মরীচিকার নাটক ‘কিরাত’
নিজস্ব সংবাদ :
মহানগরের মঞ্চে আলো, ছবির অভিক্ষেপে ঠিক একশো বছর পিছিয়ে যাবে সময়। পৌঁছবে ব্রিটিশ রাজত্বে। কোনও এক আদিবাসী গ্রামে।
১৯৭৬ সালে ঠিক যে ভাবে তা রূপোলি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন মৃণাল সেন। ‘মৃগয়া’য়। ভগবতীচরণ পাণিগ্রাহীর কাহিনি, মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের সংলাপে মৃণালবাবুর সেই সৃষ্টিতে প্রথম বার পর্দায় দেখা মেলে মিঠুন চক্রবর্তী, মমতাশঙ্করের।হাওড়ার শিবপুরের ‘মরীচিকা’ নাট্যগোষ্ঠী সেই কাহিনিই বলতে চলেছে নাটকের মঞ্চে। ১৯২০-র আশপাশে আদিবাসী প্রত্যন্ত এক গ্রামের জীবনধারা, লোকবসতিতে বন্যজন্তুর তাণ্ডব, তুখোড় শিকারী ঘিনুয়ার সঙ্গে ডুংরির প্রেম-পরিণয়, ইংরেজ শাসকের সঙ্গে গ্রামের মানুষের বন্ধুত্ব, সুদখোর মহাজনের অত্যাচার আর তাঁকে খুনের দায়ে ঘিনুয়ায় প্রাণদণ্ড— নাটকের পরতে পরতে থাকবে সে সবেই।
‘কুহকিনির অন্তরালে’র মতো নাটকে আগেও কয়েক বার নাট্য-দুনিয়ায় আঁচ ছড়িয়েছে ‘মরীচিকা’। নতুন এই প্রযোজনায় বাংলা নাটকের আঙ্গিকে অন্যরকম স্বাদ আনতে চায় তারা। নাটকের সঙ্গে একটু হলেও মিশিয়ে দিতে চায় ‘সিনেম্যাটিক’ আদলকে।
বাংলার নাট্যমঞ্চে এর আগে ‘মৃগয়া’র আমেজ আগে দেখা যায়নি বলেই মরীচিকার বিশ্বাস। আক্ষেপ শুধু একটাই, নাটকের প্রথম প্রদর্শনের কথা ‘মৃগয়া’র স্রষ্টার কাছে পৌঁছে দিতে পারল না মরীচিকা। এই নাটক তা-ই তাঁকেই কলাকুশলীদের শ্রদ্ধার্ঘ্য। শ্রদ্ধার্ঘ্য মোহিত চট্টোপাধ্যায়কেও।
নাটকের চরিত্রাভিনেতারা এখনও এই জগতে পরিচিতি না পেলেও, তাঁরা যে সহজে হারিয়ে যাবেন না, সেই অঙ্গীকারই স্পষ্ট হবে মঞ্চে। প্রধান দুই চরিত্রে থাকবেন শৌণক আর মঞ্জিমা। শৌণক এই নাটকের নির্দেশকও। সঙ্গে আরও এক ঝাঁক নতুন মুখ। আবহে অনীশ মজুমদার, আলো শিলাদিত্য বরালের।
ইট-কংক্রিটের জঙ্গলে সবুজের ছোঁয়া, বাঁশির সুর আর মাদলের তান ছড়াতে জুনের শেষ সপ্তাহে মঞ্চে আসবে মরীচিকার ‘কিরাত’।





1 Comments