এপাড়া ওপাড়ার থিয়েটার

 নবীন কিশোর বেলঘড়িয়া হাতেখড়ি


বেলঘড়িয়া হাতেখড়ি বাংলা নাটকের আঙিনায় নিজের ইচ্ছাশক্তি কে ভর করে চলতে চেষ্টা করা এক নবীন কিশোর। উন্নতির সিঁড়ি বাড়িয়ে দেওয়ার বা অতিপ্রাকৃত অনুপ্রেরণা দেওয়ার কেউ কোনোদিন ছিল না, আর বাস্তবে দরকারও পড়েনি ।

মঞ্চ নাটক দিয়ে পথ চলা শুরু করলেও, ক্রমেই সামনে এলো মঞ্চ-নাটকের সীমাবদ্ধতা, ভালো দিন/সময়ে ভালো মঞ্চ পাওয়ার ইঁদুর দৌড় এসব যেন নাট্য চর্চাকে পিছনে ফেলে দিচ্ছিল....নাটকের ভাবনা বা মহড়ার থেকে বেশি গুরুত্ব যেন অমুক মঞ্চের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তাগিদ।
তাই,হাতেখড়ি খুঁজতে থাকে এক ব্যতিক্রমী জায়গা, যেখানে মানুষের কাছাকাছি নাট্য চর্চা ও অভ্যেস করা সম্ভব। চললো খোঁজ... পাওয়া গেলো কল্পনাতীত একটি স্পেস।

সুখচর এর পাইন ঠাকুর বাড়ি। ১৬০বছরের পুরনো রাধা-কৃষ্ণ মন্দির, সংলগ্ন রাস মঞ্চ ও সামনে এক বিস্তৃত চাতাল। সামনেই বয়ে চলেছে সেই অকৃত্রিম গঙ্গা। প্রকৃতির মাঝে একটা এমন জায়গা, যার সর্বত্রই শুভতা বিরাজ করে।
নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ শুরু হলো। গত ২০১৮এর এপ্রিল মাসে হাতেখড়ি আয়োজন করলো, ' হাতেখড়ি-র ৩কুড়ি; এপাড়া ওপাড়ার থিয়েটার'....মোট২০টি দল ৩দিন ধরে এই স্পেসে তাদের নাটক অভিনয় করলো। মুখ থুবড়ে পড়ার যে প্রবল আশঙ্কা নিয়ে শুরু হয়েছিল, সহযোগী নাট্যদলগুলির ভালোবাসা, নাট্য-ব্যক্তিত্বদের পিঠ চাপড়ানি সেই আশঙ্কাকে মনোবলে রূপান্তরিত করলো।
সেই সাহস বুকে নিয়ে আবার ২০১৯ এর গত ২৫,২৬,২৭ জানুয়ারি হাতেখড়ি আয়োজন করলো তার দ্বিতীয় বর্ষের নাট্যউৎসব। প্রথা মেনে চারা গাছে জল দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন শ্রী বিভাস চক্রবর্তী ও শ্রী আশিস গোস্বামী।

এবার ১২টি দল অভিনয় করলো তাদের নাটক, সাথে রইলো ছৌ নাচ, গান,আড্ডা, খাওয়াদাওয়া। বিশেষ সংযোজন হিসেবে ছিল "আরোগ্য", নাট্যকর্মীদের জন্যে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির।
৩দিনের এই আয়োজনের শেষে আমন্ত্রিত নাট্যদলের তৃপ্তি, বন্ধুদের হাসি এবং উৎসাহ হাতেখড়ি কে পরিপূর্ণ করে তুলল।যদিও এইবার খুব আচমকাই এলো কিছু শ্লেষ, এলো কিছু বদনামের পাঁক.... তবে আমরা বুঝলাম, ঠিক পথেই এগোচ্ছি। সেসব পথের কাঁটা কে ভ্রূক্ষেপ না করে হাতেখড়ি কোমর বাঁধছে.....


আগামী ১৫ এপ্রিল, পয়লা বৈশাখ; এই স্পেসের কথা মাথায় রেখেই আসছে নতুন নাটক " বিসর্জন"।
সেদিন সকাল থেকে থাকবে নববর্ষের বৈঠক, দুপুরে থাকবে নাটকের সেমিনার,বিকেলে "বিসর্জন"নাটকের অভিনয় ও রাতে মন্দিরের ভোগ খাওয়া।
আরো কিছু বিস্তৃত কর্মসূচি প্রকাশ পেতে চলেছে,সবটাই এই পাইন ঠাকুরবাড়ি কে কেন্দ্র করে। জানুয়ারি তে ফেস্টিভ্যাল এবং পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান ছাড়াও বছরে আরও ৪টি রবিবার হাতেখড়ি এই স্পেসে আয়োজন করবে একদিনের নাট্যঅভিনয় , যাতে মূলতঃ জেলার দলের বা রাজ্যের বাইরের নাটক অভিনীত হবে। এই সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ পাওয়া যাবে দলের website এ।
শীঘ্রই হাতেখড়ি প্রকাশ করতে চলেছে দলের নিজস্ব website।
বন্ধুরা পাশে থাকুন। শক্ত করে আমাদের হাত ধরুন, যাতে এই নব্য কিশোর একদিন নিজের মেরুদণ্ডের জোরেই এক মহীরুহ হয়ে উঠতে পারে।

রিপোর্ট  : সায়ন্তন চক্রবর্ত্তী

Post a Comment

0 Comments