গেছি |

আমার এই যে ঘর দেখছ (ভাড়া ঘর) , ঘরের জিনিসপত্র দেখছ সবই আমাকে দিয়েছে থিয়েটার, যাত্রা, ফিল্ম ...............যেদিন আমি জানবো থিয়েটার না করলে আমার দিনের রুটিটুকুর সংস্থান হবে না, সেদিনই আমি থিয়েটারকে ভালোবাসব | আমি পুরোপুরিভাবে থিয়েটার করব | গোটা ব্যাপারটাই পেটের সঙ্গে বাঁধা |………..দরজা ডিঙিয়ে বারান্দার ওপর খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে তারপর বলেছিলেন, আসলে  প্র ফে শ ন্যা ল  হতে হবে | অ্যামেচারিজম দিয়ে শিল্প হয়না, প্রকৃত শিল্প তো নয়ই |............এমন কি জানো রথীন, অ্যামেচারী মেজাজ নিয়ে বিপ্লব করাও সম্ভব নয় |

অজিতেশবাবুর সঙ্গে আমার দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা হয়েছে এইভাবে, এই নিয়েই.................বার বার উঠে এসেছে একথা | এমন কি শেষ আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারেও | আর তখনই ভেসে এসেছে স্মৃতি .................কেয়া চক্রবর্তীও একদিন ঠিক এই কথা বলেই অধ্যাপনার চাকরী ছেড়ে দিয়েছিলেন..................পুরোপুরি নাটক করবেন বলে, নাটককে সাধারণ মানুষের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে দেবেন বলে...............কেয়া স্বীকার করেছেন, এই উত্তাপ তিনি পেয়েছিলেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই | অজিতেশবাবু কিন্তূ কেয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি | ক্রমশ......

courtesy Ajitesh Bijeta O Bijito

Post a Comment

1 Comments

দুরন্ত অনুপ্রেরণামূলক লেখা ।