চল্লিশের দলে আঠারোর নির্দেশক





       অভিরূপ দাস বর্তমান সময়ে বহরমপুর তথা সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে কনিষ্ঠ পরিচালক। অভিরূপ সবচেয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে অমিতাভ সমাজপতির 'জায়মান' উপন্যাসের নাটক 'জায়মান' পরিচালনা দেওয়া, যে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছিলেন বিশিষ্ট নাট্য পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস যিনি নিজেও হাওড়ার ব্রাত্যজন এ নাটকটি নিজে পরিচালনা করেছিলেন। অভিরূপ বহরমপুরে ৪০ বছরের পুরোনো দল নবীন নাট্য সংস্থার প্রযোজনায় নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন তখন তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। এতো ছোট বয়সে এত বড় নাটক নিজের মতো করে চরিত্রের অদলবদল ঘটিয়ে সফলতার সাথে কিভাবে করলো? তার জন্য আমাদের আরো কিছু জানার ছিলো আমরা নবীন নাট্যর কর্ণধার তথা সম্পাদক তুফানেন্দ্র কোঁচ মহাশয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি উনি আমাদের জানান অভিরূপ নাকি জন্মসূত্রে গ্রুপের সদস্য, কারণ অভিরূপ–এর বাবা অমিত দাস খুব ছোট থেকে নবীন নাট্যর সদস্য। অমিত দাসের সাথে খুব ছোট থেকে গ্রুপে আসতো যে বয়সে বাচ্চারা ছোটাছুটি করে এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে না। সে সময় আমাদের নাটকের নাটকের মহড়া শুরু হলে কোন এক মন্ত্রবলে ও চুপচাপ বসে মহড়া দেখতো। এই ভাবে দেখতে দেখতে অভিরূপ কবে বড়ো হয়ে গেল। তার স্কুলে খুব অল্পবয়স থেকে সম্ভবত সপ্তম শ্রেণীতে পড়তো তখন স্কুল থেকে অনীক (কলকাতা) এ একটি নাটক নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে ও শ্রেষ্ঠ দ্বিতীয় অভিনেতা হয়। প্রযোজনাটি কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছে তারপর থেকে যতবার ' অনীক '–এর আন্তজেলা ইস্কুল নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ গ্রহণ করেছে ততবার নিজেতো বটেও ইস্কুল ও পুরস্কার পেয়েছে। আমি নিজে দায়িত্ব বলছি পরিচালনায় ইস্কুলের মাস্টারদের নাম থাকলেও আসলে নাটক নির্বাচন থেকে সঙ্গীত, পরিচালনায় সবটায় সেই সপ্তম শ্রেণী থেকে অভিরূপ করেছে। ইস্কুল থেকে বেরিয়ে গিয়েও মাস্টারদের ডাক ফিরাতে পারেনি। ২০১৫ তে 'বুদ্ধিওয়ালা' বলে একটি নাটক সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে উঠিয়ে দিয়েছেন যেটি 'অনীক'–এ পুরস্কৃত হয়েছে ও যথেষ্ট প্রশংসাও পেয়েছে। 


     অভিরূপ নাটক এর প্রতি আগ্রহ এত দায়িত্ব কেন আমার তো মনে হয় ওর রক্তে প্রবাহিত হচ্ছে নাটক ওর ঠাকুরদাদা স্বর্গীয় অশোক দাস ছিলেন একজন যাত্রার অসাধারণ কমেডি অভিনেতা ও যাত্রার পরিচালক ঠাকুর দাদার ভাই উত্তম দাসের মুর্শিদাবাদের একজন পুরুষ অভিনেতা হয়ে মহিলার চরিত্রে অভিনয় এখনো দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছে। বাবা অমিত দাস তো অভিনয় এর সাথে সাথে পরিচালনা করছেন। এতো গেল বাবার দিকের, এবার আসা যাক মায়ের বাড়ির দিকে। অভিরূপের মা অনামিকা দাসও ছোট থেকে অভিনয়ে আছেন। আমাদের গ্রুপের নিয়মিত অভিনেত্রী। মায়ের বাবা অর্থাৎ দাদু শীতল বাগচী মহাশয়কে বহরমপুরের এমন মানুষ নেই যে ওনাকে চেনেন না। উনি যাত্রার অভিনয় যাত্রার মতো করেন, নাটকের অভিনয় নাটকের মতো করেন। বহরমপুর শহরের যে কজন পুরোনো বিশিষ্ট অভিনেতা আছে তাদের মধ্যে উনি একজন। শীতলবাবু একসময় চাকরীর ছুটি নিয়ে শেখর গাঙ্গুলী ( যিনি যাত্রা জগতে বেগুদা নামে পরিচিত ) তার সঙ্গে চলে গিয়ে একবছর কলকাতায় পেশাদার যাত্রায় অভিনয় করেছেন। সেই বাড়ির ছেলে নাটক করবে সেখানে আশ্চর্য কি? আশ্চর্য হয় তখন যখন ওর বাবা এসে আমাকে বলে অভিরূপকে রবীন্দ্রভারতীতে নাটক নিয়ে ভর্তি করাবে। আমি বলি নাটক করছে করুক কিন্তু নাটক নিয়ে পড়ে কি করবে? অনিশ্চয়তায় নাটকে আমি দীর্ঘদিন নাটক করি তবু বলেছিলাম, কিন্তু অমিত দাস বলেছিল ওর দীর্ঘ দিনের ইচ্ছা ছিল ও নাটক নিয়ে পড়বে কিন্তু পড়তে পারেনি। ওর স্বপ্নটা ছেলের উপর দিয়ে দেখতে চায়। আজ অভিরূপ নাটক এ অনার্স নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করার পর অভিনয় নিয়ে রবীন্দ্রভারতীতে এম. এ–তে ভর্তি হয়েছে। এই অল্প বয়সে আমাদের গ্রুপে চারটি নাটক পরিচালনা করেছে। কলকাতায় আমাদের বহরমপুরের কৌশিক কর–এর নাটক 'মা এক নির্ভীক সৈনিক'–এ কাজ করেছে। 

    কয়েক বছর ধরে কসবা অর্ঘ্যর মণীশ মিত্র মহাশয়ের সঙ্গে আছেন। ওনাকে দেখে কাজ শেখার চেষ্টা করছে। কিছুদিন তিলজলা আয়ামের দেবাশীষ দীঘাল বাবুর সঙ্গে ছিলেন। এত অল্প বয়সে যে দক্ষতার সঙ্গে 'জায়মান' নাটকটি পরিচালনা করেছেন তাতে বহরমপুরের নাট্যজগতের লোকজন অবাক হয়ে গেছে। আমি বলি অবাক হওয়ার কিছু নেই, আগামী দিনে অভিরূপ নাট্য পরিচালনা ও অভিনয় করে শুধু বহরমপুর নয় সারা ভারতবর্ষ কে সম্পৃক্ত করবে। 


টেকনিক্যাল সহযোগিতা : রঞ্জিতা রায়





Post a Comment

0 Comments